তিন বছর পর জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। গতকাল বেলা ১১টায় গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। কারাফটক থেকে মামুনুল হককে বহন করা গাড়ি তার বাড়ির সামনে আসার আগেই তাকে ঘিরে ফেলেন ভক্ত ও অনুসারীরা। এ সময় তারা মামুনুল হককে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানান। পরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মামুনুল হক বলেন, আমি আজ এই মুহূর্তে আমার মুক্তি উপলক্ষে বলতে চাই, আমাদের ওপর জুলুম করা হয়েছে। এটাকে আমরা সহ্য করে নিলাম। আমাদের ভাইদেরকে হত্যা করা হয়েছে, সেটাও সহ্য করে নিলাম। আল্লাহর এই জমিনে আল্লাহর দ্বিনের ঝাণ্ডা সমন্বিত করেই আমাদের যাত্রা থামবে। নয়তো শাহাদত, নয়তো খেলাফত, ইনশাআল্লাহ্।
মামুনুল হকের মুক্তির সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কাদেরাবাদ হাউজিংয়ের বাড়ির সামনে ভিড় জমান তার হাজার হাজার ভক্ত ও অনুসারী। কারাফটক থেকে মামুনুল হককে বহন করা গাড়ি তার বাড়ির সামনে আসার অনেক আগেই তাকে ঘিরে ফেলেন ভক্ত ও অনুসারীরা। এ সময় তারা মামুনুল হককে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানান এবং ‘মামুনুল হক আসছে রাজপথ কাঁপছে, মামুনুল হকের ভয় নাই রাজপথ ছাড়ি নাই, মামুনুল হকের কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে, মামুনুল হকের আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতমসহ বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তুলেন তারা।
মামুনুল হক বলেন, এই মুহূর্তে বলতে চাই, আমাদের ওপর জুলুম করা হয়েছে। এটাকে আমরা সহ্য করে নিলাম। আমাদের ভাইদেরকে হত্যা করা হয়েছে, সেটাও সহ্য করে নিলাম। আমরা আমাদের সন্তানের লাশ কাঁধে তুলে নিয়েছি, সেটাকেও আমি হাসিমুখে বরণ করে নিলাম। আমাদের অপমান ও লাঞ্ছনার সব ধরনের ষড়যন্ত্রের সম্মুখীন হতে হয়েছে, সেটাও আমরা হাসিমুখে বরণ করে নিয়েছি। কিন্তু আল্লাহর জমিনে আল্লাহ্- রাসূলের প্রতি অসম্মান এক মুহূর্তের জন্যও আমরা বরদাস্ত করে নিবো না। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত রয়েছি। জীবন দিতে প্রস্তুত রয়েছি। আল্লাহর এই জমিনে আল্লাহর দ্বিনের ঝাণ্ডা সমন্বিত করেই আমাদের যাত্রা থামবে। নয়তো শাহাদত, নয়তো খেলাফত, ইনশাআল্লাহ্।
তিনি বলেন, আল্লাহর দ্বিনের কথা বলার অপরাধে এবং আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বিন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের অপরাধে আমরা অনেক ভাই কারারুদ্ধ হয়েছিলাম। পর্যায়ক্রমে সবাই মুক্তির জীবনে ফিরে এসেছে। আজ আমার মুক্তির মধ্য দিয়ে ২০২১ সালে হেফাজতে ইসলাম এবং এদেশের আলেম সমাজের ওপর ইতিহাসের অন্যতম এক গভীর ষড়যন্ত্র ও নির্যাতনের যে স্ট্রিম রোলার পরিচালনা করা হয়েছিল- তার একটি প্রাথমিক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটলো। অন্যায়ভাবে আমাদের কারারুদ্ধ করা হয়েছে। বুলেটের আঘাতে আমাদের ভাইদেরকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা যখন ন্যূনতম প্রতিবাদ করতে গিয়েছি তখন আমাদের কারারুদ্ধ করা হয়েছে। আমাদেরকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার নানা ধরনের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়সহ কোনো শিক্ষা ব্যবস্থায় ছাত্রদের মধ্যে ভেদাভেদ করা মামুনুল হক বিশ্বাস করে না বলেও জানান তিনি।
মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ঢাকায় এবং ঢাকার বাইরে মোট ৪১টি মামলা রয়েছে। সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারামুক্ত হলেন তিনি। সর্বশেষ গত ২৮শে এপ্রিল চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় দায়ের করা একটি মামলায় মামুনুল হক জামিন পান। তাকে ২০২১ সালের ১৮ই এপ্রিল রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ।
