রিসেট

তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে কার্যকর সমাধান চায় সুপ্রিম কোর্ট

প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট (বৃহস্পতিবার), ২০২৫ Archive 2022Source: স্টাফ রিপোর্টার

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন শুনানি শেষে এ বিষয়ে আগামী ২১শে অক্টোবর নতুন আপিল শুনানির দিন ধার্য করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। গতকাল প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বিভাগ শুনানির এই দিন ধার্য করে আদেশ দেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে দিয়ে সাময়িক সমাধান দিতে চায় না বলে মন্তব্য করেন আপিল বিভাগ। বরং নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে কার্যকর সমাধান চায়। যাতে এটি বারবার বিঘ্নিত না হয়। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে এটি যাতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব রাখে। নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা 
(রিভিউ) চেয়ে করা আবেদনের ২য় দিনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।

সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটের দিকে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে রাজনৈতিক দল ও ছয় ব্যক্তির করা চারটি আবেদনের ওপর দ্বিতীয় দিনের শুনানি প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে শুরু হয়। আদালতে বিএনপি’র পক্ষে করা রিভিউ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী কায়সার কামাল। জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান শুনানিতে অংশ নেন। সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ। পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া শুনানি করেন। অপর রিভিউ আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী এএসএম শাহরিয়ার কবির উপস্থিত ছিলেন। মামলায় ইন্টারভেনার (ব্যাখ্যাকারী) হিসেবে যুক্ত হয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। এ সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে দিলে তা কখন থেকে কার্যকর হবে উপস্থিত আইনজীবীদের কাছে প্রশ্ন রাখেন প্রধান বিচারপতি।

জবাবে বিএনপি’র আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন না। এরপর অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, বিস্তারিত শুনানি চলাকালীন তারা সব প্রশ্নের উত্তর দেবেন। এদিন সকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরাতে রিভিউ শুনানিতে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন উঠলে এর জবাব দিতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে অনুরোধ করেন প্রধান বিচারপতি। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, গত দেড় দশকে দেশের মানুষ শাসিতের পরিবর্তে শোষিত হয়েছে নানাভাবে। মানুষ গুম, খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এগুলো থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যেসব সিস্টেম ছিল সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে এবং মানুষ বিচার পায়নি। যার কারণে এই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে। আর সেই রাজপথ থেকেই নির্ধারিত হয়েছে কে প্রধান বিচারপতি হবেন আর কে সরকারপ্রধান হবেন। জনগণের এই ক্ষমতাকে কোনোভাবেই অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই। এসব অবজ্ঞা করলেই বিপ্লবের সৃষ্টি হয়। এ সময় ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার যেমন সাংবিধানিক পরিকাঠামোর মধ্যে আছে, একইভাবে সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা আছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কখন থেকে কার্যকর করবেন সে গাইডলাইন দেয়ার। আমি কোর্টকে বলেছি যে আপনাদের সামনে যখন রিভিউ আছে, তার মাধ্যমে আপনারা যে কোনো প্রশ্নের মীমাংসা করতে পারবেন। ইন্টারিম গভর্নমেন্ট তার মতো করে তার স্কিম ফুলফিল করবে, সুপ্রিম কোর্ট সবকিছুকে বিবেচনায় নিয়ে একটা গাইডলাইন দেবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। 

তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে আপিল বিভাগ পর্যবেক্ষণ দিতে পারেন: প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আপিল বিভাগ পর্যবেক্ষণ দিতে পারেন। সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী (তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা) বাতিল ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রায় দিয়েছিলেন। আমরা আজকে আদালতে বলেছি, এখন আবার আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় ফিরতে চাই। আমরা মনে করি, দেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরে আসবে। ফলে আর কোনো মায়ের বুক খালি হবে না, কোনো মা-বাবা তার সন্তান হারাবেন না। আর কখনো রক্ত দিয়ে ভোটের ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় করতে হবে না। তিনি আরও বলেন, আগের সরকার বলতো কখনো অনির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা থাকতে পারে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার নিজেই ছিল অনির্বাচিত। আমরা তো তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার পক্ষে ছিলাম। এখন আবার ভুতের মুখে রাম নাম। আওয়ামী লীগ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চায়।