কুষ্টিয়ার অবহেলিত উপজেলা দৌলতপুর। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৪ বছরেও উন্নয়ন বিমুখ সীমান্তবর্তী এই উপজেলার মানুষেরা। এ উপজেলা নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া-১ আসন। দীর্ঘদিন পর ভোট দেয়ার অধিকার ফিরে পেতে চান এখানকার ভোটাররা। নিজেদের সংসদ সদস্য নিজেরাই গঠন করতে চান। ৪৬০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের প্রায় ৭ লাখ জনগোষ্ঠীর বৃহৎ উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা আজও রয়েছে নাজুক অবস্থায়। ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম অবস্থা। নেই ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। ফলে প্রতি বছর আগুনে ক্ষতির শিকার হন সাধারণ জনগণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। পৌরসভা না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নাগরিকরা। দৌলতপুরের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বৃহৎ জনগোষ্ঠী। তারা এখনো গরু ও মহিষের গাড়ির ওপর ভরসা করে আছেন। নেই উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা। বন্যার সময় প্রতি বছর জলমগ্ন হয়ে থাকে দুই ইউনিয়ন। প্রায় ১ লাখ মানুষকে দুর্গম চরাঞ্চল পাড়ি দিয়ে চিকিৎসা নিতে যেতে হয় দৌলতপুর অথবা কুষ্টিয়া সদরে। তাই দৌলতপুরবাসীর আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণ নেতৃত্বের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
আর সেই নেতৃত্ব দিয়ে তরুণদের মন জয় করেছেন ঢাকা উত্তর মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দিন জুয়েল। তিনি পতিত হাসিনা সরকার পতন আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা। ইতিমধ্যে দৌলতপুরের প্রতিটি গ্রাম, পাড়া ও মহল্লায় গণসংযোগ করেছেন। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে অবহেলিত দৌলতপুরকে আধুনিক ও মডেল দৌলতপুর গড়ার জন্য নিজেকে আত্মনিয়োগ করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি জানান, সবার আগে বেকার সমস্যা দূর করতে কাজ করবেন। চরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচনে সর্বাধিক গুরুত্ব দিবেন। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত দৌলতপুর গড়তে যা যা করণীয় তাই করবেন। এমন প্রতিশ্রুতির ফলে তরুণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। শুধু তরুণ ভোটারই নয়, তার প্রতি আস্থা বেড়েছে বয়োবৃদ্ধ ভোটরদেরও। অশান্ত জনপদে শান্তি ফেরাতে তরুণ নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্বাস জন্মেছে সাধারণ ভোটারদের মাঝেও। তবে শুধু ভোটারদের আস্থাই নয়। কাজেই প্রমাণ করতে চান শরীফ উদ্দিন জুয়েল। তাই দিন-রাত গণসংযোগ ও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে মানবজমিনকে তিনি জানান।
তবে দৌলতপুর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি সাবেক এমপি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লাও পিছিয়ে নেই। তার বাবা ৪ বারের এমপি ও মন্ত্রী প্রয়াত আহসানুল হক পচা মোল্লা। বাবার হাতেগড়া দৌলতপুর বিএনপি’র সংগঠন এখনো তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভোটের মাঠেও রয়েছেন সক্রিয়। তিনিও দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও দলীয় কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। মনোনয়ন দেয়া হলে কুষ্টিয়া-১ আসনটি তারেক রহমানকে উপহার দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আলহাজ আলতাফ হোসেন। তিনি ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন। এ তালিকায় রয়েছেন উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা ও এডভোকেট মো. রমজান আলী।
অপরদিকে, ভোটের মাঠে নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দৌলতপুর শাখার নেতৃবৃন্দ। উপজেলা আমীর উপাধ্যক্ষ মো. বেলাল উদ্দিনকে কুষ্টিয়া-১ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে দিন-রাত নির্বাচনী গণসংযোগ ও ভোটের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। উপাধ্যক্ষ বেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে দৌলতপুর জামায়াত নেতৃবৃন্দের নির্বাচনী প্রচারণায় সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তাদের এগিয়ে যাওয়া এবং নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থীর বিজয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে অভিমত রয়েছে সাধারণ ভোটারদের। সৎ লোকের শাসন এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত সুন্দর দৌলতপুর গড়তে জায়ামাতকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন উপাধ্যক্ষ বেলাল উদ্দিন। এ ছাড়াও ভোটের মাঠে দেখা না গেলেও এ আসনে বেশ কয়েকটি দলের নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেনÑ এনসিপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামান।
