ঢাকা, ১৬ আগস্ট ২০২২, মঙ্গলবার, ১ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৭ মহরম ১৪৪৪ হিঃ

দেশ বিদেশ

মতিঝিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানা পক্ষের দ্বন্দ্ব

আল-আমিন
২৯ জুলাই ২০২২, শুক্রবার

জাহিদুল ইসলাম টিপু হত্যাকাণ্ডের পর মতিঝিল ও তার আশেপাশের এলাকা নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নানা পক্ষের দ্বন্দ্ব। যুবলীগ নেতা মিল্কী হত্যাকাণ্ডের পর টিপু ছিলেন ওই এলাকার সর্বেসর্বা। তার হাতেই ছিল সব নিয়ন্ত্রণ। এই কারণে তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে বলে ধারণা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। টিপু হত্যার পর মতিঝিল এলাকার সরকারি প্রতিষ্ঠানের টেন্ডারবাজি, ফুটপাথের ভাগবাটোয়ারা, ভর্তি বাণিজ্য, বদলি, সিএনজি ও বাস টার্মিনাল থেকে চাঁদাবাজি, সিটি করপোরেশনের জমির দোকানের ওপর কর্তৃত্ব স্থাপনসহ নানা বিষয় নিয়ে চলছে একাধিক গ্রুপের বিরোধ। গ্রুপগুলো মতিঝিলকে টাকার খনি হিসেবে বিবেচনা করে কোনো পক্ষই কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। পুলিশ ও র‌্যাবের মতে, টিপু হত্যাকাণ্ডের পর ওই এলাকায় এখন ৫টি গ্রুপের দ্বন্দ্ব চলছে। তারা ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া। গ্রুপ ৫টি হচ্ছে- কারাগারে থাকা ল্যাংড়া খালেদের অনুসারী, কানাডা প্রবাসী সোহেল শাহরিয়ার গ্রুপ, আওয়ামী লীগ নেতা ফারুকের অনুসারী, টিপু গ্রুপের নেতাকর্মী এবং সাবেক কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা। সোহেল শাহরিয়ার হচ্ছে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের অনুসারী।

বিজ্ঞাপন
আর ফারুকের গ্রুপের নেতাকর্মীরা ফ্রিডম মানিকের অনুসারী বলে জানা গেছে।  এলাকাভিত্তিক চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি নিয়ে চলছে নানা ধরনের মহড়া। 

এতে ঘোলাটে হতে পারে ঢাকার প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। এ অবস্থায় নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ ও র‌্যাব। পুলিশ ও র‌্যাব বলছে, টিপু হত্যাকাণ্ডের পর ওই এলাকায় নানা গ্রুপ সৃষ্টি হয়েছে। তারা এলাকার ওপর নজরদারি রাখছে। যারাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটাবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। গত ২৪শে মার্চ রাতে রাজধানীর শাহজাহানপুরের আমতলা এলাকার সড়কে খুন হন মতিঝিল আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক টিপু। ওই সময় গাড়ির কাছেই রিকশায় থাকা বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী প্রীতিও গুলিতে নিহত হন। আহত হন টিপুর গাড়িচালক মুন্না। এ ঘটনায় টিপুর স্ত্রী বাদী হয়ে শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় এখন পর্যন্ত পুলিশ ও র‌্যাব ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এখন পর্যন্ত খুনে ব্যবহৃত গাড়ি ও অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি। এছাড়াও শুটারকে মোটরসাইকেলে করে বহনকারী মোল্লা শামীম আছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। জানা গেছে, মোল্লা শামীম উত্তরবঙ্গের একটি জেলা দিয়ে সীমান্তপথে ভারতে পালিয়ে ভুটানে চলে গেছে। এ বিষয়ে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন গতকাল মানবজমিনকে জানান, ‘টিপু হত্যাকাণ্ডের পর ওই এলাকায় নজরদারি রয়েছে।’ পুলিশের মতিঝিল বিভাগের ডিসি মো. আব্দুল আহাদ জানান, ‘আইনশৃঙ্খলার বিঘ্ন যারা ঘটাবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’  র‌্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টিপু হত্যাকাণ্ডের আগে ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ করতো কারাগারে থাকা ল্যাংড়া খালেদ। একটি মামলায় সে এখন কারাগারে। ল্যাংড়া খালেদের পক্ষে মতিঝিলের নিয়ন্ত্রণ করতো যুবলীগ নেতা মিল্কী। 

ল্যাংড়া খালেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার লোকজন পুলিশের ভয়ে পালিয়ে যায়। আর এই সুযোগে টিপু ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে। টিপু এ সময় মতিঝিলের টেন্ডারবাজির ভাগ কাউকে না দেয়ায় আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। দুবাইয়ে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের অনুসারী মুসা পরিকল্পনা করে টিপুকে হত্যা করে। ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে এখন ল্যাংড়া খালেদ মরিয়া হয়ে উঠেছে।  সূত্র জানায়, এর মধ্যে কানাডা প্রবাসী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সোহেল শাহরিয়ার ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ২০০৯ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তার লোকজন এখন মতিঝিল এলাকায় মহড়া দিচ্ছে। সোহেল শাহরিয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী মানিকের অনুসারী। ২০০৮ সালের ৪ঠা মার্চ রাজধানীর শাহজাহানপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য কাউসার আলীকে হত্যা মামলায় আসামি ছিলেন সোহেল শাহরিয়ার ওরফে শর্টগ্যান সোহেল।

 সোহেলের সাঙ্গপাঙ্গরা এখন মতিঝিল, শাহজাহানপুর, পল্টন, কমলাপুরে ডিশ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাথে চাঁদাবাজি ও দেদারসে চালাচ্ছে মাদক ব্যবসা। এ ছাড়াও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে টেন্ডারবাজিতে তারা শীর্ষে রয়েছে।  সূত্র জানায়, টিপু হত্যাকাণ্ডের পর ৩টি ওয়ার্ডে চলছে এখন বড় ধরনের দ্বন্দ্ব। ওই এলাকার ফুটপাথের চাঁদা আদায়, ভর্তি বাণিজ্য ও টেন্ডারের টাকা আদায় করছে ৫টি গ্রুপের কর্মীরা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে চলছে ঠাণ্ডা লড়াই। মতিঝিল থানার ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা আরামবাগ, মতিঝিল, ফকিরাপুল সোহেল শাহরিয়ারের লোকজন নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তাদের বাধা দিচ্ছে আবার ল্যাংড়া খালেদের লোকজন। সূত্র জানায়, ৮নং ওয়ার্ড এলাকা কমলাপুর টিপুর লোক দামাল নিয়ন্ত্রণ করতো। সে অন্য দলে যোগ দিয়ে টিপু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়ায়। দামাল এখন জেলে। ওই এলাকা এখন আওয়ামী লীগের নেতা ফারুকের লোকজন নিয়ন্ত্রণ করছে। সূত্র জানায়, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ক্রীড়া পরিষদের ভ্রমণে ছাত্রলীগের উঠতি নেতারা নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তবে সেখানে টিপুর লোক মিরাজ, আজিম ও শাকিব সক্রিয়। তাদের মধ্যে চলছে ঠাণ্ডা যুদ্ধ।

পাঠকের মতামত

পাঁচটি গ্রুপের সবাই বহিরাগত।

Awlad Hossain
২৯ জুলাই ২০২২, শুক্রবার, ৮:১৫ অপরাহ্ন

What the hell police is doing?

Nam Nai
২৮ জুলাই ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১২:৩৪ অপরাহ্ন

দেশ বিদেশ থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

দেশ বিদেশ থেকে সর্বাধিক পঠিত

প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status