ঢাকা, ১৮ আগস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৩ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৯ মহরম ১৪৪৪ হিঃ

বাংলারজমিন

ঘটনার চার দিনেও খোঁজ নেয়নি প্রশাসন

মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন কুড়িগ্রামে চোখ হারানো শিক্ষিকা

স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম থেকে
৫ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার

ক্লাস চলাকালীন সময়ে বাঁশে বাঁধা ফ্যানের জিআই তার ছিঁড়ে ফ্যানের আঘাতে গুরুতর আহত শিরিনা আকতার চারদিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এখন পর্যন্ত তাকে দেখতে আসেনি শিক্ষা প্রশাসন কিংবা উপজেলা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা। অথচ সরকারি দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের অব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ কর্মস্থল না হওয়ায় পাঠদানরত অবস্থায় আহত হন এই শিক্ষিকা।  গত বুধবার দুপুরে শিক্ষিকার চোখের ব্যান্ডেজ খুলে দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাকে জানানো হয়নি তার ডান চোখ একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। সে কারণে শিরিনা আকতার যারই দেখা পাচ্ছে তাকেই আকুতি জানাচ্ছে দোয়া করবেন আমার চোখ যেন ভালো হয়। গতকাল ঘটনাস্থল কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই দূর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায় দেড়টার সময় স্কুলটি ছুটি হয়। এ সময় স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুর্বলভাবে ফ্যান বাঁশের সঙ্গে বেঁধে দেয়ায় মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। এতে স্কুলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা রক্ষা পেলেও শিক্ষিকা শিরিনা আকতার তার চোখ হারিয়ে অসহ্য যন্ত্রণায় হাসপাতালের বিছানায় ছটফট করছেন। গোড়াই দূর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামিমা ইয়াসমিন জানান, স্কুলটি একেবারে ভগ্নদশা ছিল।

বিজ্ঞাপন
২০০০-২১ অর্থবছরের ক্ষুদ্র মেরামতের দেড় লাখ টাকা ও ২০২১-২২ অর্থবছরের স্লিপের ৫০ হাজার টাকা দিয়ে স্কুলের মাটি কেটে স্কুল ঘর পুননির্মাণ করা হয়। বন্যায় স্কুলের মেঝ ভেঙে গেছে। দুর্বল বাঁশ দিয়ে ফ্যান আটকানোর বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি। তবে তিনি দাবি করেন একজন শিক্ষক দায়িত্ব পালন অবস্থায় মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়লেও এখন পর্যন্ত প্রশাসন থেকে রোগীকে দেখতে জাননি কেউ। বাড়িয়ে দেননি সহায়তার হাত। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।  এদিকে আহত সহকারী শিক্ষিকা শিরিনা আকতারকে ফোন করলে তিনি জানান, নষ্ট হয়ে যাওয়া চোখ দিয়ে আগুনের ফুলকির মতো কিছু একটা অনুভব করছেন। তার চোখ যেন ভালো হয় এজন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন। শিরিনা আকতারের স্বামী শেখ আলমগীর কবীর জানান, শিরিনা সরকারি দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ছিল। এটি নিছক দুর্ঘটনা না অবহেলা এর দায় কে নিবে। চারদিন ধরে সে বিছানায় অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ডান চোখটি পুরোপুরি ড্যামেজ হয়ে গেছে। রোগীর মানসিক অবস্থা খুবই নাজুক। ফলে এই চরম সত্যটি তাকে জানাতে পারছি না। অন্যদিকে তার চিকিৎসায় কাড়িকাড়ি টাকা খরচ হচ্ছে। একে সারাজীবনের জন্য চোখ হারিয়ে পঙ্গু হলো। যাদের কারণে এই আর্থিক ও এবং অঙ্গহানির ঘটনা ঘটলো তদন্ত করে তার বিচার দাবি করছি। জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, সরজমিন পরিদর্শন পূর্বক একটি প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন পাইনি। প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল কুমার জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছে। তারা নিয়েছে কিনা জানা নেই। জেনে পরে জানাবো।

বাংলারজমিন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

বাংলারজমিন থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status