প্রথম আলো
দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম ‘আলোচনায় আনুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নির্বাচনপদ্ধতি পরিবর্তন নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর একটি বড় অংশ বিদ্যমান পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবর্তে ভোটের আনুপাতিক হারে বা সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে। তবে দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি এই পদ্ধতি চায় না। তারা বর্তমান পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে। আর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।
গত শনিবার ‘রাষ্ট্র সংস্কার ও সংবিধান সংশোধনী’ বিষয়ে এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনায় বিশিষ্টজনেরা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি চালু করার পক্ষে মত দেন। আলোচনায় বলা হয়, স্বৈরশাসন ঠেকাতে হলে সবচেয়ে বেশি কার্যকর পন্থা হবে আনুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচন।
গত শনিবার রাজধানীতে একটি সেমিনারে বিএনপি, সিপিবি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, এবি পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন ও গণ অধিকার পরিষদের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। এর মধ্যে বিএনপি ছাড়া অন্য দলগুলো আনুপাতিক পদ্ধতির পক্ষে নিজেদের মত দেয়। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামী তাদের সংস্কার প্রস্তাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা চালুর কথা বলেছে।
সংখ্যানুপাতিক বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচন হলো আসনভিত্তিক কোনো প্রার্থী থাকবে না। ভোটাররা দলীয় প্রতীকে ভোট দেবেন। একটি দল যত শতাংশ ভোট পাবে, সে অনুপাতে সংসদের আসন বণ্টন হবে। মূলত বিভিন্ন দেশে তিনটি পদ্ধতিতে নির্বাচন সম্পন্ন হয়—মুক্ত তালিকা, বদ্ধ তালিকা ও মিশ্র পদ্ধতি।
মুক্ত তালিকায় নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সময়ের মধ্যে দলগুলো প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। ফল প্রকাশের পর প্রাপ্ত ভোটের হার অনুযায়ী আনুপাতিক হারে তালিকার ক্রমানুযায়ী আসন বণ্টন হয়। বদ্ধ পদ্ধতিতে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয় না। আর মিশ্র পদ্ধতিতে কিছু আসনে সমানুপাতিক ও কিছু আসনে আসনভিত্তিক নির্বাচন হয়। আবার কোনো কোনো দেশে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের প্রচলন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোথাও এক কক্ষে সমানুপাতিক আবার অন্য কক্ষে আসনভিত্তিক নির্বাচন হয়।
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আনুপাতিক পদ্ধতি চালু করার দাবি নতুন কিছু নয়। কিছু রাজনৈতিক দল অনেক দিন ধরেই এই দাবি জানিয়ে আসছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৭ সালে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই আলোচনায় জাতীয় পার্টি, সিপিবি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলসহ (বাসদ) কিছু দল এই পদ্ধতিতে নির্বাচন করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে ওয়ার্কার্স পার্টি বিদ্যমান পদ্ধতির পাশাপাশি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের বিধান করা অর্থাৎ মিশ্র পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব দিয়েছিল।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হাবিবুল আউয়াল কমিশনের ডাকা সংলাপেও জাতীয় পার্টিসহ কয়েকটি দল আনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই পদ্ধতিতে নির্বাচন করতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। এ ছাড়া আরও কিছু জটিলতাও আছে। রাজনৈতিক মতৈক্য তৈরি করে শিগগিরই এই পদ্ধতির প্রচলন করা কঠিন হতে পারে। বর্তমান পদ্ধতিতে কোনো দলকে এককভাবে সরকার গঠন করতে হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে হয়। অর্থাৎ তাদের ১৫০টির বেশি আসন পেতে হয়। এককভাবে না পেলে কোয়ালিশন বা জোট সরকার করা যায়। সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে কোনো দলের পক্ষে এককভাবে সরকার গঠন করা কঠিন হয়ে যেতে পারে।
পক্ষে–বিপক্ষে অবস্থান
জনপরিসরে নতুন নির্বাচনপদ্ধতি চালু করার বিষয়ে আলোচনা শুরু হলেও অন্তর্বর্তী সরকার এখনো এ বিষয়ে তাদের চিন্তার কথা জানায়নি। সংবিধান সংস্কার কমিশন এবং নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন সবে কাজ শুরু করেছে। তাদের প্রস্তাবে বিষয়টি আসবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
দীর্ঘদিন ধরেই আনুপাতিক পদ্ধতির পক্ষে জাতীয় পার্টি। দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক প্রথম আলোকে বলেন, বিদ্যমান পদ্ধতিতে বেশির ভাগ মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয় না। যেমন একটি নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন সাড়ে ৬২ হাজার ভোট। আওয়ামী লীগের প্রার্থী পেয়েছিলেন ৬২ হাজার ভোট। আর বিএনপির প্রার্থী ৬৩ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। অর্থাৎ এখানে এক লাখের বেশি মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়নি, হয়েছে ৬৩ হাজারের। আনুপাতিক পদ্ধতিতে বেশির ভাগ মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার সুযোগ আছে। তা ছাড়া এই পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে কালোটাকার ব্যবহার ও নির্বাচনী অনেক কারচুপি কমবে।
অবশ্য এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পদ্ধতি নিয়ে মতানৈক্য আছে। বিএনপি বিদ্যমান পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচন একটি সংস্কৃতিরও বিষয়। দেশে প্রথম থেকে ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তাঁরা এই পদ্ধতিতেই থাকার পক্ষে। যদি এই পদ্ধতির পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে সেখানে জনগণের সম্মতি প্রয়োজন হবে। সামনের নির্বাচনে এটি পরিবর্তনের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, যেসব সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য হবে, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। যে বিষয়গুলোয় ঐকমত্য হবে না বা ভিন্নমত থাকবে সেগুলো এখন সংস্কারের সুযোগ নেই।
এবি পার্টিসহ কোনো কোনো দল আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির পক্ষে হলেও তারা এ বিষয়ে আগে ঐক্য চায়।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘সবজির দাম আকাশছোঁয়া’। খবরে বলা হয়, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও বাজারে পণ্যমূল্য পরিস্থিতি সর্বকালের রেকর্ড ছাড়াচ্ছে। সিন্ডিকেটের কারসাজিতে সব পণ্যের দামই বাড়ছে হুহু করে। তাদের থাবা থেকে বাদ যায়নি সবজিও। রাজধানীর খুচরা বাজারে বেশির ভাগ সবজির কেজি ১০০ টাকার ওপরে। আবার কিছু ৩০০ টাকাও ছাড়িয়ে গেছে। পরিস্থিতি এমন-চার থেকে পাঁচ হাত বদলে কৃষকের ৩০ টাকা কেজির বেগুন ভোক্তা ১৫০ টাকা দিয়ে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যান্য সবজিতেও একই চিত্র।
আর এই হাতবদলের মারপ্যাঁচে প্রথমেই সবজির দাম আকাশছোঁয়া করছেন স্থানীয় ব্যাপারী ও রাজধানীর ফড়িয়া ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। মূলত তাদের কারসাজিতে মাঠ পর্যায়ে কৃষক যে দামে পণ্য বিক্রি করছেন, ঢাকায় ক্রেতা পাঁচগুণ বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম কমায় পরিবহণ ভাড়াও কমেছে। সঙ্গে রাস্তায় নামে-বেনামে কমেছে চাঁদাবাজি। নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উৎপাত। তারপরও পণ্যের দাম কমেনি। বরং প্রতিদিনই বাড়ছে। যুগান্তরের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উৎপাদনকারী থেকে পণ্য ভোক্তা পর্যায়ে আসতে বেশ কয়েকটি ধাপ পেরোতে হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে-স্থানীয় ব্যবসায়ী, ব্যাপারী, ফড়িয়া, পাইকারি ব্যবসায়ী, খুচরা বাজার ইত্যাদি। প্রতিটি ধাপেই মূল্য বাড়ছে। সবকিছু যোগ করে নির্ধারণ হচ্ছে সবজির দাম। এর সঙ্গে লাভ যোগ করে খুচরা বিক্রেতা ভোক্তার হাতে পণ্য তুলে দিচ্ছেন। তবে ভোক্তা যে দামে কিনছেন তার সঙ্গে কৃষকের বিক্রি দামের মধ্যে বিস্তর ফারাক দেখা গেছে।
বাস্তবে দুই প্রান্তের (ঢাকা ও তৃণমূল পর্যায়) সঙ্গে মিলিয়ে দেখা গেছে পণ্য উৎপাদনের পর বিক্রি করে ঠকছেন কৃষক এবং ঢাকায় খুচরা পর্যায়ে চড়া দামে কিনতে গিয়ে ঠকছেন ভোক্ত। আর বাকি সবাই লাভবান হচ্ছেন।
সমকাল
‘তারেক রহমানের ৮০ মামলার ভবিষ্যৎ কী’-এটি দৈনিক সমকাল প্রত্রিকার প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। সরকার কি এসব মামলা প্রত্যাহার করবে, নাকি তাঁকে কারাভোগ করতে হবে? ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে এসব প্রশ্ন।
অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তারেক রহমানের ‘রাজনৈতিক মামলা’ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে আসছে বিএনপি। সরকারের মেয়াদ দুই মাস পূর্ণ হওয়ার পরও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ দলের নেতাকর্মী। বিএনপি নেতা ও আইনজীবীরা আভাস দিচ্ছেন, মামলা প্রত্যাহারের পর আগামী বছরের শুরুতে দেশে ফিরতে পারেন তারেক রহমান।
এ পরিস্থিতিতে গতকাল সোমবার তারেক রহমানের সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। অন্যথায় তারা ফের আন্দোলনে নামবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনে সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী ফোরামের সভাপতি জয়নুল আবেদীন এ হুঁশিয়ারি দেন।
জানা গেছে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এখনও রাষ্ট্রদ্রোহসহ ৮০ মামলা বিচারাধীন। ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরবর্তী সময় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত এসব মামলা হয়। গত ছয় বছরে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, অর্থ পাচার, মানহানিসহ পাঁচ মামলায় সাজাও হয়েছে তাঁর। পলাতক দেখিয়েই মামলাগুলোর বিচার সম্পন্ন করেছেন বিভিন্ন আদালত।
মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারেক রহমানকে দেশে ফিরে আদালতে হাজির হতে হবে। এর পর যেসব মামলায় তাঁর সাজা হয়েছে, ওই সব আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে হবে। তবে সরকার নির্বাহী আদেশে তাঁর সব সাজা বাতিল বা স্থগিত করতে পারেন। অবশ্য অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা সব রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করবে। তবে গত দুই মাসে তারেক রহমানের কোনো মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি। এ নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ‘জাল সনদের কারখানা কারিগরি বোর্ড!’ প্রতিবেদনে বলা হয়, জাল সনদের কারখানা বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড! একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী অর্থের বিনিময়ে গত এক যুগে লক্ষাধিক জাল সার্টিফিকেট প্রদান করেছেন। ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, এগ্রিকালচার, ফিশারিজ, লাইভস্টক, ফরেস্ট্রি, মেডিক্যাল টেকনোলজির মতো বিষয়ে টাকা দিয়ে ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট কিনে দেশে-বিদেশে অনেকে চাকরিরত আছেন। আবার অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন।
কম্পিউটার শিক্ষার নকল সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার। আর এই সার্টিফিকেটে এমপিওভুক্ত শিক্ষকও হয়েছেন কয়েক হাজার। এসব সার্টিফিকেট বানিয়ে সেই রেজাল্টের তথ্য বোর্ডের সার্ভারে আপলোড করে দেওয়া হতো। এ কারণ বোঝার উপায় ছিল না যে, এটা নকল সার্টিফিকেট। ইত্তেফাকের অনুসন্ধানে ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে বর্তমানে কর্মরত পাঁচ জন কর্মকর্তা ও সাবেক তিন জন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। শিক্ষাবিদরা বলেন, যার যে বিষয়ে ন্যূনতম জ্ঞান নেই, সে সেই বিষয়ে কি সার্ভিস দেবে? তাদের চিহ্নিত করে সার্টিফিকেট বাতিল করা উচিত।
জাল সনদ বিক্রি করতে দেশ জুড়ে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সাবেক প্রধান কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ (সিস্টেম অ্যানালিস্ট) প্রকৌশলী এ কে এম শামসুজ্জামান। তিনি ৩৫ থেকে ৫০ হাজার টাকায় সনদ বিক্রি করতেন। তবে ক্রেতারা দালালদের কাছ থেকে ন্যূনতম ২ লাখ টাকায় নিত। পুরো অসাধু চক্রে রয়েছেন প্রায় ৫০ জন। তাদের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তা, পরিচালক ও কর্মচারী। পুরো বিষয়টির তদন্ত চলছে। শামসুজ্জামান নিজেই বোর্ডের বিশেষ সার্টিফিকেট পেপারে এই সনদ প্রিন্ট দিতেন এবং কম্পিউটারের সার্ভারে আপলোড করতেন।
গত ১ এপ্রিল মিরপুরের দক্ষিণ পীরেরবাগের বাসা থেকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেলের তত্কালীন সিস্টেম এনালিস্ট এ কে এম শামসুজ্জামান ও একই প্রতিষ্ঠানের চাকরিচ্যুত ও শামসুজ্জামানের ব্যক্তিগত বেতনভুক্ত সহকারী ফয়সালকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ তৈরি করা জাল সার্টিফিকেট, মার্কশিট, রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র এবং এসব তৈরিতে নানা সরঞ্জামসহ বোর্ড থেকে চুরি করে নেওয়া হাজার হাজার অরিজিনাল সার্টিফিকেট এবং মার্কশিটের ব্লাঙ্ক কপি, ট্রান্সক্রিপ্ট, বায়োডাটা, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। শামসুজ্জামান জিজ্ঞাসাবাদে জাল সার্টিফিকেট প্রদানের তথ্য স্বীকার করেন।
বণিক বার্তা
‘বাংলাদেশে অলৌকিক ব্যাংকিং ব্যবসা’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট মেটাতে গত বছরজুড়ে লাখ লাখ কোটি টাকা ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বছরের শুরুতে তথা ফেব্রুয়ারিতে এ ধারের পরিমাণ ছিল ৮৪ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। যদিও বছর শেষে ডিসেম্বরে তা ৩ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। রেপো, বিশেষ রেপো ও অ্যাশিউরড লিকুইডিটি সাপোর্ট (এএলএস) হিসেবে স্বল্পমেয়াদি এ ধার দেয়া হয়। দেশের ব্যাংক খাতের ইতিহাসে এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এত পরিমাণ ধার দেয়ার নজির নেই।
আবার তারল্যের ক্ষেত্রে দেউলিয়াত্বের বছরেই রেকর্ড নিট মুনাফা দেখায় দেশের ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশের ব্যাংকগুলো ১৪ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা নিট মুনাফা দেখিয়েছে। এত পরিমাণ নিট মুনাফাও দেশের ব্যাংক খাতে অতীতে কখনো দেখা যায়নি। এ নিট মুনাফার অর্থের বড় অংশই আবার ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেউলিয়াত্বের হাত থেকে বাঁচাতে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু ব্যাংককে বাছবিচার ছাড়াই অর্থ ধার দিয়েছে। আবার কিছু ভালো ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রেপোয় ধার নিয়ে উচ্চ সুদের ট্রেজারি বিল-বন্ড কিনেছে। এ কারণে একদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধারের পরিমাণ বেড়েছে, আবার ব্যাংকগুলো উচ্চ সুদে সরকারকে ঋণ দিয়ে ভালো মুনাফা পেয়েছে। কিছু ব্যাংকের বিরুদ্ধে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নিট মুনাফা বাড়িয়ে দেখানোরও অভিযোগ আছে। সঠিকভাবে নিরীক্ষা করা হলে দেশের অর্ধেকের বেশি ব্যাংককেই লোকসানি হিসেবে গণ্য করতে হবে বলে মনে করছেন তারা।
কালের কণ্ঠ
দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম ‘উন্নয়নের সাত লাখ কোটি লুট!’ খবরে বলা হয়, ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৫ বছরে ১৭ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সড়ক ও সেতু, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতের হাজার হাজার প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি আর লুটপাট হয়েছে সীমাহীন। প্রভাবশালীদের ইচ্ছায় অপ্রয়োজনীয়, কমিশননির্ভর এবং অপচয়ের এসব প্রকল্পের একটি বড় অংশই গেছে স্বার্থান্বেষী মহলের পেটে। সড়ক ও সেতু বিভাগের ওপর করা টিআইবির একটি গবেষণার তথ্য ধরলেও গড়ে এই অনিয়ম, লুটপাট ও দুর্নীতির অঙ্ক কমবেশি চার লাখ কোটি থেকে সাত লাখ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, অন্য সব প্রকল্পেও কমবেশি একই হারে অনিয়ম-দুর্নীতি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাঁরা মনে করেন, অপরিকল্পিত অবকাঠামোনির্ভর এসব প্রকল্প নেওয়াই হতো টাকা লুটপাটের জন্য।
স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত বছর রাজধানীর মহাখালীর ক্যান্সার হাসপাতালে সেবা নিতে আসেন কুষ্টিয়ার রাজিয়া বেগম। চিকিৎসকরা তাঁকে কেমোথেরাপি ও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন।
আজকের পত্রিকা
‘ব্যাংকের ৩ লাখ কোটি টাকা মামলার জালে’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আলোচিত ব্যবসায়িক গ্রুপ অ্যাননটেক্সের কাছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের পাওনা ৫ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা। ঋণের এই টাকা আদায়ে মামলা করেছে জনতা ব্যাংক। সেই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় আটকে রয়েছে ব্যাংকের এসব অর্থ।
একইভাবে হল-মার্ক গ্রুপের কাছে সোনালী ব্যাংকের অন্তত ৩ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা আটকে রয়েছে। এ ছাড়া ক্রিসেন্ট গ্রুপ, থার্মেক্স গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, রিমেক্স ফুটওয়্যারের মতো গ্রাহকদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের পাওনা আদায়ে মামলা লড়ছে জনতা ব্যাংক। শুধু এসব প্রতিষ্ঠানই নয়, মামলার দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণের টাকা শোধ করছেন না অধিকাংশ প্রভাবশালী ঋণগ্রহীতা।
ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশেষ করে বিগত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত একটি চক্র ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করাটা অভ্যাসে পরিণত করেছে। তাঁদের কাছ থেকে ঋণ আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ব্যাংকগুলো অর্থঋণ আদালতের দ্বারস্থ হয়। এভাবে বাড়তে থাকে অর্থঋণ আদালতে মামলার সংখ্যা ও আটকে থাকা অর্থের পরিমাণ।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘খালেদা জিয়া এখন মানসিকভাবে চাঙ্গা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মানসিকভাবে বেশ চাঙ্গা রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আগের চেয়ে সুস্থবোধ করলেও এখনো শারীরিকভাবে বেশ দুর্বল। বিএনপি তার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেও দীর্ঘ ভ্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় ছাড়পত্র দিতে রাজি নন চিকিৎসকরা। ফলে তার বিদেশযাত্রা আপাতত হচ্ছে না।
বিএনপিসংশ্লিষ্ট একাধিক নেতা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চেয়ারপারসনের জন্য আইসিইউ ও সিসিইউ সুবিধাসহ চার্টার্ড এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বুকিং করা রয়েছে। তার জন্য দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড অনুমতি দিলেই বাকি কাজ দ্রুত শেষ করা হবে।
বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একজন রোগীকে বিমানে করে নিতে হলে অক্সিজেন লেভেল, রক্তচাপ প্রভৃতি বিষয় বিবেচনায় চিকিৎসকরা ছাড়পত্র দেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। বাংলাদেশের চিকিৎসকদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসকরাও তার জন্য গঠিত বোর্ডে যুক্ত রয়েছেন। তারা অনুমতি দিলেই তাকে বিদেশে নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘এ ধরনের চিকিৎসা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিতে ভালো হয়। চিকিৎসকরা তিনটি দেশের সঙ্গেই কথা বলে রেখেছেন। ভ্রমণ ও স্বাস্থ্য বিবেচনায় চেয়ারপারসনের জন্য যে দেশ ভালো হবে, সেখানেই নেওয়া হবে।’
ডেইল স্টার
দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘International Crimes Tribunal reconstituted’ অর্থাৎ ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধকারীদের বিচার শুরু করতে সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করেছে। সোমবার ট্রাইব্যুনালে চেয়ারম্যান ও দুই সদস্যকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারকে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। এছাড়া বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীকে সদস্য করা হয়েছে।
গত ৮ই অক্টোবর হাইকোর্টে নিয়োগ পাওয়া ২৩ জন অতিরিক্ত বিচারপতির মধ্যে ছিলেন বিচারপতি মর্তুজা ও বিচারপতি শফিউল।
ট্রাইব্যুনাল দুই-এক দিনের মধ্যে পুরোপুরি সক্রিয় হবে বলে জানান আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে ট্রাইব্যুনাল বসবে।
নয়া দিগন্ত
‘সিন্ডিকেটের কারসাজি’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ডিমের বাজার নিয়ে সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সরকারি দামে ডিম কিনতে না পারা, রসিদ না দেয়া ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানার অজুহাতে ডিম বিক্রি বন্ধ রেখেছেন রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের আড়তদাররা। এতে দেশের গ্রাহকরা ডিম ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তেজগাঁওয়ের ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তাদের ডিম কিনতে হচ্ছে। কিন্তু কেনা দামের ভিত্তিতে তা বিক্রি করতে পারছেন না। সরকার নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। তাই ভোক্তা অধিদফতরের অভিযান ও জরিমানার ভয়ে তারা মুরগির ডিম বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। ফলে গতকাল রাতে তেজগাঁওয়ে ডিমের কোনো গাড়ি আসেনি; কোনো ডিমও বিক্রি হয়নি।
গতকাল রাজধানীর তেঁজগাও ডিমের আড়তে গিয়েদেখা যায় রোববার রাতে ডিমের আড়তে কাক্সিক্ষত বেচা-কেনা হয়নি। অনেক আড়তই বন্ধ ছিল। এই সুযোগে ডিমের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন মহল্লার খুচরা ব্যবসায়ীরা। তারা ক্রেতাদের কাছে এক হালি ডিম ৬৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন। ডজন বিক্রি করছেন ১৯০ টাকা পর্যন্ত।
