ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, সোমবার, ১১ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৯ সফর ১৪৪৪ হিঃ

নির্বাচিত কলাম

কাওরান বাজারের চিঠি

‘নকল বেহেশ্‌ত’, দিল্লি এবং ড. মোমেন

সাজেদুল হক
২০ আগস্ট ২০২২, শনিবার

সুজাতা সিং-এর সে সফর ছিল রীতিমতো নাটকীয়। বিশেষ করে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে তার বৈঠক নিয়ে কথা হয়েছে অনেক। হঠাৎ করে উধাও হয়ে যান এরশাদ। শেষ পর্যন্ত এরশাদের সঙ্গে সুজাতার বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে এরশাদ বলেন, ‘উনারা বলেছেন, নির্বাচন করুন। আমি নির্বাচন না করলে নাকি জামায়াত-শিবিরের মতো মৌলবাদী শক্তি ক্ষমতায় আসবে। জামায়াত-শিবির ক্ষমতায় আসুক তা আমিও চাই না। আর ওরা এলে সেজন্য সরকারই দায়ী।’

 

দিন দুয়েক আগে এ নিবন্ধ লেখা শুরু করেছিলাম পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনকে ধন্যবাদ দিয়ে। কী জন্য সে আলোচনায় একটু পরে আসছি। না, তখন পর্যন্ত দিল্লি সফরের অজানা তথ্য তিনি ফাঁস করেননি।

বিজ্ঞাপন
গতরাতে ড. মোমেন নতুন করে ভাইরাল হয়েছেন। একজন মন্ত্রীর এভাবে এত কাছাকাছি সময়ে দুইবার ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ হওয়া নজিরবিহীন তো বটেই। এরআগে বেহেশত সংক্রান্ত তার বক্তব্যকে মনে হয়েছিল ‘টক অব দ্য ইয়ার’। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে তিনি সম্ভবত সে রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছেন। জন্মাষ্টমী উৎসবের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। শেখ হাসিনা আমাদের আদর্শ। তাকে টিকিয়ে রাখতে পারলে আমাদের দেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে এবং সত্যিকারের সাম্প্রদায়িকতামুক্ত, অসাম্প্রদায়িক একটা দেশ হবে। সেজন্য শেখ হাসিনা সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার, আমি ভারত সরকারকে সেটা করার অনুরোধ করেছি।’ 

ড. মোমেনের এই বক্তব্য নিয়ে রীতিমতো ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সরকার সমর্থক এবং সরকারবিরোধী প্রায় সবাই এ নিয়ে মতামত প্রকাশ করছেন। বাংলাদেশের রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফের সামনে নিয়ে আসলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এদেশের নির্বাচন এবং রাজনীতিতে বিদেশি শক্তিগুলোর প্রভাব এবং এ নিয়ে আলোচনা নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ভারতের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা দীর্ঘদিনের। ড. মোমেনের এই বক্তব্যের পর অনেকেই ২০১৩ সালের শেষ দিকে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং-এর বহুল আলোচিত ঢাকা সফরের কথা স্মরণ করেছেন। তার ওই সফরের আগে টাইমস অব ইন্ডিয়ায় ইন্দ্রানী বাগচির লেখা নিবন্ধের একটি অংশ পাওয়া যায় প্রথম আলো’তে সোহরাব হাসানের কলামে। বাগচি লিখেছিলেন, ‘ভারত তার শীর্ষ কূটনীতিক, পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংকে পাঠাচ্ছে ঢাকার রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে, যেখানে দ্বিতীয় রাজনৈতিক দল এরশাদের জাতীয় পার্টি আসন্ন নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। দিল্লির কূটনীতিকরা মনে করেন, সুজাতা সিংকে তার পূর্বসূরির চেয়ে অনেক বেশি ঝঞ্ঝাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।’ 

সুজাতা সিং-এর সে সফর ছিল রীতিমতো নাটকীয়। বিশেষ করে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গে তার বৈঠক নিয়ে কথা হয়েছে অনেক। হঠাৎ করে উধাও হয়ে যান এরশাদ। শেষ পর্যন্ত এরশাদের সঙ্গে সুজাতার বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে এরশাদ বলেন, ‘উনারা বলেছেন, নির্বাচন করুন। আমি নির্বাচন না করলে নাকি জামায়াত-শিবিরের মতো মৌলবাদী শক্তি ক্ষমতায় আসবে। জামায়াত-শিবির ক্ষমতায় আসুক তা আমিও চাই না। আর ওরা এলে সেজন্য সরকারই দায়ী।’ এ ছাড়াও দিল্লির ভূমিকা নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে এদেশের রাজনীতির অন্দরমহলের যোগাযোগ ছিল সরাসরি। তিনি তার ‘দ্য কোয়ালিশন ইয়ারস’ বইতে এ নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেনও। ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদ ভারত সফরে যান। তখন প্রণব মুখার্জির সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছিল তার। প্রণব মুখার্জি লিখেছেন, ওই বৈঠকে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান তার কাছে চাকরির নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন। মুখার্জি লিখেছেন, দু’জনের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক একটি আলোচনায় কারাগারে বন্দি আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার জন্য মইন ইউ আহমেদকে বলেছিলেন তিনি। সূত্র: বিবিসি বাংলা। 

 

 

ড. মোমেন বহু কিছুই খোলাসা করে দিয়েছেন। না এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি না। তার বেহেশত তত্ত্বের জন্যও নয়। এমনিতে মানুষ খুব কষ্টে আছে। নিদারুণ কষ্টে। সেখানে ‘আমরা বেহেশতে আছি’ বলাটা উপহাস। এনিয়ে দলও তাকে সতর্ক করেছে। যদিও তিনি সাংবাদিকদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছেন। তার ভাষায় ‘আপনারা আমারে খায়া ফেললেন।’ বলেছেন, ট্রু সেন্সে তিনি বেহেশতের কথা বলেননি। কথার কথা বলেছেন। এটা অবশ্য ভিডিও সাংবাদিকতার যুগ। সবকিছুই রেকর্ডে থাকছে। বেহেশত সম্পর্কিত ফতোয়া দেয়ার জন্যও ড. মোমেনের বিস্তর সমালোচনা হয়েছে। তবে একটি দিক ভালো লেগেছে যে, এই সমালোচনাকে তিনি গ্রহণ করেছেন হাসিমুখে। সাংবাদিকদের লাল দালানে পাঠানোর ভয় দেখাননি। হুমকি দেননি বিরোধীদেরও। তিনি কবুল করেছেন, পাবলিক ফিগারদের সমালোচনা সহ্য করতে হয়।  

গণতন্ত্রে নেতাদের সমালোচনা মানতে হয়। এটা বহু পুরনো কথা। এবং আখেরে এতে লাভই হয়। রাষ্ট্র, সরকার, জাতি বেঁচে যায় বহু বিপদ থেকে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রকে যে শুধু সমালোচনা সহ্য করতে হয় তাই নয়, এমনকি সমালোচকের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হয়। পাশের বাড়ির মানুষ অমর্ত্য সেন। এই অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক চোখ ফেলেছিলেন আমাদের ’৭৪ এর দুর্ভিক্ষের দিকে। যেখানে গণমাধ্যম স্বাধীন, সেখানে দুুর্ভিক্ষ হয় না- তার এই বিখ্যাত চিন্তা আমরা কি ধারণ করতে পেরেছি। অথচ আমাদের সঙ্গে এক ঐতিহাসিক সংযোগ রয়েছে তার। নোবেল ওয়েবসাইটে অমর্ত্য লিখেছিলেন, ‘আমার বাবার বাড়ি পুরনো ঢাকার ওয়ারী অঞ্চলে। রমনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কাছেই। আমার বাবা আশুতোষ সেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিস্ট্রির শিক্ষক ছিলেন। আমার জন্ম অবশ্য শান্তিনিকেতনে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাসে। আমার মাতামহ সেখানকার অধ্যাপক ছিলেন। সারা জীবনই আমি ঘুরে বেড়িয়েছি এক ক্যাম্পাস থেকে আরেক ক্যাম্পাসে।’   

তো, সত্য নয় এমন একটি বেহেশতে, কিংবা আরও খোলাসা করে বললে নকল বেহেশতে কেমন আছি আমরা? এখানে প্রায়ই দুর্যোগের ঘণ্টা বাজছে। বিআরটি প্রকল্পের গার্ডার পড়ে মারা যাচ্ছে মানুষ, আগুনে পুড়ে মারা যাচ্ছে মানুষ। যারা বেঁচে আছেন তাদের একটি বড় অংশ টিকে থাকার লড়াই করছেন।   

ইনসাফ কোথায়? 

ড. একে আবদুল মোমেন যে একাই আলোচনায় আছেন এমনটা নয়। অন্য মন্ত্রীরাও বলে যাচ্ছেন। গত বুধবার যেমন সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চালের দাম প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ ৫০ পয়সা বাড়তে পারে। কিন্তু কেজিতে দাম বেড়েছে চার টাকা। কেজিতে এত টাকা দাম বাড়ার কোনো যুক্তি আছে? কিন্তু ব্যবসায়ীরা এ সুযোগ নিচ্ছেন। আর ব্যবসায়ীরা যখন সুযোগ নেন, একেবারেই নেন। সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, চাল-ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। সরকার দাম নিয়ন্ত্রণে কি ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে? জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার  চেষ্টা করছে। তবে এটা মনে রাখতে হবে, রাতারাতি দাম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। আমি তো জানি না পুতিন সাহেব কবে যুদ্ধ বন্ধ করবেন। তবে মানুষের কষ্ট হচ্ছে, আমরা স্বীকার করছি। প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন। আশা করছি, অক্টোবরের মধ্যে দাম সহনীয় হয়ে আসবে।’  

টিপু মুনশীও একটা ধন্যবাদ পেতে পারে। তিনি স্বীকার করেছেন, মানুষের কষ্ট হচ্ছে। তিনি এটাও স্বীকার করেছেন, ব্যবসায়ীরা অনেক বেশি সুযোগ নিচ্ছে। যদিও মন্ত্রী বলেছেন, ৫০ পয়সার জায়গায় কেজিতে দাম বেড়েছে চার টাকা। কিন্তু আমরা বাজারে দেখছি, কিছু কিছু চালের দাম তার চেয়েও বেশি বেড়েছে। সেটি অবশ্য প্রধান কথা নয়। প্রধান কথা হচ্ছে, এটি পরিষ্কার যে, একটি সিন্ডিকেট সুযোগ নিচ্ছে। মানুষ বিপদে পড়ে এবং এ সিন্ডিকেট সুযোগ নেয়। যেখানে প্রয়োজন ছিল যতটা কম সম্ভব দাম বাড়িয়ে মানুষের পাশে থাকা সেখানে এই সিন্ডিকেট প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষের পকেট কাটে। এরা কৌশল করে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ায়। সরবরাহ বন্ধ করে মানুষকে জিম্মি করে রাখে। এরা দাম বাড়ানোর সময় বলে আন্তর্জাতিক বাজারের কথা। কিন্তু দাম কমানোর সময় চলে অত্যন্ত ধীর গতিতে। এই যে সিন্ডিকেট তাদের বিরুদ্ধে কি বড় কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়? তাদের কি জবাবদিহির আওতায় আনা হয়? আইনের লম্বা হাত কি তাদের স্পর্শ করে? 

মাননীয় মন্ত্রীর এক্ষেত্রে প্রয়োজন, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। শুধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন বললেই তো আর ব্যবসায়ীরা সুপথে চলে আসবে না। পৃথিবীটা তো এখনো এত ভালো হয়ে যায়নি। অসৎ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।  

 

লেখক: প্রধান বার্তা সম্পাদক, মানবজমিন [email protected]

পাঠকের মতামত

আমাদের বিশেষ চেতনাধারী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বুদ্ধিব্যবসায়ীরা আজ কোন গর্তে লুকিয়ে আছে।

Jafrul Amin
২০ আগস্ট ২০২২, শনিবার, ২:২৭ পূর্বাহ্ন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে মোমেন ঠিকই বলেছেন, আমরা বেহেস্তে বাস করছি। কে বলে বাংলাদেশ স্বর্গ নয়? আমরা বাংলাদেশিরা চিন্তায় স্মার্ট নই, এটাই সমস্যা।

zobor khan
১৯ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১১:০৫ অপরাহ্ন

মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন সাহেবকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আওয়ামী লীগ অস্বীকার করলেও সাধারণ জনগণ মনেপ্রাণে বিশ্বাস করত স্বাধীন বাংলাদেশকে আওয়ামী লীগ সরকার দিল্লির অঙ্গরাজ্য বানিয়ে ফেলেছে। জনাব ড. মোমেন সাহেব জনগণের সন্দেহকে আর সন্দেহের মধ্যে রাখেন নাই, তিনি জনগণকে নিশ্চিত করেছেন কার ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে এবং ক্ষমতায় থাকতে হলে কি করতে হবে। তাই তিনি দিল্লির দরবারে গিয়ে হাতে পায়ে ধরে অনুরোধ করেছেন, আওয়ামী লীগকে যেন ক্ষমতায় রাখা হয়।

শাজিদ
১৯ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১০:৫৬ অপরাহ্ন

"এখন তো দেখা যায় মৌলবাদীদের হাতেই স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিরাপদ ও সুরক্ষিত।" বিশ্ব রাজনীতি বিচারে বিবেচনা করতে হবে সব কিছু। আমরা কোনভাবেই চাইবো না আমাদের দেশ তালেবান এর আফগানিস্তানের মতো হোক । আফগানিস্তানের পরিস্থিতি বর্তমানে কিরূপ এবং কেন সেটা আমাদের বুঝতে হবে। বর্তমান বিশ্বে কেবল ভৌগোলিক স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অর্জন সব কিছু নয়। তালিবানের আফগানিস্তান কিংবা বর্তমান শ্রীলংকা এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কোন দেশ চাইলেই তার প্রতিবেশী দেশকে বদল করতে পারে না বা তার ইচ্ছা মতন প্রতিবেশী দেশ নির্বাচন করতে পারে না । বাংলাদেশের তিনদিকেই বৃহৎ শক্তিশালী ও আধিপত্যবাদী ভারত রাষ্ট্র ।আমরা চাই বা না চাই এই আধিপত্যবাদী বৃহৎ শক্তিশালী ভারত রাষ্ট্রের আধিপত্য,জোর জুলুম যাই বলি না কেন সহ্য না করে কি উপায় আছে ? বিকল্প যা উপায় আছে সেটি আরো খারাপ হবে। এক্ষেত্রে আমাদেরকে কৌশলী হতে হবে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিচারে নিজের দেশের স্বার্থ রক্ষা করে সম্ভব সবচেয়ে কম ক্ষতি হবে এমন পথ পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। বিশ্ব রাজনীতিতে স্বার্থটাই আসল। কোন দেশ স্বার্থ ছাড়া, সুবিধা ছাড়া কাউকে কোনো সাহায্য করেনা।

মোঃ কামরান
১৯ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১০:০৮ অপরাহ্ন

নির্বাচনের প্রাক্কালে নেতারা ভারসাম্যহীন হয়ে গেছেন । সম্ভবত পাবনা পাঠিয়ে চিকিৎসার দরকার ।

Kazi
১৯ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ৯:৫০ অপরাহ্ন

লেখা গুলো খুবই যৌক্তিক। সরকারের চোখে পড়বে এবং ব্যবস্হা নিবে আমরা আশা করি। ধন্যবাদ মানবজমিন সম্পাদক সাহেব।

কাজী মাসুদ
১৯ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ৮:৩৫ অপরাহ্ন

সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধ করেছে এমন যে কেউ যদি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বন্দী হতো তাহলে বিস্ময়ের কিছু ছিলোনা। কিন্তু, এরচেয়ে পরিতাপের বিষয় আর কি হতে পারে, স্বাধীন বাংলাদেশে সর্বপ্রথম বন্দীত্ব বরন করেন একজন *দেশপ্রেমিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেনাবাহিনীর মেজর, সেক্টর কমান্ডার* এম এ জলিল। তিনি ০৯ নম্বর সেক্টরের কমাণ্ডার ছিলেন। আমরা ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করেছি। বিজয়ের আনন্দে আমারা যখন আত্মহারা ঠিক সে মুহূর্তে ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশের অভ্যন্তরে লুটপাটে মেতে উঠেছিলো। ভারতীয় সেনারা বাংলাদেশের বিভিন্ন কলকারখানায় লুটপাট শুরু করে। কলকারখানার বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রপাতি খুলে বড়ো বড়ো ট্রাক বোঝাই করে তাঁরা ভারতে নিয়ে যায়। দেশপ্রেমিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর এম এ জলিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর লুটপাট সহ্য করতে পারেননি। তিনি ভারতীয় সেনাদের লুটপাটে বাধা দিলে তাঁকে তৎকালীন বাংলাদেশের সরকার গ্রেফতার করে। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজবন্দী। মেজর এম এ জলিলের উক্তি ছিলো 'অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা'। ভারতের বিএসএফ বর্ডারে পাখির মতো গুলি করে বাংলাদেশের নাগরিকদের হত্যা করে চলছে। এতেই বুঝা যায় আমাদের স্বাধীনতা কতোটা সুরক্ষিত! ভারতের সাহায্যে বা কলকাঠির বলে বাংলাদেশের ক্ষমতার মসনদ কারো জন্য পাকাপোক্ত হলে বুঝতে হবে আমরা প্রকৃতপক্ষে পরাধীন। ভারতের আধিপত্যের চাপ আমরা কড়ায়গণ্ডায় বুঝতে আর বাকি নেই। আমরা ভারতের বানিজ্যিক, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্যের যাঁতাকলে আছি। আমাদের স্বাধীনভাবে টিকে থাকার গ্যারান্টি দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে। খোদ একজন মন্ত্রী যদি ক্ষমতায় যেতে বা বহাল থাকতে ভারতের সাহায্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন তাহলে আমজনতা ভারতের সাহায্য ছাড়া এক পাও নড়তে পারার কথা নয়। যে সরকার জনগণের ভোটের দ্বারা নির্বাচিত, জনগণের জন্য কাজ করে এবং যে সরকার জনগণের সেই সরকার গনতান্ত্রিক। আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হবে কি, বরং জনরায়ের ভয়ে ভীত এবং জনগণের জন্যও নয়, জনগণের সরকারও নয়। তাই তাঁরা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব অরক্ষিত করে ভারতের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিকিয়ে দিয়ে হলেও তাঁরা ভারতের সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। বলা যায় বাংলাদেশে গনতন্ত্রের কবর দেয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী একজন কূটনীতিকও। দেশের স্বার্থ রক্ষা করে বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কের সেতুবন্ধন তৈরি করার বিচক্ষণতাও নিশ্চয়ই রয়েছে তাঁর। আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় বহাল রাখতে ভারতের সাহায্য চেয়েছেন তিনি। তাঁর কথা 'টক অব দ্যা কান্ট্রি'তে পরিণত হয়েছে। বুদ্ধিজীবী, কূটনীতিক, সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে চায়ের দোকানের আড্ডায়ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় ট্রলে মেতে উঠেছেন সবাই। কিন্তু তাঁর কথার আসল রহস্যের দিকে কারো দৃষ্টি যায়নি। সরকারের জন্য পরিস্থিতিটা খুবই নাজুক। মানুষের মনের কষ্ট, ক্ষোভ ঘনীভূত হচ্ছে। যেকোনো সময় মানুষের মনের বারুদ বিস্ফোরিত হতে পারে। যদি তেমন কিছু ঘটে তাহলে ভারত আওয়ামী সরকারের সাহায্যে যেনো এগিয়ে আসে একথাটাই তিনি আগাম বলে রাখলে মাত্র। সাহায্য করতে গিয়ে বলপ্রয়োগ করারও দরকার হতে পারে বৈকি! সাহায্যের প্রয়োজনে বাংলাদেশের জনগণের উপর বলপ্রয়োগ করে ভারত আওয়ামী লীগকে সরকারে রাখবে একথাই কূটনীতিক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন হয়তো। তাহলে কি ধরে নেয়া যায় পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ করে আমরা স্বাধীনতা পাইনি, বাঘের থাবা থেকে বাঁচতে গিয়ে সিংহের মুখে পড়েছি। বিএনপি ও সমমনাদের জন্য এবং বাংলাদেশের গনতান্ত্রিক জনগণের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথার মধ্যে সুক্ষ্ম বার্তা রয়েছে। যাদেরকে যুদ্ধাপরাধী বলা হয়েছে তাঁরা ভারতের এই আধিপত্যের আশংকায় ১৯৭১ সালে ভারতের সাহায্য নিয়ে পাকিস্তান ভাগের পক্ষে ছিলেননা। আজ ৫২ বছর পরে তাঁদের কথা সত্যে পরিণত হয়েছে। সক্রেটিসের মতো তাঁদের তিরোধানও দেখা হয়েছে। এরপরেও যারা আওয়ামী সরকারের সহযোগী হবে তাঁরা জনগণের বিপক্ষের ধরে নিতে হবে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে বলপূর্বক বাধ্য করেছে ২০১৪ সালে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং। সেদিনও সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত করা হয়েছে। শুধু কেবল মৌলবাদ ঠেকানোর অজুহাতে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেয়ার এতো আয়োজন? মৌলবাদ ঠেকানোর অজুহাতে লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করা হয়েছে দেশটাকে। এখন পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে কারা স্বাধীনতার শত্রু, কারা মিত্র। শুধু কেবল ক্ষমতার লোভে আর লুটপাট করতে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব জলাঞ্জলি দিয়ে ভারতের হস্তক্ষেপ ডেকে আনা হয়েছে মৌলবাদ ঠেকানোর কথা অজুহাত মাত্র। এখন তো দেখা যায় মৌলবাদীদের হাতেই স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিরাপদ ও সুরক্ষিত। নিয়তির কি রহস্য, যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে এখন তাঁরা জনবিচ্ছিন্ন এবং তাঁদের কারণে আজ স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব অনিরাপদ অরক্ষিত হয়ে হুমকির মুখে পড়েছে।

আবুল কাসেম
১৯ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ৬:৫৭ অপরাহ্ন

It looks like the top AL leaders are deaf & dumb. How long they will tolerate an idiot like Momen ?

Mustafizur Rahman
১৯ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১:৪০ অপরাহ্ন

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আগামী সাধারন নির্বাচনও একটা অবাদ নিরপেক্ষ ও গ্রহনযোগ্যতার মাপ কাঠিতে উত্তীর্ন হতে দিতে গেলে যে আশংকা থেকে যায় সে শংকা যতনা দলীয় নেতৃত্বকে ভাবিত করছে তার থেকে ঢের বেশী এনাদের মন্ত্রীত্ব হরানোর ভয় তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সে কারনে এমন বেসামাল.....................।

মোহাম্মদ হারুন আল রশ
১৯ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন

নির্বাচিত কলাম থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

নির্বাচিত কলাম থেকে সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট / আমরা এখানে কীভাবে এলাম?

বেহুদা প্যাঁচাল: মমতাজের ফেরি করে বিদ্যুৎ বিক্রি, রাব্বানীর দৃষ্টিতে সেরা কৌতুক / কি হয়েছে সিইসি কাজী হাবিবের?

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status