ঢাকা, ২৩ জুলাই ২০২৪, মঙ্গলবার, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৬ মহরম ১৪৪৬ হিঃ

মত-মতান্তর

বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন সচেতনতা দিবস

প্রবীণের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সুখ সমৃদ্ধির অগ্রাধিকার

হাসান আলী

(১ মাস আগে) ১৫ জুন ২০২৪, শনিবার, ৫:৩৯ অপরাহ্ন

mzamin

১৫ জুন বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন সচেতনতা দিবস। জাতি সংঘের আহবানে সারা পৃথিবীতে এ দিবসটি পালিত হয়ে থাকে। এ বছরের প্রতিপাদ্য হলো " ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে প্রবীণের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সুখ সমৃদ্ধির অগ্রাধিকার। "

প্রবীণ নির্যাতনের শিকার হলে তাঁর মর্যাদা হানি হয়,নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়,সুখ সমৃদ্ধি স্বপ্ন হয়ে যায়। প্রবীণ পরিবারে, সমাজে,রাষ্ট্রে নানাভাবে নির্যাতিত হয়ে থাকে। নির্যাতনের ধরন গুলো হলো শারীরিক, মানসিক, আর্থিক, আবেগিক ও যৌন নির্যাতন। আরো কিছু নির্যাতন আছে সেগুলো হলো বয়স বিদ্বেষ (এইজইজম), বর্ণ বাদ(রেসিজম), সক্ষমতাবাদ (এবেলইজম)।

শারীরিক নির্যাতন হলো, কোন কিছু দিয়ে আঘাত করা, চড় থাপ্পড়, কিল ঘুষি মারা,চুল টানা,ধাক্কা দেয়া,খাবার বন্ধ করে দেয়া কিংবা কম খাবার দেয়া।অপুষ্টিকর খাবার খেতে বাধ্য করা। ঝুঁকি পূর্ণ খাবার গ্রহণে বাঁধা না দেয়া। চিকিৎসা ওষুধ পত্র ঠিকমতো না দেয়া অথবা অহেতুক বিলম্ব করা। বিছানা পত্র, কাপড় চোপড় না দেয়া, ঘরদোর অপরিস্কার নোংরা করে রাখা, অধিক ঠান্ডা বা গরমে থাকতে বাধ্য করা।

মানসিক নির্যাতন হলো,কথা বন্ধ করে দেয়া, মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়া,বকাবকি,গালাগালি করা,পছন্দের কাজ করতে বাঁধা দেয়া,সামাজিক আনুষ্ঠানে যেতে বারণ করা, অতীতের কোন ব্যর্থতা কে নিয়ে তীর্যক মন্তব্য, ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করে নাজেহাল করা, ঘরে আটকে রাখা কিংবা ঘর থেকে বের করে দেয়া ইত্যাদি।

আর্থিক নির্যাতন হলো, টাকা পয়সা, সহায় সম্পদ হাত ছাড়া হয়ে যাওয়া।

বিজ্ঞাপন
পারিবারিক প্রয়োজনে টাকা পয়সা দিতে বাধ্য করা, জমি জমা, বাড়ি ঘরের নিয়ন্ত্রণ হারানো, ব্যাংকের চেক বই,ডেবিট, ক্রেডিট কার্ড পরিবারের সদস্যদের হাতে চলে যাওয়া,ছেলে মেয়ের বিয়ে শাদী,ব্যবসা বাণিজ্য,লেখা পড়ায় টাকা দিতে বাধ্য করা,। ইচ্ছার বিরুদ্ধে জমি ফ্ল্যাট ক্রয় বিক্রয়, করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা।নিজের ইচ্ছে মতো টাকা পয়সা খরচ করতে বাঁধা দেয়া।

আবেগিক নির্যাতন হলো, অতীতের কর্মকাণ্ড, ভুলভ্রান্তি, দায়িত্ব হীনতা, আত্মকেন্দ্রিকতা, অক্ষমতা গুলোকে কেন্দ্র করে সমালোচনা করে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করা। কি হতে পারতো আর কি করতে পারতো এ নিয়ে কথা তুলে অপ্রস্তুত করে দেয়া।শখের কাজ করার পরিবেশ নস্ট করা বা প্রতিকূল করে তোলা।

যৌন নির্যাতন হলো, সম্মতি প্রদানে অক্ষম ব্যক্তির সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন।মিথ্যা কথা বলে, প্রতারণা করে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা। গোসল টয়লেট করানোর সময় গোপনীয়তা বজায় না রাখা। যৌন কাতর স্থানে অপ্রয়োজনে স্পর্শ করা। আদি রসাত্মক গল্প বলে বিব্রত করা।যৌন ইংগিত পূর্ণ আলোচনায় থাকতে বাধ্য করা।

বয়স বিদ্বেষী আচরণ হলো, বয়সের কারণে কাউকে কাজ না দেয়া কিংবা কাজ থেকে বাদ দেয়া। শুধু মাত্র বয়সের দোহাই দিয়ে কারো দক্ষতা, যোগ্যতা,অভিজ্ঞতা জ্ঞান কে অবহেলা অসম্মান করা।

বর্ণবাদ হলো একধরনের মানসিক অবস্থান যা থেকে মানুষ মানুষের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করে থাকে। প্রবীণ জীবনে বর্ণবাদ খুব বেশি যন্ত্রণাদায়ক। প্রবীণরা শারীরিক ও মানসিক ভাবে দুর্বল থাকায় বর্ণবাদ গোঁদের উপর বিষ ফোঁড়ার মতো হয়েছে। কে কোন বংশের বা কোন এলাকার লোক এসব বিবেচনায় নিয়ে পক্ষপাত মূলক আচরণ করে। কোন এলাকার লোক কতো ভালো কিংবা কতো খারাপ এসব নিয়ে বিতর্ক এখনো বিদ্যমান রয়েছে। কে কি বিশ্বাস করে, কেমন জীবন যাপন,চলাফেরা করে সেটা নিয়ে নানান রকমের সমালোচনা প্রবীণ জীবন কে অতিষ্ঠ করে তোলে।

সক্ষমতাবাদ হলো সক্ষম সমাজের মানুষেরা অক্ষম সমাজের মানুষের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করা।সক্ষম সমাজ প্রতিবন্ধী জীবনকে কম মূল্যবান, কম গ্রহণ যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে। প্রবীণরা বয়সের সাথে সাথে সক্ষমতা হারাতে থাকে। চলাচল সীমিত হয়ে যায়। চোখ, কানের সমস্যা তৈরি হয়। শারীরিক সক্ষমতা দিন দিন কমতে থাকে। নানান ধরনের অসুখ বিসুখে কাহিল করে দেয়। সক্ষমরা তা্ঁদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়,দয়া,কৃপা, অনুগ্রহ করে। এটাও প্রবীণমর্যাদা সম্মানের সাথে যায়না।

আমাদের প্রবীণরা সারা জীবন পরিবার পরিজনের সুখ সমৃদ্ধি জন্য কাজ করছেন। পরিবারের সদস্যদের ভালোর জন্য, শান্তির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। বার্ধক্যে এসে সেই পরিবারের সদস্যদের দ্বারা নির্যাতন,নিপীড়ন, অসম্মান, অবহেলার শিকার সবচেয়ে বেশি হন।

আমাদের প্রবীণরা একসময় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে ভূমিকা রেখেছেন।জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সুখ সমৃদ্ধির অগ্রাধিকার অবশ্যই প্রাপ্য। মর্যাদা হারিয়ে প্রবীণরা কোন কিছুই পেতে চান না। প্রবীণের মর্যাদা নিশ্চিত করতে পারলে ভবিষ্যতে যাঁরা প্রবীণ হবেন তাঁরা মর্যাদা নিয়ে চিন্তিত হবেন না বরং স্বস্তি তে থাকবেন। প্রবীণরা প্রায় সবসময় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি চিন্তিত হয়ে যান।মাদকাসক্ত ছেলে মেয়ে, নিকটতম আত্মীয় স্বজন,গৃহকর্মী, দারোয়ান, কেয়ার গিভার, কেয়ার টেকারের হাতে অনেক সময় প্রবীণদের মৃত্যু ঘটে যাবার সংবাদ গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব সংবাদ প্রবীণদের মধ্যে আতংক তৈরি করে। যে সকল

প্রবীণের টাকা পয়সা, সহায় সম্পদ তুলনামূলক ভাবে বেশি তাঁরা নিরাপত্তা হীনতায় ভোগেন।

প্রবীণের সুখ সমৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য বেশ সহায়ক, সমাজের জন্য কল্যাণকর।প্রবীণরা সুখে থাকলে তাঁদের অসুখ বিসুখ তুলনামূলক ভাবে কম হবে। অভিযোগ নালিশ অনুযোগ রাগ ক্ষোভ তুলনামূলক ভাবে কমে যাবে। ছেলে মেয়েরা নিশ্চিন্ত মনে কর্মক্ষেত্রে মনোনিবেশ করতে পারবে।একটা ন্যায় ভিত্তিক সমাজ গঠনের মাধ্যমে প্রবীণের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সুখ সমৃদ্ধির অগ্রাধিকার দেয়া সম্ভব। সেই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে আরো বেগবান করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ন্যায় ভিত্তিক সমাজ গঠন ছাড়া কিছুতেই প্রবীণ নির্যাতন নিপীড়ন বন্ধ করা সম্ভব হবে না তবে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে কিছু দমানো কিংবা নিয়ন্ত্রণ করা করা সম্ভব হবে।

মত-মতান্তর থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সবদলই সরকার সমর্থিত / ভোটের মাঠে নেই সরকারি দলের প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো বিরোধীদল

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status