বুলগেরিয়ার রুস শহরে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের হার দ্রুত বাড়ছে। নতুন আসা কর্মীদের বেশিরভাগই নেপাল ও বাংলাদেশের। শহরটিতে গড় মাসিক বেতন প্রায় ১,৯৮০ লেভা। এই অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার টাকা। সেখানে বেকারত্বের হার ৩ শতাংশের কিছু বেশি হলেও, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে শ্রমিকের অভাবে ভুগছেন। রুস অঞ্চলের রিজিওনাল লেবার ইন্সপেক্টরেট জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ইউরোপ বহির্ভূত দেশগুলো থেকে কর্মী নিয়োগের জন্য ২৪৬টি আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা পড়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন নোভিনিটে।
রুসের শ্রম পরিদর্শন বিভাগের পরিচালক ইরেনা নিকোলায়েভা জানান, বিদেশি কর্মীদের বেশিরভাগ কাজ করছেন আসবাবপত্র, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বস্ত্র শিল্পে। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় দলটি এসেছে নেপাল ও বাংলাদেশ থেকে। এছাড়া উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ইউক্রেনীয় কর্মীও আছেন, যা সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধের ফল। টেক্সটাইল ও লেদার অ্যাসোসিয়েশনের ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্য মিগলেনা হ্রিস্টোভা বলেন, শ্রমিক সংকট এখন শুধু উৎপাদন খাতেই নয়, আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পশুপালনের জন্যও কর্মী খুঁজে পাচ্ছি না। বুলগেরিয়ানরা ক্রমেই অফিসকেন্দ্রিক চাকরি পছন্দ করছে এবং শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলছে। ফলে আমাদের ব্যবসা সচল রাখতে তৃতীয় দেশের কর্মী নিয়োগই একমাত্র উপায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্থানীয় ও বিদেশি শ্রমিক উভয়েই সমান মজুরি পান। লেবার ইন্সপেক্টরেটের নিয়ম অনুযায়ী, বেতনে কোনো বৈষম্য করা যায় না এবং সামাজিক ডাম্পিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিকোলায়েভা বলেন, আমাদের নিয়মিত পরিদর্শনে দেখা গেছে- একই কাজের জন্য বিদেশি কর্মীরা স্থানীয়দের সমান মজুরি পাচ্ছেন। আইন খুব স্পষ্ট- কোনো তৃতীয় দেশের কর্মীকে কম সুবিধায় নিয়োগ দেয়া যাবে না। এ পর্যন্ত বিদেশি শ্রমিকদের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
তবে নিকোলায়েভা মনে করেন, ভাষাগত বাধা ও বুলগেরীয় শ্রম আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা এর একটি কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, তারা এখনো নিজেদের অধিকার সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নয়, তবে আমরা অভিযোগ গ্রহণের পাশাপাশি অনুবাদ সহায়তাও দিতে প্রস্তুত। রুসে অবৈধ নিয়োগের ঘটনা খুবই বিরল। কারণ ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া জটিল ও কঠোর। গত বছরে মাত্র কয়েকটি অবৈধ নিয়োগের ঘটনা ধরা পড়ে। আর ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত এমন কোনো আইন লঙ্ঘনের তথ্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের কর্মীদের একটি অংশ রুস বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে অস্থায়ীভাবে রাখা হয়েছে। তারা তাদের কর্মসংস্থানের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন। নিকোলায়েভা বলেন, আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই তাদের নথিপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং নিয়োগের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া যাবে।
