আগামী সপ্তাহেই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এই তথ্য জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, নির্বাচনী কাজের সময়ভিত্তিক বাস্তবায়ন-সূচি থাকবে এ রোডম্যাপে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ইসি’র রোডম্যাপ নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আশা করছি, আগামী সপ্তাহে আমাদের নির্বাচনী রোডম্যাপটি দিতে পারবো। আমাদের প্রস্তুতি সম্পর্কে ধারণা পাবেন।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে রোজার আগে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা এসেছে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছ থেকে। নির্বাচন কমিশনও বলছে, ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে ভোটের আগে ৫০ থেকে ৬০ দিন হাতে রেখে ভোটের তফসিল দেবে। নবম সংসদ নির্বাচনের আগে ২০০৭-২০০৮ সাল থেকে কাজের অগ্রগতি তুলে ধরে রোডম্যাপ প্রকাশের রেওয়াজ চলে এসেছে। সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের দেড় বছর আগে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে রোডম্যাপ দিয়েছিল তৎকালীন ইসি। বর্তমান ইসিও এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে।
ভোটার তালিকা, সীমানা নির্ধারণ, দল নিবন্ধন, নির্বাচনী আইনের সংস্কার, সরঞ্জাম কেনাকাটা, দল ও অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ, প্রশিক্ষণ, মুদ্রণ, আইনশৃঙ্খলা সভা, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিয়ে সভাসহ তফসিলের আগে-পরে প্রস্তুতির ফর্দ থাকবে এই রোডম্যাপে। বর্তমান ইসি ২০২৪ সালের নভেম্বরে যোগ দেয়ার পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরকে ধরে একটা প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা সাজিয়েছিল। এবার ফেব্রুয়ারিতে ভোটের সম্ভাব্য সময়সীমা নির্ধারণ হওয়ার পর নতুন সময় ধরে কর্মপরিকল্পনাটির পরিমার্জন চলছে।
কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে ১৮ই আগস্টে এ নিয়ে বৈঠক করার কথা রয়েছে। ইসি’র অনুমোদনের পর তা প্রকাশনা আকারে পাওয়া যাবে।
নির্বাচনে পর্যবেক্ষক প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, যারা পর্যবেক্ষক হিসেবে আবেদন করেছেন, ৩১৮টা আবেদন পেয়েছি, এটা পর্যালোচনা চলছে। আর ২২টা যে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন হয়েছে, প্রাথমিকভাবে তাদের জন্য কাউকে ফিল্ডে পাঠাবো, আমাদের প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য।
প্রবাসীদের ভোট দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আউট অব কান্ট্রি ভোটিং (প্রবাসীদের ভোট) নিয়ে আজকে কিছু আলোচনা হয়েছে- পদ্ধতিটা কী, প্রসেসটা কী হবে, কোথায় কোনটা কতোদিনে এটা কভার করতে হবে। এই জিনিসগুলো আমরা আজকে আলোচনা করেছি। এটা নিয়ে আরেকটু আলোচনা বাকি আছে। আলোচনার পর আমরা নিয়মিত ব্রিফ করবো।
