ঢাকা, ৪ অক্টোবর ২০২২, মঙ্গলবার, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিঃ

দেশ বিদেশ

ক্ষমতায় গেলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নিয়ে যা করবে বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার
১৪ আগস্ট ২০২২, রবিবার

বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে কুইক রেন্টাল ও বিদ্যুৎ খাতে বিশেষ আইন বাতিল করবে বলে জানিয়েছে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সব দুর্নীতি-অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।  শনিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইনসহ এ সংক্রান্ত সব কালা-কানুন বাতিল করা হবে। রেন্টাল-কুইক রেন্টাল কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন বন্ধ করা হবে। স্বচ্ছ প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করা হবে। চাহিদা অনুযায়ী পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, উৎপাদন ও চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন অতি দ্রুত স্থাপন করা হবে। বাপেক্স ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার মাধ্যমে দেশীয় খনিজ ও গ্যাস উত্তোলনের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে দেশীয় প্রকৌশল ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে তুলতে উপযুক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।  

তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে সম্ভাবনাময় গ্যাস- পেট্রোলিয়াম ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ উত্তোলনে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে টেকসই ও নিরাপদ করতে জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে ক্রমান্বয়ে মোট উৎপাদনের ৫০ শতাংশ নবায়নযোগ্য শক্তিনির্ভর জ্বালানি নীতি গ্রহণ করা হবে। বিশেষ জোর দেয়া হবে জল-বিদ্যুৎ উৎপাদনে। খালেদা জিয়া প্রণীত বিএনপি’র ভিশন-২০৩০ তে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে ঘোষিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে বিদ্যুৎ খাতে যে অরাজক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে তার সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি আমদানি সংকট বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, সরকার দেশের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানির ব্যাপারে কাতার বা ওমানের সঙ্গে জ্বালানি চাহিদা মেটানের মতো দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি না করে অংশবিশেষ সিঙ্গাপুরভিত্তিক স্পট জ্বালানি বাজার থেকে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে সাত ডলারে যে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে তা এখন স্পট মার্কেট থেকে ৩৮ ডলারে পর্যন্ত কিনতে হচ্ছে। এতে চাপ বাড়ছে ডলারের রিজার্ভে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমানে শীতকালে ৪-৫ মাস বিদ্যুৎ উৎপাদনে অতিরিক্ত ক্ষমতা স্ট্যান্ডবাই রাখতে হলে তা বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর গায়ে না দিয়ে সরকারি কেন্দ্রে রাখা গেলে অলস সময়ের জন্য কোনো মূল্য পরিশোধ করতে হতো না। প্রশ্ন হলো, সরকার তো ইচ্ছে করে বড় বড় সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে হয় অচল না হয় আধা সচল করে রেখেছে।

 অথচ বড় বড় সরকারি কেন্দ্রগুলোকে ওভারহলিং করে সচল করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল বিএনপি। কিন্তু ২০০৯ এ ক্ষমতায় এসে প্রথম এক বছর ইচ্ছে করে সরকার বিদ্যুৎ সেক্টরের উন্নয়নে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিকে দুর্বিষহ করে তোলে যেন বিনা টেন্ডারে অধিক ব্যয়ে বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়।  তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অর্থ সংকট থাকলেও কুইক রেন্টালের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি দেয়া কিংবা বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে দশগুণ বেশি দামে গ্যাস কেনার জন্য বর্তমান আওয়ামী লীগ লুটেরা সরকারের অর্থের অভাব হয় না। কারণ এর একটা বিরাট অংশ যে তারাও পায়। বিদ্যুৎ খাত এখন সরকারের দুর্নীতি ও টাকা পাচারের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে।

 মির্জা ফখরুল বলেন, সংকটকালে যেখানে দরকার ছিল প্রশাসন পরিচালন ব্যয়ে লাগাম টানা, বিদ্যুৎ খাতের ক্যাপাসিটি চার্জের মতো অপব্যয় বন্ধ করা, অপ্রয়োজনীয় রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি বাতিল করা। সেটি না করে সরকার জ্বালানি আমদানি বন্ধ করে দিয়ে এখন জনগণের ওপর লোডশেডিং চাপিয়ে দিয়েছে।  বিদ্যুৎ খাতের বিপর্যয়, রিজার্ভের সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনৈতিক নৈরাজ্য ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণের নাভিশ্বাসের দায় নিয়ে বর্তমান অবৈধ ফ্যাসিস্ট সরকারকে অনতিবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানান মির্জা ফখরুল। বলেন, তা না হলে দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে জনগণই এ সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করবে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাঈল জাবিউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

পাঠকের মতামত

জ্বালানি নিয়ে চলছে হরিলুট। সরকার কুইক রেন্টালের জ্বালানি কিনছে বেশি দাম দিয়ে। সে জ্বালানি কুইক রেন্টালকে দিচ্ছে ভর্তুকি দিয়ে কম দামে। আবার কুইক রেন্টাল যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে তা সরকার কিনছে বেশি দাম দিয়ে। একটু চিন্তা করে দেখলেই কারো বুঝতে অসু্িধা হবেনা যে কিভাবে জনগণের টেক্সের টাকা এই খাত থেকে মেরে পাচার করেছে।

জামশেদ পাটোয়ারী
১৯ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ৬:১৪ অপরাহ্ন

গরীব দেশের এই গরীব জনগনের উপর দ্রব্য মূল্যের দায় না চাপিয়ে কেন যে মুরখতার পরিচয় দিচ্ছে আমার বুঝে আসে না।

জি,কে, খাঁন
১৪ আগস্ট ২০২২, রবিবার, ৭:৩০ অপরাহ্ন

আপনাদের আমল দেখেছি তো মির্জা সাহেব ১ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ ও দিতে পারেন নাই ।

শরীফ
১৪ আগস্ট ২০২২, রবিবার, ৩:২৪ পূর্বাহ্ন

এ দেশে মাত্র ১টা তেল শোধনাগার। ৫৫ বছর যাবত যার ক্যাপাসিটি ১৫ লক্ষ মেট্রিক টন। অথচ দেশে প্রয়োজন ৬০-৭০ লক্ষ মেট্রিক টন। বাকিটা ডলার দিয়ে ফিনিশড প্রডাক্ট কিনতে হয়। দেশে তেল শোধনাগার এর ক্যাপাসিটি বাড়ানো হলে জ্বালানি নিরাপত্তার পাশা পাশি প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে কিন্ত সেই দিকে কেউ যায় না। ফকরুল সাহেব ও যাবেন না।

রেজা
১৩ আগস্ট ২০২২, শনিবার, ১০:৪৪ অপরাহ্ন

Talking about election, we have not seen any stand-up comedies form Kazi Awal for a while. Does anyone know what has happened to him?

Nam Nai
১৩ আগস্ট ২০২২, শনিবার, ১:৫৭ অপরাহ্ন

দেশ বিদেশ থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

দেশ বিদেশ থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status