বিকাল ৫টা। আনন্দ সবার মনে। নেচে গেয়ে বগুড়ার রথযাত্রায় অংশ নেয় কয়েক হাজার পুণ্যার্থী হিন্দু ধর্মানুসারী নর-নারী। শহরের স্টেশন সড়কে সেউজগাড়ী ইসকন মন্দির থেকে শুরু হয়। গলি রাস্তা থেকে মূল সড়কে উঠতেই কালের বাজার নামক স্থানে এসে রথের লম্বা চূড়া বেঁধে যায় বিদ্যুতের তারে। সঙ্গে সঙ্গেই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বিদ্যুতায়িত হয়ে রাস্তায় পড়ে যায় অর্ধশত লোক। তাদের মধ্যে ২০-৩০ জন গুরুতর আহত হন। এদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে ৫ জন মারা যান। মৃত্যু সংখ্যা আরও বড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিহতরা হলেন- আদমদীঘি উপজেলার নরেশ মহন্ত (৬৫), শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইলের রঞ্জিত মহন্ত (৬০), পুরান বগুড়ার আতশী রানী (৪০), অলোক এবং একজন মহিলার পরিচয় জানা যায়নি। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ সায়হান ওলিউল্লাহ।
এমন মর্মান্তিক ঘটনার খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে পুরো বগুড়া শহরে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তায় রক্তের দাগ লেগে আছে। অসংখ্য জুতা-স্যান্ডেল পড়ে আছে। শত শত মানুষ ভিড় করছে সেখানে। পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তৎপর। শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহতদের নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভেতর থেকে একের পর এক পরিবারের সদস্যরা আহাজারি করতে করতে বেরিয়ে আসছেন। এম্বুলেন্সের হর্ন আর ডাক্তারদের দৌড়াদৌড়িতে হাসপাতালের দৃশ্য পরিবর্তন হয়ে যায়। চিকিৎসকরা আহতদের বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে একের পর এক মৃত্যুর খবর আসতে থাকে। স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। কেউ কান্না করছেন, আর কেউ সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছেন। দীর্ঘদিনের সহযাত্রীদের চোখের সামনে হারিয়ে ফেলার যন্ত্রণা কোনোভাবেই কমানো যাচ্ছে না। পরিবারের কাছের সদস্য হারিয়ে নির্বাক অনেকেই।
ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের পাশাপাশি বগুড়া জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম হাসপাতালে ছুটে যান আহতদের চিকিৎসার খোঁজ নিতে। এসময় তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাটি মর্মান্তিক। বিকাল পাঁচটার কিছু পরেই শহরের সেউজগাড়ী এলাকার কালের বাজারে ঘটনাটি ঘটেছে।
