ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কুলিং টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের জেরে বাতাসে তেজস্ক্রিয়তা ছড়াতে পারে বলে আশঙ্কা ! যদিও ইউক্রেন, রাশিয়া ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানায়, আগুন লাগার ঘটনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা বেড়ে যাওয়া বা পরমাণু সুরক্ষায় খারাপ প্রভাব পড়েছে, এখনো এমন কিছু শনাক্ত করা যায়নি। এদিকে জাপোরিঝিয়া পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন লাগা নিয়ে দোষারোপের পালা শুরু হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। ইউক্রেন এবং রাশিয়া দু’পক্ষই এই অগ্নিকাণ্ডের দায় অস্বীকার করেছে। এইসঙ্গে পরস্পরের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অভিযোগ, রুশ সেনাই ওই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, রুশ দখলদাররা এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটায়। তারা ইউক্রেনের ওপর এর দায় চাপিয়ে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করছে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা স্বাভাবিক আছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। সেখানকার প্রেস সার্ভিসও একই তথ্য জানিয়েছে। যদিও জ়াপোরিঝিয়া পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের মস্কো-নিযুক্ত প্রধান ভ্লাদিমির রোগোভ এবং জাপোরিঝিয়ার রুশ গভর্নর ইয়েভজেনি বালিটস্কি এ ঘটনার জন্য ইউক্রেনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে নিয়োজিত আইএইএর বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সেখানে পরমাণু সুরক্ষায় কোনো খারাপ প্রভাব পড়েনি। জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ২০২২ সাল থেকে রাশিয়ান সৈন্য এবং কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুই বছরের বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এখনও পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং তার আশপাশের অঞ্চল রাশিয়ার দখলে। উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরুতে ছয় চুল্লির পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল রাশিয়া। সেই সময় ক্ষয়ক্ষতির কারণে ব্যাহত হয়েছিল শক্তি উৎপাদন। রবিরার রাতের অগ্নিকাণ্ডের পরে জাপোরিঝিয়ার ছ’টি চুল্লির সব ক’টিই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে রাশিয়া জানিয়েছে।
সূত্র : বিবিসি
