ঢাকা, ১৮ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৩ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৯ মহরম ১৪৪৪ হিঃ

বাংলারজমিন

ওসমানীনগর প্রবাসী পরিবারের ট্র্যাজেডি

বাবা-ছেলের পর এবার চলে গেলেন একমাত্র মেয়েটিও

ওসমানীনগর (সিলেট) থেকে
৭ আগস্ট ২০২২, রবিবার

সিলেট ওসমানীনগরের তাজপুর স্কুল রোডের একটি ভাড়া বাসা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ৫ প্রবাসীর মধ্যে রফিকুল ইসলাম ও তার ছেলে মাইকুল ইসলাম মারা যাবার পর এবার চলে গেলেন না ফেরার দেশে একমাত্র কন্যা সামিরা ইসলাম (২০)। ঘটনার পর থেকে গত ১১ দিন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গত শুক্রবার দিবাগত রাত  দেড়টার দিকে সামিরা ইসলাম মারা যায়। 
বৃটিশ নাগরিক সামিরা ইসলাম মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওসমানীনগর থানার ওসি এসএম মাঈন উদ্দিন। গত বুধবার সামিরার মা হোসনে আরা বেগম ও ভাই সাদিকুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হলেও মা-ছেলে পুনরায় তাজপুরের ওই ভাড়া বাসায় ওঠেন। গত ২৬শে জুলাই অচেতন অবস্থায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম, ছেলে সাদিকুল ইসলাম ও মেয়ে সামিরা ইসলামকে ওসমানী হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় মা ও ছেলেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। কিন্তু সামিরার জ্ঞান ফিরেনি। সামিরা কিডনি ও লিভারসহ কয়েকটি অঙ্গ কাজ করা বন্ধ করে দেয় বলে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক সূত্রে জানা যায়। মৃত সামিরার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বাদ আসর উপজেলার দয়ামীর ইউপির পারকুল মাদ্রাসায় জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি খাতুপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এদিকে গত বুধবার হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। হাসপাতাল ফেরত হোসনে আরা বেগম ও সাদিকুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় হোসনে আরা পুলিশ সুপারকে জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে বাসার ভেতর জেনারেটর চলতো।

বিজ্ঞাপন
জেনারেটর চালুর পর তার ছেলে মাইকুল ইসলামের শ্বাসকষ্ট হতো। বাসায় জেনারেটর চালু করে পুলিশও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। জেনারেটর চালুর পর উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা অস্বস্থিকর পরিস্থিতি উপলব্ধি করেছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। 
পুলিশ ধারণা করছে, ঘটনার রাতে দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালু থাকায় শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে না পেরে দমবন্ধ হয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম ও তার ছেলে মাইকুল ইসলাম মারা যান। অচেতন হয়ে পড়েন স্ত্রী ও অপর এক ছেলে সাদিকুল ইসলাম ও একমাত্র মেয়ে সামিরা ইসলাম। জেনারেটরের ধোয়ায় কী ধরনের বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে তা নিশ্চিতে ফায়ার সার্ভিসের কাছে আলামত পাঠানা হয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতে পুলিশ মারা যাওয়া পিতা-পুত্রের ময়নাতদন্ত ও ওই রাতে গ্রহণ করা খাবারের রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষায় আছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, বাসা বাড়িতে জেনারেটর বাইরে থাকে। কিন্তু ওই বাসার ভেতরে জেনারেটর ছিল। পরিবেশ পর্যবেক্ষণের জন্য বাসার জেনারেটর চালু করা হলে কিছুক্ষণ পর উপস্থিত পুলিশ সদস্যদেরও অস্বস্থিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। তাই ধারণা করা হচ্ছে ঘটনার রাতে দীর্ঘক্ষণ জেনারেটর চালু থাকায় ধোয়ায় শ্বাস নিতে না পেরে দমবন্ধ হয়ে এই ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এখনো নিশ্চিত হয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। জেনারেটরের ধোয়া সংগ্রহ করে ফায়ার সার্ভিসের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই ধোয়া থেকে কী ধরনের বিষক্রিয়া তৈরি হতে পারে পরীক্ষার পর ফায়ার সার্ভিসের কাছ থেকে তা জানা যাবে। ওসমানীনগর ট্র্যাজেডির প্রকৃত কারণ জানতে মারা যাওয়া বাবা ও ছেলের ময়নাতদন্ত ও ওই রাতে গ্রহণ করা খাবারের রাসায়নিক প্রতিবেদন আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ই জুলাই রফিকুল ইসলাম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেন। ঢাকায় এক সপ্তাহ থেকে বড় ছেলে সাদিকুলের চিকিৎসা শেষে গত ১৮ই জুলাই তাজপুর স্কুল রোডে তাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান অরুনোদয় পাল ঝলকের ৪ তলা বাসার দো-তলায় বাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলামসহ ৫ সদস্যের পরিবার। ২৫শে জুলাই রাতের খাবার খেয়ে স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেদের নিয়ে বাসার একটি কক্ষে রফিকুল এবং অপর দু’টি কক্ষে শ্বশুর, শাশুড়ি, শ্যালক, শ্যালকের স্ত্রী ও শ্যালকের মেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে বাসার অন্য কক্ষে থাকা আত্মীয়রা ডাকাডাকি করে রফিকুলদের কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন দেন রফিকুলের শ্যালক দিলওয়ার। খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে ওসমানীনগর থানা পুলিশের একটি দল গিয়ে দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় ৫ যুক্তরাজ্য প্রবাসীকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বৃটিশ নাগরিক রফিকুল ইসলাম ও তার ছোট ছেলে মাইকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্ত্রী হোসনে আরা, বাড় ছেলে সাদিককুল ইসলাম ও একমাত্র মেয়ে সামিরা ইসলামকে হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে ভর্তি করা হয়। রফিকুলের স্ত্রী হোসনে আরা ও ছেলে সাদিকুল সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও দীর্ঘ ১১ দিন সজ্ঞাহীন অবস্থায় লাইফসাপোর্টে থাকা সামিরা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গত শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যায়।

 

পাঠকের মতামত

CARBON MONOXIDE POISON KILL THEM , WHO BUILD THIS HOUSE AND KEEP GENERATOR INSIDE HE SHOUD BE RESPONSIBLE FOR THIS DEATH

tajul aziz
৬ আগস্ট ২০২২, শনিবার, ১১:৩০ অপরাহ্ন

বাংলারজমিন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

বাংলারজমিন থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status