ঢাকা, ২৩ জুলাই ২০২৪, মঙ্গলবার, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৬ মহরম ১৪৪৬ হিঃ

অনলাইন

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলে যুদ্ধ

হাজার হাজার রোহিঙ্গা আটকে পড়ার আশঙ্কা

মানবজমিন ডিজিটাল

(১ মাস আগে) ২১ জুন ২০২৪, শুক্রবার, ১১:০৩ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৫ পূর্বাহ্ন

mzamin

পশ্চিম মিয়ানমারের লড়াইয়ে হাজার হাজার মুসলিম-সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা আটকে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ আরাকান আর্মি নামে পরিচিত একটি শক্তিশালী সশস্ত্র জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী একটি উপকূলীয় শহরে জান্তা অবস্থানে অগ্রসর হচ্ছে, কিন্তু রোহিঙ্গারা তাদের মেনে নিতে নারাজ। আরাকান আর্মি (এএ) যারা মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলের স্বায়ত্তশাসনের জন্য লড়াই করছে, ১৬ জুন মংডু শহরের বাসিন্দাদের (যা প্রাথমিকভাবে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত) পরিকল্পিত আক্রমণের আগে রাত ৯ টার মধ্যে জায়গা ছেড়ে চলে যেতে বলে। মংডুতে আরাকান আর্মির আক্রমণ মিয়ানমার জান্তার বিরুদ্ধে মাসব্যাপী বিদ্রোহী আক্রমণের সর্বশেষতম। জান্তা ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অভ্যুত্থানে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল এবং এখন দেশের বড় অংশ জুড়ে ক্রমবর্ধমানভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। আরাকান আর্মি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘মংডুর বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণে, ইউনাইটেড লীগ অফ আরাকান/আরাকান আর্মি অবিলম্বে সমস্ত বাসিন্দাদের মংডু থেকে সরে যেতে পরামর্শ দিচ্ছে।’

জান্তার একজন মুখপাত্র এবিষয়ে জানতে চাইলে কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। মিয়ানমারের ছায়া জাতীয় ঐক্য সরকারের উপ-মানবাধিকার মন্ত্রী অং কিয়াও মো বলেছেন, লড়াই যত ঘনিয়ে আসছে মংডুতে থাকা প্রায় ৭০,০০০ রোহিঙ্গার আটকা পড়ার ঝুঁকি ততই বাড়ছে। 

রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘তাদের অন্য কোথাও যাবার কোনো জায়গা নেই।’

বাংলাদেশি  কর্তৃপক্ষ ১৭ জুন বলেছিল যে, তারা দেশের সীমান্তের দিকে রোহিঙ্গাদের নতুন কোনো আন্দোলন সম্পর্কে অবগত নয়। সেই সঙ্গে তারা  পুনর্ব্যক্ত করেছে যে তারা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের আর কোনো সদস্যকে সীমানা অতিক্রম করতে দেবে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত চাপের মধ্যে আছি।’ 

ক্রমবর্ধমান সংঘাত থেকে বাঁচতে মে মাসে হাজার হাজার রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশের দিকে পালিয়ে যায়, যদিও বাংলাদেশ আর শরণার্থী গ্রহণ করতে নারাজ। তাদের আন্দোলন মংডুর পূর্বে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে বুথিডাং শহরে এবং এর আশেপাশে যুদ্ধের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন
যেখানে আরাকান আর্মি রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করে। যদিও আরাকান আর্মি সেই অভিযোগ অস্বীকার করে। মে মাসের একটি রিপোর্টে, জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার বলেছেন যে, জান্তা এবং আরাকান আর্মি উভয়ই সাম্প্রতিক লড়াইয়ের সময় রোহিঙ্গা বেসামরিকদের সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে  ব্যর্থ হয়েছে। রোহিঙ্গাদের পক্ষে লড়াইয়ের সময় আশ্রয়ের জন্য কোথাও পালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা কয়েক দশক ধরে নিপীড়নের সম্মুখীন হচ্ছে। তাদের মধ্যে প্রায় এক মিলিয়ন ২০১৭ সালে রাখাইনে সামরিক নেতৃত্বাধীন দমন অভিযান থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে ।

সূত্র : স্ট্রেইট টাইমস

পাঠকের মতামত

রোহিঙ্গারা নিরপেক্ষ থাকাই তাদের জন্য সর্বোত্তম পন্থা । আরাকান আর্মি তাদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য ই আক্রমণ করার জায়গা থেকে সরে যেতে বলছে । কারণ যুদ্ধের গুলাগুলিতে তারা মরতে ও পারে ।

Kazi
২১ জুন ২০২৪, শুক্রবার, ১২:৪০ অপরাহ্ন

অনলাইন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

অনলাইন সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status