ঢাকা, ১৯ জুন ২০২৪, বুধবার, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১২ জিলহজ্জ ১৪৪৫ হিঃ

রাজনীতি

বর্তমান সরকার ভারতের কাছে অত্যন্ত দুর্বল: মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার

(১ মাস আগে) ১৬ মে ২০২৪, বৃহস্পতিবার, ৪:৪৫ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১২:৪৬ অপরাহ্ন

mzamin

বর্তমান সরকার ভারতের কাছে অত্যন্ত দুর্বল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভাসানী অনুসারি পরিষদের উদ্যোগে ‘ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ফারাক্কা লং মার্চের দিবসটি উপলক্ষ্যে’ এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, তারা (ভারত) সবসময় বাংলাদেশটাকে একটা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য তাদের সকল কাযর্ক্রম পরিচালনা করেছে। শুধু ফারাক্কা বাঁধ নয়, গঙ্গার পানি নয়, বাংলাদেশের ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানিবন্টনের ক্ষেত্রে তারা (ভারত) সবসময়ই গড়িমসি করেছে এবং তারা এই সমস্যার সমাধান করেনি, করছে না। তিস্তা নদীর পানি আপনারা সবাই জানেন, দীর্ঘকাল ধরে তিস্তা নদীর পানি বন্টন নিয়ে এই চুক্তি করছি, এই হয়ে যাবে, এখন ভালো অবস্থায় আছে এই করে করে এই সরকার সময় পার করেছে। এই যে ব্যর্থতা এর মূল কারণ হচ্ছে, যে সরকার এখন আছে, সেই সরকার পুরোপুরিভাবে একটা নতজানু সরকার। তারা কখনোই জনগণের স্বার্থে যে একটা স্ট্যান্ড নেয়া, সেই স্ট্যান্ড নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ব্যর্থ হচ্ছে কারণ তারা (সরকার) তাদের (ভারত) কাছে অত্যন্ত দুর্বল।

তিনি বলেন, আমাদের সামনে আর কেনো বিকল্প পথ নেই। বাংলাদেশকে যদি আমরা রক্ষা করতে চাই, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যদি আমরা ফিরিয়ে আনতে চাই, বাংলাদেশের জনগণকে যদি আমরা রক্ষা করতে চাই, তার যে উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা, তার যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করবার যে আকাঙ্ক্ষা তা যদি আমরা রক্ষা করতে চাই তাহলে আজকে সকলের দলমত নির্বিশেষে সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে আজকে একত্র হয়ে এই ভয়াবহ দানবীয় যে সরকার, মনোস্টার যে সরকার তাদেরকে সরাতে হবে। যার একমাত্র কাজ হচ্ছে, তাদের নিজেদের বৃত্ত তৈরি করা আর অন্য দেশের যে প্রভৃত্ব সেটা মেনে নিয়ে তাদের যে স্বার্থ সেই স্বার্থ রক্ষা করা। আজকে আমাদের স্বার্থে আমাদের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।

বিজ্ঞাপন
আমাদেরকে কেউ করে দিয়ে যাবে না, আমাদের নিজেদের সেটা করতে হবে।

ফখরুল বলেন, আমি সেজন্য বলতে চাই, বাংলাদেশের মানুষকে তার অধিকার আদায়ের জন্য তাদের নিজেকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে হারিয়ে ফেলেছি, গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করছি, লড়াই করছি, আমরা সকল রাজনৈতিক দলগুলো আমরা সেই সংগ্রাম করছি, গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য। এজন্য আমাদের অনেকে প্রাণ দিয়েছেন, আমাদের অনেককে নিপীড়ন-নির্যাতন সহ্য করতে হচ্ছে। এই সরকারের নির্যাতনের কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে আটক করে রাখা হয়েছে, আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেবকে মিথ্যা মামলায় বিদেশে নির্বাসিত করে রাখা হয়েছে, ৬০ লক্ষ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে, এই ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে তিনদিনে ২৭ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখনো নিপীড়ন-নির্যাতন-গ্রেপ্তার চলছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে তিস্তা সমস্যার সমাধান হবে কি করে, অন্যান্য অভিন্ন নদীগুলোর সমস্যার সমাধান কি করে হবে? কারণ তারা তো এখানে দখলদারিত্ব করছে। তারা (সরকার) তো বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে এই সরকার ক্ষমতায় বসে আছে। এই সরকার জনগণের সরকার নয়। তারা কোনো  নির্বাচন করে না। নির্বাচন করলে তারা জানে যে, তাদের পরাজয় হবে, তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে সেই কারণে বিভিন্ন কৌশলে তারা এখানে একটা নির্বাচন দেখিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকছে।

নাগরিক ঐক্যে সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এই সরকার তো বদলাবে, আজ হোক কাল হোক বদলাবেই। কেউ কেউ মনে করেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঁচ বছর কেউ কিছু করতে পারবে না, আবার কেউ কেউ বলেন, যতদিন জীবিত আছেন তাকে নড়াতে পারবেন না। কিন্তু আমি দেখি সরকার এমনিই নড়ছে। কারণ রিজার্ভ নাই। সরকার ভয়াবহ রকমের একটা অর্থনৈতিক সংকটে আছে। সব মিলে পরিস্থিতি এরকম এই যে, এখানে মাহবুব উল্লাহ ভাই আছেন, মোস্তফা জামাল হায়দার ভাইও আছেন, আমরা একটা পরিবর্তনের কথা বলতাম। অবজেক্টিভ রিয়েলেটি কী, মানে এখানকার বস্তগত পরিস্থিতি কী, বাস্তবতা অবস্থাটা কী বিরাজ করে নাকী পরিবর্তনের পক্ষে। আমি বলি, সব দিক থেকে পক্ষে।

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, সীমান্ত হত্যা হচ্ছে, প্রতিদিন আমরা যখন বলছি, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন সর্বোচ্চ শিখরে, এটা বলেই শেষ করেনি। বলেছে কী? ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের রক্তের সম্পর্ক, রক্তের বাঁধন। তারা এই রক্তের বাঁধনের জন্য প্রতিদিন সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা করে, জীবন দিয়ে, রক্ত দিয়ে এই অসম সম্পর্কের দায় শোধ করতে হচ্ছে। খুবই লজ্জার খুবই অপমানের। নিজেদের স্বদেশী হত্যা হচ্ছে তার উপযুক্ত প্রতিবাদ পর্যন্ত হয় না। আমার এখানে লাশ ফেরত পাবো কিনা এটার জন্য পতাকা বৈঠক হয়, এটা খুব লজ্জার, দুঃখের এবং অপমানের।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, আমাদের দেশের পররাষ্ট্র নীতি বলে কিছু নেই। তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো কাজ নেই। দিল্লী আছে আমরা আছি, আমেরিকার দিল্লীকে দরকার, দিল্লীরও আমেরিকার দরকার। দিল্লী আছে, আমরা আছি, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব পরিষ্কার করে ঘোষণা করে দিয়েছেন। এরকম একটা পররাষ্ট্র নীতিতে চলা মানে হচ্ছে, বাংলাদেশ যে রাষ্ট্র রক্ত দিয়ে অর্জন করা হয়েছে একটা সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে, আজকে সেই রাষ্ট্রকে দাসত্বের দিকে পরিষ্কারভাবে ঠেলে দিয়ে আবার ঘোষণা করা হয়েছে। এটা বাংলাদেশের বর্তমান পরিণতি , ৫৪ বছরে এসে রাজনৈতিক দিক থেকে সার্বভৌমত্বের দিক থেকে আমরা দাসত্বের কবলে পড়েছি।

ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আবু ইউসুফ সেলিমের সঞ্চালনায় সভায় জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুম, জেএসডির তানিয়া রব, ভাসানী অনুসারি পরিষদের বাবুল বিশ্বাস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বক্তব্য রাখেন।
 

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

রাজনীতি সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status