রিসেট

পুঁজিবাজারে ইসলামী লেনদেন চালুর চিন্তা

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর (সোমবার), ২০২৪ Archive 2022Source: অর্থনৈতিক রিপোর্টার

ইসলামী শরীয়াহভিত্তিক কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচার জন্য ইসলামী ক্যাপিটাল মার্কেট নামে নতুন একটি লেনদেন প্ল্যাটফরম চালু করার চিন্তা করছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। নতুন প্ল্যাটফরম হবে অনেকটা ডিএসই’র এসএমই বা অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডের (এটিবি) লেনদেনের মতো। এই প্ল্যাটফরম থেকে শেয়ার কেনাবেচার ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে শুরু করে ব্রোকারেজ হাউজ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে শরীয়াহভিত্তিক পৃথক লেনদেন ব্যবস্থা অনুসরণ করতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সব ধরনের লেনদেন পরিচালনা করতে হবে। তবে একই শেয়ার মূল লেনদেন বোর্ডেও থাকবে। 
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ প্ল্যাটফরমে শুধু শরীয়াহ? ধারায় ব্যবসা পরিচালনা করে, এমন তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা হবে। একইভাবে শরীয়াহ বন্ডও কেনাবেচার সুযোগ থাকবে।
বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে যেগুলো শরীয়াহভিত্তিক ব্যবসা ও সার্বিক লেনদেন পরিচালনা করে, বিশ্বখ্যাত আর্থিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি’র ফর্মুলা অনুযায়ী ডিএসই এসব কোম্পানির শেয়ার নিয়ে ডিএসইএস নামে শরীয়াহ সূচক গণনা করছে। তবে এ সূচকে কোন শেয়ারগুলো অন্তর্ভুক্ত, তা প্রকাশ করে না। চাইলে অর্থের বিনিময়ে ডিএসই’র কাছ থেকে কেনা যায়। নতুন ইসলামিক লেনদেন বোর্ড চালু হলে শরীয়াহভিত্তিক শেয়ার ও বন্ডের তালিকা উন্মুক্ত থাকবে।
পৃথক ইসলামিক লেনদেন বোর্ড করার কারণ জানতে চাইলে স্টক এক্সচেঞ্জের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, ইসলাম ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও রীতি অনুযায়ী সব লেনদেন সুদবিহীন হওয়া বাধ্যতামূলক। বর্তমানে কেউ যখন শরীয়াহ সূচকভুক্ত শেয়ার কিনছেন, তার বিনিয়োগ হয়তো শরীয়াহ? মাফিক হলো। কিন্তু তিনি যে লেনদেন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিনিয়োগ করলেন, তা শরীয়াহ মাফিক হবে তার নিশ্চয়তা নেই। যেমন, যে ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচা করছেন, যে ব্রোকারেজ হাউজ হয়তো সুদভিত্তিক ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করছে। একইভাবে স্টক এক্সচেঞ্জসহ অন্য বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান হয়তো সুদভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। ইসলামিক লেনদেন প্ল্যাটফরম হলে ব্রোকারেজ হাউজ থেকে স্টক এক্সচেঞ্জকে এই লেনদেন বোর্ডের মাধ্যমে কেনাবেচায় সম্পৃক্ত সবাইকে পৃথক শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকে পৃথক অ্যাকাউন্ট রাখতে হবে, যাতে এ সংক্রান্ত সব অর্থ আলাদা রাখা যায়। এমনকি বিনিয়োগকারীকেও ইসলামী শরীয়াহ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে করতে হবে।
কতোদিনের মধ্যে এই প্ল্যাটফরম হবে জানতে চাইলে ডিএসই’র ওই কর্মকর্তা জানান, এজন্য নাসডাক স্টক এক্সচেঞ্জের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ম্যাচিং ইঞ্জিন দিয়ে লেনদেন ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা হচ্ছে। নাসডাক তাতে রাজি হয়েছে। ডিএসই’র নতুন পরিচালনা পর্ষদে বিষয়টি উপস্থাপন হবে বলে জানান তিনি।