রিসেট

হাবিপ্রবিতে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ পালিত হবে আজ

প্রকাশিত: ৮ এপ্রিল (মঙ্গলবার), ২০২৫ Archive 2022Source: দিনাজপুর প্রতিনিধি

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ আজ। বিশ্ববিদ্যালয়টি আজ ২৪ বছরে পদার্পণ করছে। ২ যুগের এ যাত্রায় ৮৫ একরের এ ক্যাম্পাসটি থেকে বের হয়েছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। দেশসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন এ ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা। এবার ফ্যাসিস্টমুক্ত নতুন বাংলাদেশে বেশ উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় দিবসটি পালন করছে কর্তৃপক্ষ। এবারের প্রতিপাদ্য, ‘মেধাভিত্তিক বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে হাবিপ্রবির ভূমিকা এবং ক্রমবিকাশ”। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস  উপলক্ষে আজ সকাল সোয়া ৮টায় দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ ময়দানে অবস্থিত হাজী মোহাম্মদ দানেশের সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হবে। সকাল ৯টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও সোয়া ৯টায় ক্যাম্পাসে আনন্দ র‌্যালি বের করা হবে। সকাল পৌনে ১০টায় টিএসসির সামনে শান্তির দুত পায়রা অবমুক্ত ও বেলুন উড্ডয়নের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মহান শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পন, ভাইস চ্যান্সেলরের বাণী পাঠ, মজার স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং পৌনে ১১টায় টিএসসির সামনে কেক কাটা হবে। এরপর টিএসসি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা শেষে সকাল ১১টায় অডিটোরিয়াম-১ এ আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। বাদ জোহর কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ  মোনাজাত ও দোয়া এবং রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনা আলোকসজ্জা করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, উত্তরাঞ্চলের যে প্রত্যাশা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, ২ যুগে দাঁড়িয়ে আমরা সেটি পুরোপুরি অর্জন করতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয় অর্গানগ্রামে যেভাবে বলা রয়েছে, সেভাবে আসলে আমরা কাজ করতে পারিনি। অবহেলিত উত্তরবঙ্গের শিল্প, বিজ্ঞান, শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ হয়নি। তবে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি অর্থনীতির উন্নয়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বর্তমানে কাজ করে যাচ্ছি। সময়ের ব্যবধানে অনেক নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে ভৌত অবকাঠামোসহ বিভিন্ন বিষয়ে পিছিয়ে পড়া এ বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আবারো সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার কাজ করছি। বর্তমান নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে শিক্ষার্থীবান্ধব একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। বর্তমানে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প না থাকলেও আমরা নতুন করে বিভিন্ন দপ্তরে উন্নয়ন প্রকল্প প্রেরণ করেছি। সেই সাথে শতাধিক শিক্ষকের চাহিদাও পাঠানো হয়েছে। সরকার আমাদের প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যাপারে ইতিমধ্যে আশ্বাসও প্রদান করেন। 
বাংলাদেশে আধুনিক কৃষি শিক্ষার বিকাশ ও উত্তরবঙ্গের কৃষিতে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সরকার ১৯৭৬ সালে একনেক বৈঠকে এ শিক্ষায়তন প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সে হিসেবে ১৯৭৯ সালে কৃষি সমপ্রসারণ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (এ.ই.টি.আই) হিসেবে যাত্রা শুরু করে এই প্রতিষ্ঠান। 
পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালের ১১ নভেম্বর উত্তরবঙ্গের কৃষকনেতা ও ঐতিহাসিক তেভাগ আন্দোলনের অগ্রদূত হাজী মোহাম্মদ দানেশের নামানুসারে এটি কৃষি কলেজে উন্নীত করা হয়। ১৯৯৩ সালের ২৩ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কলেজটির একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন করেন। ১৯৯৯ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়ে ২০০১ সালে একটি এ্যাক্ট পাশ করলেও কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করেননি। ২০০২ সালের ৮ই এপ্রিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কাঙ্ক্ষিত প্রজ্ঞাপনটি জারি করেন। এর মধ্য দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্ম হয়। সেই থেকে এই দিনটিকেই ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে কর্তৃপক্ষ। হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ছিলেন মৃত্তিকাবিজ্ঞানী ড. মোশাররফ হোসেন মিঞা। বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ম উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা।
দিনাজপুর শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার উত্তর এবং দিনাজপুর-রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পশ্চিম পাশেই সুরম্য ও সবুজ বৃক্ষে ঘেরা এ দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাসটি প্রথমে কৃষি অনুষদ দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও এখন এতে ৯টি অনুষদ ও ৪৫টি বিভাগ রয়েছে। প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থীর এই বিদ্যাপীঠে পাঠদান করেন ৩৮৮ জন শিক্ষক। ক্যাম্পাসটিতে বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে ১৩০ জন। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার চর্চায় ক্যাম্পাসে রয়েছে প্রায় ৩০টি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। তবে বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসটিতে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ রয়েছে। হাবিপ্রবির ক্যাম্পাসে রয়েছে মেয়েদের ৪টি হলসহ ৯টি আবাসিক হল, আধুনিক গবেষণাগার, লাইব্রেরি, সেমিনার রুম, ক্যাফেটেরিয়া, ক্রীড়া সুবিধা, অডিটোরিয়াম, মেডিকেল সেন্টার, ডাক্তার ও অ্যাম্বুলেন্স। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টিতে রয়েছে স্কুল, মসজিদ, শহীদ মিনার, শিশুপার্ক, ব্যাংক, পোস্ট অফিস ও সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সুবিধা। গবেষণা ও প্রশিক্ষণের জন্য রয়েছে ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (আইআরটি)। যাতায়াতের জন্য রয়েছে নিজস্ব বাস সার্ভিস। সীমিত সুবিধা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা প্রকাশনা সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার। এগুলোর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, যা ৪০-৫০ হাজারবার সাইট করা হয়েছে। ‘জার্নাল অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজ্থি নামে একটি জার্নাল প্রতিবছর দুবার প্রকাশিত হয়।