‘প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানোর পক্ষে নয় বিএনপি’— সমকালের প্রধান খবর এটি। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিম্নকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থনে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করবে–সংবিধান সংস্কার কমিশনের এই প্রস্তাবে একমত হয়নি বিএনপি। পাঁচ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে দেওয়া বিএনপির মতামত পর্যালোচনায় এমনটি উঠে এসেছে। সংস্কার কমিশন প্রস্তাবিত জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনের পক্ষেও নয় বিএনপি। আইনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন, কর্ম কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ চায় তারা। এতে কার্যত প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকবে নিয়োগের ক্ষমতা। সংবিধান সংস্কার কমিশন সুপারিশ করে–কেউ জীবনে দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। কিন্তু ভিন্ন মত বিএনপির। দলটি চায়– কেউ টানা তিনবার প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না। তবে বিরতি দিয়ে আবার প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও সংসদের মেয়াদ চার বছর নয়; পাঁচ বছর বহাল রাখতে চায় তারা। নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন থাকলেও সংবিধান সংশোধনে কমিশনের গণভোটের সুপারিশেরও বিপক্ষে বিএনপি। সংবিধান সংস্কারের ৭০টি সুপারিশের মধ্যে ১১টিতে একমত ও তিনটিতে নীতিগতভাবে ঐকমত্য প্রকাশ করেছে তারা। ছয়টি সুপারিশের সঙ্গে আংশিক একমত হয়েছে দলটি। এগুলো তারা আগামী সংসদে বাস্তবায়ন চায়। কমিশন সুপারিশ করেছে, শুধু সংসদ নয়; 'ইলেক্টোরাল কলেজ'-এ নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু সাংবিধানিকভাবে তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মতামতে জানিয়েছে বিএনপি। সংবিধানের মূলনীতি থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদ বাদ দিয়ে বহুত্ববাদ, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশেও একমত হয়নি বিএনপি। দলটি সংবিধানের মূলনীতি ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে বলেছে।
‘চীন ও বাংলাদেশ সম্পর্ক আরো গভীর করবে’-এটি কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তিতে উভয় দেশ বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বিনিময় বৃদ্ধিতেও একমত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির হাইনানের উপকূলীয় শহরে বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী ডিং শুয়েশিয়াং বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং পরে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ওয়ান-চায়না নীতি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি এ-ও বলেছেন, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে যোগ দেওয়া প্রথম দক্ষিণ এশীয় দেশ হিসেবে ঢাকা গর্ব অনুভব করে। বৈঠকে বাংলাদেশ বিভিন্ন উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন প্রকল্পে চীনের সহায়তা চেয়েছে এবং চীনা ঋণের সুদের হার ৩ শতাংশ থেকে ১-২ শতাংশে নামিয়ে আনতে অনুরোধ জানায়। এছাড়া, বাংলাদেশ চীনা অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর কমিটমেন্ট ফি মওকুফের আহ্বান জানিয়েছে। চীনের তৈরি পোশাক কারখানা, বৈদ্যুতিক যানবাহন, হালকা যন্ত্রপাতি, উচ্চ প্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, চিপ উৎপাদন ও সৌর প্যানেল শিল্প বাংলাদেশে স্থানান্তর সহজ করতে বেইজিংয়ের সহায়তাও চেয়েছে ঢাকা।
‘নদীবন্দর ও লঞ্চে নিরাপত্তা ঘাটতিতে নাশকতার শঙ্কা’। দৈনিক যুগান্তরের শেষ পৃষ্ঠার শিরোনাম। এতে বলা হয়, ঢাকা নদীবন্দর (সদরঘাট) ও লঞ্চগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথের সবচেয়ে বড় এই বন্দরে চেকিং ছাড়াই যাত্রী প্রবেশ করছে। ঘাটে হকারদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। ছোট নৌকা দিয়ে লঞ্চে যাত্রী তোলা হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষ্যে লঞ্চে অতিরিক্ত স্টাফ নিয়োগের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে যাচাই করা হয়নি। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এসব ত্রুটির সুযোগ নিয়ে নৌপথে ঈদযাত্রায় নাশকতা চালাতে পারে দুষ্কৃতকারীরা। সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এসব আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ওই প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়, কোস্ট গার্ড, আনসার ভিডিপি, পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএতে পাঠানো হয়েছে। এতে নাশকতা এড়াতে সদরঘাটের প্রবেশপথে আর্চওয়ে স্থাপন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বাড়ানোসহ ১১টি সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে নাশকতার শঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্টের পাঁয়তার করছে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ করতে বিভিন্ন সময়ে খুনি, ছিনতাইকারী, ধর্ষক, অগ্নিসংযোগকারী, আন্দোলনকারী ও ডাকাতের বেশে একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে। এর অংশ হিসাবে ঈদযাত্রায় বাস, ট্রেন ও লঞ্চগুলোতে নাশকতার টার্গেট করেছে নাশকতাকারীরা। জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর আরিফ আহমেদ মোস্তফা যুগান্তরকে বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন পেয়েছি। সেখানে কিছু নিরাপত্তাঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে পুলিশ, কোস্ট গার্ডসহ সবাইকে সজাগ থাকতে বলেছি। তিনি বলেন, নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ে ঈদ ব্যবস্থাপনা বৈঠকেও কিছু ঝুঁকির বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। ওই কারণে প্রতিটি লঞ্চে আনসার সদস্য রাখতে নির্দেশনা দিয়েছেন নৌপরিবহণ উপদেষ্টা। বেশির ভাগ লঞ্চ মালিকরা ওই নির্দেশনা মানছেন। নৌপথের কয়েকটি স্পটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কা আছে। ওইসব স্পটে নৌবাহিনী, নৌপুলিশ ও কোস্ট গার্ড টহল দেবে। আমরা আশা করছি, সবার সহযোগিতায় যাত্রীরা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে যেতে পারবেন।
Move to revise DAP bad news for Dhaka, অর্থাৎ ড্যাপ সংশোধনের উদ্যোগ ঢাকার জন্য দুঃসংবাদ— দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, অনুমোদনের মাত্র দুই বছরের মাথায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রণীত বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) সংশোধনীর বিষয়টি নগর পরিকল্পনাবিদদের মধ্যে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা বলছেন, প্রস্তাবিত সংশোধনী মূলত আবাসন ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে, যা অনুমোদিত হলে এই শহরে জনসংখ্যার ঘনত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে। তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, এসব পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে ঢাকার বাসযোগ্যতা আরও কমবে। তবে আবাসন ব্যবসায়ীদের যুক্তি, দ্রুত ক্রমবর্ধমান এই নগরীতে আবাসনের চাহিদা মেটাতে সংশোধনগুলো প্রয়োজন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আবাসন ব্যবসায়ীরা ড্যাপ-২০২২ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জোরদার করার পর রাজউক এই সংশোধনীর খসড়া তৈরি করে। এ বিষয়ে সরকারের সাত উপদেষ্টার সমন্বয়ে গঠিত মূল্যায়ন কমিটি গত ১৯ মার্চ বৈঠকে ড্যাপ সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে। চূড়ান্ত সংশোধনের আগে তারা স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সংশোধনী অনুমোদন হলে আগের চেয়ে ভবনের প্রশস্ততা ও উচ্চতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে ভবন নির্মাণে উচ্চতাকেন্দ্রিক বাধা কেটে যাবে।
গরমে ভোগাবে অসহনীয় লোডশেডিং— আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম এটি। এই খবরে বলা হয়, এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি— এই তিন মাস দেশে তীব্র গরম অনুভূত হয়। গ্রীষ্মের এ সময়ে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা থাকে গড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রগুলোয় নির্বিঘ্ন জ্বালানি সরবরাহ করতে দরকার হবে ৭০ হাজার কোটি টাকা। সরকার এই অর্থ জোগাড় করতে না পারলে গ্রীষ্মকালে দিনে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হবে। আর এতে গরমে বাড়বে মানুষের ভোগান্তি। বিদ্যুৎখাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বাবদ প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে। আর গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে পেট্রোবাংলা ২৪ হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানির অর্থ চেয়ে সরকারকে চিঠি দিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা লাগবে বকেয়া পরিশোধে। এই অর্থ পরিশোধ করতে পারলে গ্রীষ্মে বিদ্যুতের সংকট গভীর হবে না। পিডিবির প্রকৌশলীরা বলছেন, এবার ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনাসহ বড় শহরগুলোতে লোডশেড কম রাখা হবে, তবে গ্রামে বাড়বে লোডশেড। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেছেন, দেশীয় গ্যাসের সংস্থান না করতে পারলে লোডশেডিং মুক্ত করা যাবে না।
বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম— ‘৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সের রেকর্ড এক মাসেই’। এই খবরে বলা হয়েছে, মার্চ শেষ হতে আরও কয়েক দিন বাকি। তার আগেই একক মাস হিসেবে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স আসার নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গত বুধবার পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২৯৪ কোটি ৫০ লাখ বা ২ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এর আগে দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার রেকর্ড হয়েছিল গত ডিসেম্বরে। ওই মাসে মোট ২৬৩ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল বাংলাদেশে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে সবসময়ই রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে এবারের মতো এত বেশি প্রবৃদ্ধি অতীতে কখনই দেখা যায়নি। এবার রমজান ও ইংরেজি মার্চ মাস প্রায় একই সময়ে শুরু ও শেষ হচ্ছে। এ কারণে মাসের পুরো সময়েই প্রবাসীরা বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এরপরও রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে মাসে ৩ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড গড়া দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় অর্জন। কারণ এ উল্লম্ফনে দেশ থেকে অর্থ পাচার ও হুন্ডির তৎপরতা কমে যাওয়ারও বড় প্রভাব রয়েছে।
প্রথম আলোর শিরোনাম ‘তড়িঘড়ি নয়, আলোচনা করেই আইন সংশোধন করা হয়েছে’। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশের বিষয়ে আইন বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের সাক্ষাৎকারের বক্তব্য এটি । প্রথম আলোকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আসিফ নজরুল বলেছেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সীমাবদ্ধতা ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে আমরা আগে থেকে অবগত ছিলাম। আইনটি সংশোধনের আগে তড়িঘড়ি নয়, ব্যাপক আলোচনা করা হয়েছে। অনেক মহলের মতামত বিবেচনায় নিয়ে সংশোধন আনা হয়েছে। তবে মাগুরার ঘটনাও এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলে স্বীকার করেন তিনি। সম্প্রতি ধর্ষণ মামলার বিচার দ্রুত করার জন্য আইন সংশোধন করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়েছে। এর ফলে এসব মামলার তদন্ত ও বিচারের সময় কমছে। আইনটি সংস্কারের ফলে ধর্ষণের বিচার দ্রুত নিশ্চিত হবে কি না প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, সময় অর্ধেক ক কমিয়ে আনায় এই মামলাগুলো গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার করা যাবে। আগে ডিএনএ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক থাকার কারণেও বিচার বিলম্বিত হতো মন্তব্য করে আইন উপদেষ্টা জানান, ডিএনএ পরীক্ষার সনদ পাওয়ার অপেক্ষায় অনেক মামলা বছরের পর বছর আটকে থাকত। অধ্যাদেশের বিধান অনুসারে, ডিএনএ পরীক্ষার সনদ ছাড়াই আদালত যদি মনে করেন, চিকিৎসা সনদ ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বিচার সম্ভব, তাহলে আদালত ডিএনএ সনদ ছাড়াই দ্রুত বিচার করতে পারবেন। কিন্তু তদন্ত ও বিচারের সময় বাড়ানোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখার প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা বললেন, এমন কোনো গুরুতর ঘটনা হতে পারে যে তদন্ত কর্মকর্তা ওই সময়ের মধ্যে কাজ করতে পারলেন না। তাই বিকল্প ব্যবস্থা থাকতে হবে। বিচারক পরিস্থিতি বিচার করে সময় বাড়াতে পারবেন।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের শেষ পাতার শিরোনাম- 'সময়মতো মেলেনি বেতন'। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবারের মতো এবারও সময়মতো বেতন-বোনাস পাননি অনেক কারখানার শ্রমিকরা। সরকারের নানা উদ্যোগেও শতভাগ বেতন-বোনাস নিশ্চিত করা যায়নি। বেশির ভাগ কারখানায় ঈদের ছুটি শুরু হলেও খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন শ্রমিকরা। ২০ রোজার আগে বেতন-বোনাসসহ সব পাওনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সরকার, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (টিসিসি)-এর ৮৫তম সভায়। এক সপ্তাহ পার হলেও বহু কারখানা বেতন-বোনাস দিতে পারেনি।
শিল্পপুলিশের তথ্যানুযায়ী, ৯ হাজার ৬৯৫ কারখানার মধ্যে মার্চের বেতন দিয়েছে ১ হাজার ৮৩৫টি। দিতে পারেনি ৭ হাজার ৮৬০টি। ঈদ বোনাস দিয়েছে ৬ হাজার ৬৭৩টি। ৩ হাজার ২২ কারখানা বোনাসও দিতে পারেনি। বিজিএমইএর তথ্যানুযায়ী, বিজিএমইএ’র ২ হাজার ১০৭ কারখানার মধ্যে মার্চের বেতন ১৫ ও ৩০ দিনের পরিশোধ করেছে ৮৩ দশমিক ২০ শতাংশ কারখানা; যা ছুটির আগে দেওয়ার কথা। ঈদের বোনাস দেওয়া হয়েছে ৯৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ফেব্রুয়ারির বেতন দেয়নি ২ হাজার ১০৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮টি। ২৬ মার্চ ছুটি হয়েছে ১৩০ কারখানার। গতকাল ছুটি হয়েছে ৩৩৪টির। আজ ছুটি হবে ৫১৮ কারখানার। সর্বশেষ ২৯ মার্চ ছুটি হবে ৭৮৭ কারখানার।
শিল্পপুলিশের তথ্যানুযায়ী, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, পাটকল, বেপজা ও অন্যান্য মিলে মোট ৯ হাজার ৬৯৫ কারখানার মধ্যে মার্চের বেতন দিয়েছে ১ হাজার ৮৩৫টি। দিতে পারেনি ৭ হাজার ৮৬০ কারখানা। ঈদ বোনাস দিয়েছে ৬ হাজার ৬৭৩ কারখানা। ৩ হাজার ২২ কারখানা বোনাসও দিতে পারেনি। জানুয়ারির বেতন এখনো দেয়নি ৩০ কারখানা। ২ হাজার ৮৯০ কারখানার মধ্যে ফেব্রুয়ারির বেতন দিয়েছে ২ হাজার ৭৬৮টি। এখনো ১২২ কারখানা বেতন দিতে পারেনি। মার্চের বেতন দিয়েছে ৪২২ প্রতিষ্ঠান। দিতে পারেনি ২ হাজার ৪৬৮ প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঈদের বোনাস দিয়েছে ২ হাজার ১৬৭টি। বাকি আছে ৭২৩ প্রতিষ্ঠান। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস না দেওয়ায় ১২ কারখানার মালিকের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। তারা বেতন-বোনাস না দেওয়া পর্যন্ত বিদেশ যেতে পারবেন না। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শ্রমিকদের বেতন না দেওয়ায় রোয়ার ফ্যাশন নামক প্রতিষ্ঠানের আপৎকালীন হিসাব থেকে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৫ হাজার ৫৩৪ টাকা কেটে দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রসারিত করা হবে না। প্রতিষ্ঠানটির মালিক পলাতক আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করা হচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। টিএনজেড গ্রুপের গাড়ি বিক্রি করে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে। মাহমুদ গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক তাদের নগদ সহায়তা বাবদ ১১ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। স্টাইলক্রাফট অ্যান্ড ইয়াংওয়ান বিডি লিমিটেডের বেতন-ভাতা পরিশোধের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে।
