ঢাকা, ১৯ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ৪ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২০ মহরম ১৪৪৪ হিঃ

বাংলারজমিন

উপহারের ঘর দেয়ার নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
৬ আগস্ট ২০২২, শনিবার

অভিযুক্ত (বাঁ থেকে) আমির হামজা স্বাধীন, মফিজুল ইসলাম, নবাবুল ইসলাম শিমুল ও শাহআলম

উপহারের ঘরে থাকবে ৩টি রুম, রান্নাঘর, গোসলখানা, উন্নতমানের টয়লেট। ৩ মাসের মধ্যেই নির্মাণ করে দেয়া হবে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উচ্চমান সম্পন্ন এমন উপহারের ঘর। এ রকম নানা প্রলোভন আর মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের বিভিন্ন এলাকার সহজ সরল দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন জনপ্রতি ত্রিশ থেকে ষাট হাজার করে টাকা। অভিযোগ রয়েছে ঘর দেয়ার নাম করে টাকা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশাসনের কোনো কোনো কর্মকর্তার নামও ভাঙিয়েছেন। গত ২৭শে জুলাই ও ২রা আগস্ট তারিখে জেলা প্রশাসক বরাবরে এমন ৯ জন ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। ভুক্তভোগী ১০নং ধুরাইল ইউনিয়নের ঝাউগড়া গ্রামের শাহানাজ আক্তার (৪০), হান্নান (৪৫), তুলা মিয়া (৫২), একই ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদ (৫০), ৮নং নড়াইল ইউনিয়নের কাওয়ালীজান গ্রামের  শফিকুল (২২) ও তার স্ত্রী বলেন, হালুয়াঘাট উত্তর বাজারের সাংবাদিক পরিচয়ধারী শাহালম (৪৫), চাঁদশ্রী গ্রামের আমির হামজা স্বাধীন (৩২) ও ধারা বাজারের হোন্ডা মিস্ত্রী মফিজুল ইসলাম গিয়ে ৭ লাখ টাকার ঘর দেয়া হবে এমন প্রতিশ্রুতি আর প্রলোভন দেখান। প্রত্যেকের কাছ থেকে ত্রিশ হাজার করে টাকা নেন এ চক্রটি। ৩ মাস পার হয়ে ৬ মাস অতিবাহিত হলেও ঘর না পেয়ে একপর্যায়ে চাপ প্রয়োগ করলে তালবাহানা শুরু করেন। টাকা ফেরত দেয়ার বিভিন্ন তারিখ দিলেও গত প্রায় ৩ বছরে ঘর আর টাকা কোনোটাই পাননি। মনিকুড়ার মিশন স্কুল রোডের দুদু মিয়ার স্ত্রী শহরবানু (৪৫) বলেন, ঘর দেয়ার কথা বলে ২২ হাজার ৬শ’ টাকা নেন শাহালম।

বিজ্ঞাপন
স্বদেশি উত্তরপাড়ার চাঁনবানু (৫২) বলেন,  ৩৫ হাজার টাকা নেন শাহআলম আর স্বদেশি গ্রামের মোকারম। মাসাইল গ্রামের আ. রশিদ (৫০) বলেন, তার পুত্র নজরুল দেন ৩৪ হাজার টাকা, পূর্ব শাকনাইট গ্রামের মজিবরের মাতা বলেন, তার দুই পুত্রের কাছ থেকে শিমুল নেন ১ লাখ  ২০ হাজার টাকা, স্বদেশি উত্তরপাড়ার কুদ্দুস ভূঁইয়া বলেন, তার কাছ থেকে ৩৫ হাজার ৫শ’ টাকা নেন মোকারম আর শাহআলম। একই গ্রামের এরশাদের স্ত্রী হেলেনা বলেন, তার কাছ থেকে নেন ৩৫ হাজার ৫শ’ টাকা। ঘোষবেড় গ্রামের বকুল (৩৪) ও মনিকুড়া মিশন রোডের হোসনা (৩৫) বলেন, তাদেরসহ আরও অনেকের কাছ থেকেই ঘর দেয়ার কথা বলে টাকা নেন এ চক্রটি। এদের ফাঁদে পড়ে টাকা দিয়ে প্রত্যেকেই প্রতারিত হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের পক্ষে অনেকেই জানান, ঋণ করে ঘরের জন্যে টাকা দিয়ে এখনো ঋণের সুদ টেনে যাচ্ছেন। মিশন রোডের রফিকুল (৩৬), ঝাউগড়া গ্রামের ভুক্তভোগী শাহানাজ বলেন, সংড়া গ্রামের শামিম (৪০) নামে এক লোককে ঢাকার বড় অফিসার পরিচয় দিয়ে ঘর ভিজিট করান। ভিজিট করার নাম বলেও অনেকের কাছ থেকে নিয়েছেন টাকা। হালুয়াঘাট ধান ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হুমায়ূন কবির মানিক বলেন, শুধু ঘর নয়, এর বাইরেও অনেক ধরনের প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে এদের বিরুদ্ধে। এ সকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি অভিযুক্তরা। অভিযুক্ত শাহআলম টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, টাকা নিয়েছি এমন প্রমাণ নেই। যদি প্রমাণ থাকে তাহলে তো কথা থাকতে পারে। ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. এনামুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নিয়ে কোনো ধরনের প্রতারণাই আমরা গ্রহণ করিনা। আমরা অবশ্যই এ ধরনের প্রতারণায় কেউ জড়িত থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।  

 

বাংলারজমিন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

বাংলারজমিন থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status