রিসেট

নোয়াখালীতে যৌন নিপীড়নের দায়ে লিটনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার), ২০১৮ Archive 2018Source: স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী থেকে
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ডমুরুয়া ইউপি’র বাবুপুর-শ্রীপুর গ্রামের ব্যাপারি বাড়িতে সদ্য বিবাহিত নারী মাকছুদা আক্তার (১৮) কে একই বাড়ির অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন লিটন কর্তৃক যৌন নিপীড়নের অভিযোগে স্থানীয় থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহার দিন সকাল ১১টায় মাকছুদাকে ঘরে একা রেখে অন্যরা সবাই পার্শ্ববর্তী বাড়িতে মাংস কাটতে যায়। এ সুযোগে অ্যাডভোকেট লিটন ভিকটিমের ঘরে গিয়ে রান্না ঘরে মাকছুদাকে একা পেয়ে পিছন দিক দিয়ে জড়িয়ে ধরে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শোবার ঘরে নেয়ার চেষ্টা করে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন চালায়। তার চিৎকারে অ্যাডভোকেট লিটন দৌড়ে পালিয়ে যায়। এর আগে গত ১৮ই আগস্ট বিকাল ৩টায় সবাই যখন ঘুমন্ত অবস্থায় তখন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন লিটন মাকছুদার ঘরে গিয়ে তার বুকে হাত দিলে সে চিৎকার করে উঠলে অ্যাডভোকেট লিটন চলে যায়। পরে মাকছুদা তার মাকে ঘটনা জানালে মানসম্মানের ভয়ে তা আর বাহিরে প্রকাশ করে নাই। উল্লেখ্য, মাকছুদার বয়স কম হওয়ায় গত ৬ মাস পূর্বে নোয়াখালীতে কোর্ট এফিডেভিট করে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন লিটন এর মাধ্যমে মাকছুদার বিয়ে অন্যত্র সম্পন্ন হয়। বিয়ের সময় মাকছুদার জন্মনিবন্ধন কার্ড ও নিকাহনামা অ্যাডভোকেট লিটন রেখে দেয়। এরপর কয়েকবার জন্মনিবন্ধন কার্ড ও নিকাহনামা দেয়ার জন্য অ্যাডভোকেট লিটনকে বলা হলেও সে ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে এগুলো আনার জন্য মাকছুদাকে একা নোয়াখালীতে তার চেম্বারে আসার কথা বলে ভাড়া দেয়ার চেষ্টা করে। এমনকি বাড়িতে একা তার কাচারি ঘরেও যেতে বলে লিটন। এ ঘটনায় মাকছুদার মা বিবি ছকিনা বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলে ওসি (তদন্ত) আব্দুল আলী ঘটনা তদন্ত করে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধিত ২০০৩ এর ১০ ধারা তৎসহ ৫০৬ কিসি আকারে মামলা লিপিবদ্ধ করেন। মাকছুদার পিতা মো. আলাউদ্দিন বলেন, আমার মেয়ের উপর অমানসিক যৌন নিপীড়নের জন্য আমি লম্পট অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন লিটনের উপযুক্ত বিচার চাই। ওসি (তদন্ত) আব্দুল আলী গণমাধ্যমকে বলেন, গতকাল বুধবার আদালতে ভিকটিমের জবানবন্দি ২২ ধারায় রেকর্ড করা হয়েছে। এরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।