নিজেদের মধ্যে সর্ববৃহৎ প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ও জাপান। যার মাধ্যমে আধুনিক যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে যৌথভাবে কাজ করবে এ দুই দেশ। মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রিচার্ড মারলেস।
এ খবর দিয়ে আল জাজিরা বলছে, চুক্তির আওতায় অস্ট্রেলিয়া ১১টি মোগামি-ক্লাস ফ্রিগেট যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করবে, যার মূল্য প্রায় ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। মারলেস জানান, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা বিষয়ক চুক্তি এটি।
মোগামি-ক্লাস ফ্রিগেটগুলো আধুনিক স্টেলথ প্রযুক্তিতে সজ্জিত এবং দীর্ঘ দূরত্বের মিসাইল নিক্ষেপে সক্ষম। এর অপারেশনাল রেঞ্জ প্রায় ১০ হাজার নটিক্যাল মাইল। যা অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান আনজ্যাক-ক্লাস ফ্রিগেটের তুলনায় অনেক বেশি। নতুন জাহাজগুলোতে ক্রুর সংখ্যা হবে কম। ২০৩০ সালের মধ্যে সমুদ্রে ভাসবে আধুনিক এই রণতরী।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মারলেস বলেন, এটি পরবর্তী প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধজাহাজ, যা আমাদের নৌবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি এবং সমুদ্রসীমায় প্রভাব বিস্তার করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্প মন্ত্রী প্যাট কনরয় বলেন, নতুন ফ্রিগেটগুলো আমাদের সামরিক ক্ষমতাকে বহুগুণ বৃদ্ধি করবে, যেখানে এয়ার ডিফেন্স মিসাইলের সংখ্যা বেড়ে ৩২ থেকে ১২৮ হবে।
এই চুক্তির আওতায় প্রথম তিনটি জাহাজ জাপানে নির্মিত হবে এবং বাকী আটটি অস্ট্রেলিয়ায় তৈরি করা হবে। এটি জাপানের প্রতিরক্ষা রপ্তানির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ চুক্তি। যা ২০১৪ সালে জাপানের দীর্ঘ দিনের সামরিক রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেন নাকাতানি বলেন, এটি জাপানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় একটি বড় অগ্রগতি। এটি অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক কার্যক্রম ও আন্তঃপরিচালন সক্ষমতা বাড়াবে।
চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে এ বছর এবং ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে তার সামরিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দীর্ঘ-পরিসরের হামলার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর, যা মূলত চীনের সামরিক শক্তির মোকাবিলায় সহায়ক হবে। আগামী দশ বছরে অস্ট্রেলিয়া তার প্রধান যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ১১ থেকে ২৬-এ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
