রিসেট

ফ্ল্যাটের সেপটিক ট্যাংকে মিললো আনারের দেহাংশ

প্রকাশিত: ২৯ মে (বুধবার), ২০২৪ Archive 2022Source: শুভ্র দেব

ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজিম আনারের মরদেহের অংশ বিশেষের সন্ধান মিলেছে। সঞ্জীবার যে ফ্ল্যাটে তাকে হত্যা করা হয়েছিল তার সেপটিক ট্যাংকে তার মরদেহের অংশ বিশেষ পাওয়া গেছে। ঢাকার ডিবি’র তদন্ত টিমের তথ্যমতে কলকাতার গোয়েন্দারা সেপটিক ট্যাংক ভাঙার উদ্যোগ নেন। তার মরদেহের টুকরো করা কিছু মাংস উদ্ধার করেন। এখন সেগুলো ডিএনএ পরীক্ষা করে আনারেই শরীরের মাংস কি না সেটি মিলিয়ে দেখবেন। তার আগে সকালে ডিএমপি’র ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ কলকাতার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঞ্জীবার সুয়ারেজ লাইন ও সেপটিক ট্যাংকে তল্লাশি অভিযান চালানোর কথা বলেন। পরে কলকাতার গোয়েন্দারা তল্লাশির ব্যবস্থা করে আশানুরূপ ফল পান। কলকাতায় অবস্থানরত ডিএমপি’র ডিবি ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাহিদুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, আমাদের দেয়া তথ্যমতে সেপটিক ট্যাংক ও সুয়ারেজ লাইন ভাঙা হয়। পরে কিছু মাংস উদ্ধার করা হয়। তবে সেগুলো আনারের শরীরের অংশ কি না সেটি ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল না আসা পর্যন্ত বলা ঠিক হবে না। 
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এমপি আনারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম করার জন্য কসাই জিহাদকে দিয়ে টুকরো টুকরো করানো হয়। হাড় থেকে মাংস আলাদা করা হয়। পরে আনারের শরীরের মাংসগুলো ওই ফ্ল্যাটের বাথরুম দিয়ে ফ্ল্যাশ করা হয়। যেগুলো সুয়ারেজ লাইন দিয়ে সেপটিক ট্যাংকে চলে যায়। আর হাড়গুলো হাতিরশালা কাঠেরপুল এলাকার বর্জ্য খালে ফেলা হয়। ধারণা করা হচ্ছে হাড়গুলো ময়লা ও কাঁদার সঙ্গে মিশে গিয়েছে। আর মাংসগুলো সেপটিক ট্যাংকে গিয়ে জমা হয়েছে। বেশ কয়েকদিনের পুরাতন হওয়াতে সেগুলোতে পচন ধরেছে। তবে ডিবি’র তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলেছেন সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার হওয়া অংশ বিশেষ নিয়েই তারা বসে থাকবেন না। তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে কলকাতায় গ্রেপ্তার জিহাদ ও ঢাকায় রিমান্ডে থাকা আমানুল্যা সাইদের দেয়া তথ্যমতেই তারা অভিযান পরিচালনা করবেন।  

এদিকে আনার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অনেক প্রশ্নের হিসাব মিলছে না। এখন পর্যন্ত ঘাতকরা এই হত্যাকাণ্ড কেন ঘটিয়েছে সেটিও এখনো পরিষ্কার করা হয়নি তদন্তসংশ্লিষ্ট ডিবি’র তরফ থেকে। বলা হচ্ছে আধিপত্য বিস্তার, স্বর্ণ ও চোরাচালান ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বসহ আরও একাধিক কারণ। এ ছাড়া ২০০৮ সালে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এম এল লাল পতাকা) প্রধান নেতা ডা. মিজানুর রহমান টুটুল হত্যাকাণ্ডের বিষয়ও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আনার হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছোটখাটো কোনো বিষয় জড়িত নয়। প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করা তিনবারের এমপি হত্যার পেছনে বড় ধরনের কারণ লুকিয়ে আছে। এখানে স্বর্ণ চোরকারবারি মাফিয়া সিন্ডিকেটের বেশ কয়েকজনের নাম পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। রিমান্ডে থাকা আমানুল্যার কাছ থেকে কিছু ক্লু ও কয়েকজনের নাম পেয়ে যাচাই-বাছাই শুরু করেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। 

তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিমান্ডে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে। তাদের দেয়া তথ্যগুলো ক্রসচেক করা হচ্ছে। এ ছাড়া আমেরিকায় পলাতক শাহীন ও নেপালে পলাতক সিয়ামকে ফেরানোর জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবি শাখার মাধ্যমে ইন্টারপোলকে চিঠি লেখা হয়েছে। তাদের ফেরাতে পারলে তদন্তে নতুন মোড় নিবে। কলকাতার পুলিশও ওই আসামিদের ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে।