রিসেট

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে নতুন রিট

প্রকাশিত: ৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার), ২০২৫ Archive 2022Source: স্টাফ রিপোর্টার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন নিয়ে অস্বস্তি কাটছে না। আদালতে একের পর এক রিট দায়ের হওয়ায় প্রার্থী ও ভোটাররাও বিভ্রান্ত হচ্ছেন। গতকাল হাইকোর্টের আপিল বিভাগ ডাকসু নির্বাচন আয়োজনে বাধা নেই বলে রায় দেয়ার দিনেই নতুন করে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। বাদ পড়া প্রার্থী ছাত্রলীগ নেতা জুলিয়াস সিজারের করা রিট আবেদনে তার প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগ পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত রাখার আর্জি জানিয়েছেন। নতুন করে রিট হওয়ায় ফের অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। 

ওদিকে চেম্বার জজ আদালতের স্থগিতাদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। চেম্বার আদালতের দেয়া স্থগিতাদেশ আগামী ৩০শে অক্টোবর পর্যন্ত চলমান থাকবে। বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। আপিল বিভাগের এ আদেশের ফলে আগামী ৯ই সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠান করার ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা থাকলো না বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

সোমবার এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ডাকসু’র নির্বাচন প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকার কার্যক্রম আগামী ৩০শে অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছিলেন। হাইকোর্টের এই আদেশ স্থগিত চেয়ে সেদিনই আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার আদালত নিয়মিত সিভিল মিসলেনিয়াস পিটিশন না করা পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। মঙ্গলবার সিভিল মিসলেনিয়াস পিটিশন আদালতে দাখিল করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, যা চেম্বার আদালতে শুনানির জন্য ওঠে। চেম্বার আদালত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আবেদনটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আবেদনটি আপিল বিভাগে শুনানির জন্য কার্যতালিকার এক নম্বর ক্রমিকে ওঠে। আদালতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানি করেন। অন্যদিকে রিট আবেদনকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া শুনানি করেন। এছাড়া ডাকসু’র সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রার্থী এসএম ফরহাদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিক শুনানি করেন।

ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট মনোনীত ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী এসএম ফরহাদের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বামজোট মনোনীত প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী বিএম ফাহমিদা আলম এ রিট দায়ের করেন। রিটে অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের আগে এসএম ফরহাদ ‘ছাত্রলীগের কমিটিতে’ ছিলেন। এরপরও তিনি কীভাবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেলে প্রার্থী হলেন- এমন প্রশ্ন তুলে তার প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করা হয় রিটে।

জুলিয়াস সিজারের রিট: এবার ঢাবির সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভিপি প্রার্থী জুলিয়াস সিজার প্রার্থিতা ও ব্যালট নম্বর পুনর্বহালের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন। রিটে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় নাম ও ব্যালট নম্বর পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত ডাকসু নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। ডাকসু নির্বাচনের পাশাপাশি ডাকসু হল সংসদ নির্বাচনও স্থগিতের নির্দেশনাও চাওয়া হয়।  

জুলিয়াস সিজার তালুকদারের নাম ও ব্যালট নম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দেয়া এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, মর্মে রুল জারির আরজি জানানো হয়েছে রিটে।  

গত ২৬শে আগস্ট নির্বাচন কমিশন ডাকসু নির্বচানের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। চূড়ান্ত তালিকায় ভিপি প্রার্থী হিসেবে জুলিয়াস সিজার তালুকদারের নাম ছিল। তার ব্যালট নম্বর ছিল ২৬। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের হাউজ টিউটর ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচন কমিশনে জুলিয়াস সিজার তালুকদারের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ দেন। পরে অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালে শুনানি হয়। কিন্তু নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনাল তার প্রার্থিতার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে নির্বাচন কমিশনে সুপারিশ পাঠায়। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন জুলিয়াস সিজারের প্রার্থিতা ও ব্যালট নম্বর বাদ দেয়। অভিযোগের বিষয়ে জুলিয়াস সিজার তালুকদারকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দেয়ার কথা উল্লেখ করে গত ২৭শে আগস্ট চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তাকে আইনি নোটিশ দেয়া হয়। এতে কাজ না হওয়ায় প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন জুলিয়াস সিজার তালুকদার।

ঢাবি শিক্ষার্থী আলী হুসেন ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী আলী হুসেনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ ও হুমকি দেয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল সত্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী আলী হুসেন, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক ছাত্র। তার শ্রেণি রোল ৫৪ এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২০২০২১২৭৬৮। এটি প্রক্টরের এখতিয়ারভুক্ত সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আলী হুসেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন-বিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।