রিসেট

নবীন-প্রবীণে জমে উঠেছে নির্বাচনী সমীকরণ

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর (রবিবার), ২০২৫ Archive 2022Source: এম.এ রাজ্জাক, সুনামগঞ্জ থেকে

সুনামগঞ্জ-৪ আসন। বিশ্বম্ভরপুর ও সদর দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত। ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪১ হাজার ৮৩৩। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৬৮ জন, নারী ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৬৩ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২ জন। এ আসনের রাজনৈতিক ইতিহাসে পালাবদল হয়েছে বহুবার। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন ইকবাল হোসাইন চৌধুরী। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের আবদুস জহুর মিয়া নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপি’র প্রবীণ নেতা ফজলুল হক আসপিয়া টানা দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টির বেগম মমতাজ ইকবাল। ২০০৯ সালের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মো. মতিউর রহমান সংসদ সদস্যপদে নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সালেও তিনি বিজয়ী হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ সাদিক নির্বাচিত হলেও ৫ই আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে তিনি রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে আড়ালে চলে যান। 

সরকার পটপরিবর্তনের পর থেকেই এ আসনটি দখলে নিতে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, জমিয়ত, খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। শহর, গ্রাম, হাটবাজারে, পোস্টার-ব্যানার, জনসংযোগ, মোটরসাইকেল মহড়া ও সভা-সমাবেশে প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি’র অভ্যন্তরে একাধিক নবীন ও প্রবীণ প্রার্থীরা মাঠ সরগরম করে রেখেছেন। এ আসনে মাঠে এগিয়ে থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, সাবেক হুইপ মরহুম ফজলুল হক আসপিয়ার ছেলে জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার আবিদুল হক, হাছন রাজার বংশধর জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য দেওয়ান জয়নুল জাকেরিন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবুল মনসুর মোহাম্মদ শওকত, জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির (স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত) সদস্য এডভোকেট আব্দুল হক, জেলা বিএনপি’র সাবেক সহসভাপতি আব্দুল লতিফ জেপি। এছাড়াও মাঠে রয়েছেন জামায়াত ইসলাম মনোনীত প্রার্থী জেলা শাখার নায়েবে আমির এডভোকেট শামস উদ্দিন, জাতীয় নাগরিক পাটি (এনসিপি) জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়ক দেওয়ান সাজাউর রাজা চৌধুরী সুমন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মুফতি আজিজুল হক, কেন্দ্রীয় জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের কার্যকরী কমিটির সদস্য মুখলিছুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জেলা শাখার সভাপতি মুফতি শহিদুল ইসলাম। 

বিএনপি’র কারা শেষ পর্যন্ত দলের মনোনয়ন পাবেন তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে তাদের মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে সমর্থন তৈরির তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। এ আসনের ভোটাররা সচেতন এবং দলীয় আনুগত্যের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক শক্তিকেও গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির পালাবদলের পর এবার বিএনপি জামায়াত প্রার্থীদের সক্রিয়তায় দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন সাধারণ মানুষ। সব মিলিয়ে এ আসনে উৎসাহ উদ্দীপনায় নির্বাচনী হাওয়া বইছে। বিএনপি’র ভেতরে মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব ও প্রতিযোগিতা থাকলেও মাঠে তাদের তৎপরতা দেখার মতো। ভোটাররা জানান, ৫ই আগস্টের আগে ও পরে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ভূমিকা ও প্রচারণায় এগিয়ে আছেন এডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল। অপরদিকে ব্যারিস্টার আবিদুল হক তার পিতা সাবেক দু’বারের সাংসদ ফজলুল হক আছফিয়ার পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। এ ছাড়াও ক্লিন ইমেজ হিসেবে পরিচিত প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দেওয়ান জয়নুল জাকেরির মাঠে শক্ত অবস্থান রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত ইসলামের একক প্রার্থী হিসেবে এডভোকেট শামস উদ্দিন নিজস্ব ঘরানার ভোট ব্যাংক নিয়ে সক্রিয় রয়েছেন। গুরুত্বপূর্ন আসনটি কার হাতে যাবে তা এখনই বলা না গেলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক জমে উঠেছে।