নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে বন্দুকধারীর হামলায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন আরও তিনজন। দিদারুল নিহতের ঘটনায় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সোমবার সন্ধ্যায় দিদারুলের নিহতের খবর দেখে অনেকে বিশ্বাসও করতে পারেননি। নিউ ইয়র্কের ব্রঙ্কসে বসবাসকারী দিদারুল ইসলাম (৩৬)কে একজন সৎ ও নির্ভীক পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবেই চিনেন সবাই। তিনি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মাগুরা এলাকার বাসিন্দা। বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুপরিচিত ও প্রশংসিত একজন ব্যক্তি। তার দু’টি সন্তান রয়েছে এবং স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। নিহতের লাশ কলম্বিয়া হাসপাতালে নেয়া হয়। জানাযা এবং দাফনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।
ব্রঙ্কসের বাসিন্দা মোহাম্মদ ফারুক জানান- দিদারুলের চলাফেরা ছিল একদম সাদামাটা। পরিবারের সঙ্গে সাউন্ডভিউ এলাকায় থাকতেন। দিদারুল পুলিশে যোগ দেওয়ার আগে ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অফিসার এসোসিয়েশন (বাপা) এক বিবৃতিতে দিদারুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেছে। সোমবার রাতে তাৎক্ষণিকভাবে এক আলোচনা সভায় নিহত দিদারুলের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও দক্ষ পুলিশ বাহিনী হিসেবে পরিচিত নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে কর্মরত আছেন কয়েক শত বাংলাদেশি। যেখানে প্রত্যেকেই অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দেশের সম্মান বৃদ্ধি করছেন। এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, দিদারুল ইসলাম দুই ছেলে সন্তানের বাবা। তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। মেয়র এরিক অ্যাডামস এক ব্রিফিংয়ে জানান, কাণ্ডজ্ঞানহীন বন্দুক হামলায় নিহত চারজনের একজন এনওয়াইপিডি’র কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম। তিনি ৪৭তম প্রিসেন্টে ছিলেন। তার বয়স মাত্র ৩৬ বছর। দিদারুল এনওয়াইপিডিতে সাড়ে তিন বছর কাজ করেছেন জানিয়ে মেয়র বলেন, তিনি তার সর্বোচ্চ ভালো কাজটা করেছিলেন। তিনি জীবন রক্ষা করছিলেন। অ্যাডামস জানান, দিদারুল নিউ ইয়র্কবাসীর সুরক্ষা দিচ্ছিলেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশি অভিবাসী, যিনি এ নগরকে ভালোবাসতেন।
ওদিকে কুলাউড়ায় নিহত দিদারুল ইসলামকে (৩৬) স্বজনেরা রতন নামেই ডাকতেন। পরিবারের সব সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌর শহরের উত্তর মাগুরা এলাকায় ‘নাঈমা নীড়’ নামে দোতলা বাড়ির চারটি ফ্ল্যাটের একটি বাদে বাকিগুলো ভাড়া দেয়া। দিদারুলের অকালমৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দিদারুলরা এক ভাই আর দুই বোন। সবাই নিউ ইয়র্কে থাকেন। বছরখানেক আগে বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী আর দুই সন্তান নিয়ে তিনি দেশে এসেছিলেন।
উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যায় সন্দেহভাজন বন্দুকধারী শেন তামুরার হামলায় নিউ ইয়র্ক সিটির ৩৪৫ পার্ক এভিনিউয়ের একটি বহুতল ভবনে পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামসহ চারজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
