এলডিপি’র প্রথম নারী নেতা নির্বাচিত হয়েছেন ৬৪ বছর বয়স্ক তাকাইচি সানায়ে। ইতিমধ্যে বিশ্ববাসী তা জেনে গেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর পথে প্রথমবারের মতো একজন নারী। এই নিয়ে জাপানে বসবাসরত বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের মধ্যে বিভিন্ন শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে আগত নাগরিকদের মধ্যে। প্রবাসী বাংলাদেশিরাও পিছিয়ে নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিভিন্ন উদ্বেগের কথা জানান দিচ্ছেন। সানায়ে তাকাইচি কট্টরপন্থি এবং বিদেশি-বিদ্বেষী হিসেবে সমধিক পরিচিত।
স্বাভাবিকভাবেই তাকাইচির উত্থানে প্রবাসীদের মাঝে বিভিন্ন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরাও পিছিয়ে নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিভিন্ন উদ্বেগের কথা জানান দিচ্ছেন।
জাপানে বিদেশি-বিরোধী মনোভাব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটি এখন রাজনৈতিক অঙ্গনেরও বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। তাকাইচি সেই ইস্যুকে নির্বাচনী প্রচারণায় কাজে লাগিয়েছেন।
জাপানে দীর্ঘদিন মজুরিকাঠামো স্থবির হয়ে থাকলেও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েই চলেছে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তাই হতাশা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশিদের প্রতি ক্ষোভকে অনেক রাজনৈতিক নেতা সহজ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। তাকাইচি তাদের মধ্যে অন্যতম।
জাপানের বার্ধক্যজনিত সংকট মোকাবিলায় বিদেশি শ্রমশক্তি অত্যাবশ্যক হয়ে উঠলেও সামাজিকমাধ্যমে ছড়ানো ভুল তথ্য বিদেশি-বিরোধী আন্দোলনকে উস্কে দিচ্ছে। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে জাপান তার নিজের প্রয়োজনেই বিদেশিদের আনতে বাধ্য হবে। নতুবা মাঝারি ধরনের কলকারখানা বন্ধ হয়ে অর্থনৈতিক স্থবিরতা দেখা দিবে। কারণ, মাঝারি কলকারখানাই জাপান অর্থনীতির মূল শক্তি।
ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান শরিক দল এলডিপি’র শীর্ষ পদ লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়ে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে ১৮৩ ভোট পেয়ে সাবেক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা মন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে প্রথম দফায় নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুনিচিরো কোইজুমির ছেলে কৃষিমন্ত্রী কোইজুমি শিনজিরো পেয়েছেন ১৬৪ ভোট।
এরপর দ্বিতীয় দফা এবং মুখোমুখি লড়াইয়ে তাকাইচি এবং কোইজুমি অবতীর্ণ হলে ১৮৫ ভোট পেয়ে তাকাইচি বিজয়ী হন, কোইজুমি সেখানে পেয়েছেন ১৫৬ ভোট। পরবর্তীতে সংসদে তাকাইচি সানায়েকে ভোটের মুখোমুখি হতে হবে। কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, নিম্ন এবং উচ্চকক্ষ সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
ক্ষমতাসীন জোটের বর্তমানে উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও বিরোধী দলগুলো অন্য কোনো বিকল্পের পেছনে সমবেত হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তাকাইচি-ই যে জয়লাভ করবেন তা এক প্রকার নিশ্চিত বলা যায়।
আর, তাকাইচি সেই ভোটে জয়লাভ করলে জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস তিনি সৃষ্টি করবেন। তিনি হবেন শিগেরু ইশিবার উত্তরসূরি। উচ্চ কক্ষের নির্বাচনে দলের পরাজয়ের দায় নিয়ে ৭ই সেপ্টেম্বর ইশিবা পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন
প্রাক্তন টেলিভিশন উপস্থাপক তাকাইচি ১৯৯৩ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিম্ন কক্ষের একটি আসনে জয়লাভ করার মধ্যদিয়ে জাপানের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। নিজের জেলা নারার প্রতিনিধিত্ব তিনি করেন।
১৯৯৬ সালে তিনি এলডিপিতে যোগদান করেন এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী আবে শিনজোর অধীনে প্রথম মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। ওকিনাওয়া এবং উত্তর ভূখণ্ড বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব তিনি পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি এলডিপি’র নীতি গবেষণা পরিষদের প্রথম নারী সভাপতির পদে আসীন হন। তাকাইচি এরপর স্বরাষ্ট্র ও যোগাযোগমন্ত্রী হন। রেকর্ড ১,৪৩৮ দিন সেই পদে তিনি ছিলেন।
পরে তাকে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা মন্ত্রী নিযুক্ত করা হয়, যেখানে তিনি সংবেদনশীল তথ্যের সুরক্ষার জন্য ‘নিরাপত্তা ছাড়পত্র’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
