জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সফররত তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ. বরিস একিনজি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন ছাড়াও উচ্চপর্যায়ের দুই কূটনৈতিক। সোমবার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াতের আমীরের বাসভবনে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিকাল ৩টা ২৮ মিনিটে আমীরের বাসভবনে প্রবেশ করেন এবং বিকাল সাড়ে ৪টায় বের হয়ে যান।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ সময় তিনি বলেন, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাক্ষাৎ করতে আসায় জামায়াতে আমীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা আমীরের স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের নেতৃত্বে প্যালেস্টাইন মুসলমানের জন্য যে উদ্যোগ এবং সহযোগিতার কথা স্মরণ করেছেন, জামায়াতের আমীর তার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ জানতে চেয়েছেন। আমীর অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্রদের আন্দোলনের কথা স্মরণ করেছেন। আমাদের প্রায় ১২০০ ছাত্র-জনতার জীবনদান এবং প্রায় ২৫/৩০ হাজার ছাত্র- জনতা আহত হওয়ার কথা বলেছেন। জামায়াতে ইসলামী আহত-নিহতদের পাশে সহানুভূতির আদর্শ মানবিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছেন সেসব প্রসঙ্গগুলো তিনি তুলে ধরেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের সংস্কার ও নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেছেন। জামায়াত আমীর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সংস্কার ইস্যুতে ঐকমত্যের যে একটা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে যদি সব রাজনৈতিক দল এবং স্টেকহোল্ডাররা ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় তাহলে ফেব্রুয়ারির যে টাইমলাইন সেখানে একটা নির্বাচন, একটা ফ্রি ফেয়ার ইলেকশন হওয়া সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ তুরস্ক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, নির্মাণ, কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতার সুযোগ, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা, দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের গুরুত্ব, তুরস্কের উন্নয়ন ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামী সংগঠনের অতীত কঠিন সময়ের প্রসঙ্গ এবং জামায়াতের নিবন্ধন ফিরে পাওয়া ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা করা হয় বলে সেক্রেটারি জেনারেল জানান।
কসোভোর রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ: এদিকে সকালে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত রিপাবলিক অব কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা।
রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াত আমীরের বাসভবনে এ সাক্ষাৎ ও প্রাতঃরাশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে বিরাজমান সার্বিক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ ও কসোভোর দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তারা খোলামেলা আলোচনা করেন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রতি কসোভোর দৃঢ় সমর্থন থাকবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচনাকালে জামায়াত আমীরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
