ঢাকা, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, শুক্রবার, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৯ শাওয়াল ১৪৪৫ হিঃ

বাংলারজমিন

বকশীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রারের মামলায় দলিল লেখকরা পলাতক, রেজিস্ট্রি কার্যক্রম বন্ধ

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
৩ এপ্রিল ২০২৪, বুধবার

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে হামলা নথিপত্র তছনছ ও সাব-রেজিস্ট্রারকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এড়াতে সকল দলিল লেখকরা পলাতক রয়েছেন। যার দরুন জমি ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ হয়ে গেছে। বিপাকে পড়েছেন জমি ক্রেতা-বিক্রেতা। 
জানা গেছে, ২৭শে মার্চ বকশীগঞ্জ উপজেলা অফিস চলাকালীন সময়ে কতিপয় চিহ্নিত দলিল লেখক সাব-রেজিস্ট্রারের এজলাসে হামলা চালায়। এ সময় সাব-রেজিস্ট্রার তামিম খাস কামরায় নিজেকে লুকিয়ে রেখে জীবন রক্ষা করে। সংঘবদ্ধ দলিল লেখকরা অফিস কক্ষে দলিল দস্তাবেজ ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটায়। অবরুদ্ধ সাব-রেজিস্ট্রারকে পুলিশ উদ্ধার করে। তিনি ঘটনার দিন ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাত করে একটি মামলা দায়ের করেন। পরদিন সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সম্মুখ থেকে থানা পুলিশ দলিল লেখক ও মেরুরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্পাদক ইলিয়াছ আলীকে আটক করে নিয়ে যায়। 
সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুর রহমান মোহাম্মদ তামিম গত বছরের ১৫ই অক্টোবর বকশীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি যোগদানের পর অফিসের বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পান। অনিয়ম বন্ধের জন্য জমি ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছে অতিরিক্ত ফি আদায় তাদেরকে নাজেহাল না করার বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেন।

বিজ্ঞাপন
৭টি অনৈতিক দাবি না করার বিষয়ে অফিস আদেশে উল্লেখ করেন। দলিল লেখক সমিতির নামে সেবা গ্রহীতার কাছে কোনো প্রকার টাকা-পয়সা নেয়া যাবে না। এ ছাড়াও স্মরণশক্তি হতে দলিল লিখন ও তার রেজিস্ট্রির বিষয়ে যাবতীয় সহায়তাকল্পে প্রতি ৩শ’ শব্দ বা তার অংশ বিশেষের জন্য ১৫ টাকা হারে নিতে পারবেন। এসব বিভিন্ন আদেশ জারি করেন। বিষয়গুলো নিয়ে দলিল লেখকরা খুশি হতে পারেননি। বিষয়গুলো নিয়ে ইতিপূর্ব সাব-রেজিস্ট্রারের অপসারণের দাবি করে দলিল লেখকরা কর্ম বিরতি করে আসছিলেন।
তামিম এজলাসে দলিল রেজিস্ট্রি করার সময় পার্শ্ববর্তী দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সাপমারি কলেজপাড়ার মোহাম্মদ ইদ্রিস আলীর স্ত্রী রেহানা বেগম (৪০) দাতা হিসাবে দলিল লেখক মো. শহীদুল্লাহ কর্তৃক (দানপত্র দলিল) ঘোষণা দলিল এজলাসে উপস্থাপন করেন। দাতার শুনানি কালে দাতা স্বীকার করেন যে, জমির সমুদয় টাকা বুঝে পেয়েছেন। বকশীগঞ্জ উপজেলার চরকা উড়িয়া মৌজার চন্দ্রের বন্দ তিনানি পাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনের স্ত্রী তার বোন রুবিনা আক্তার (৪৬)কে দান করবেন। এ সময় রেজিস্ট্রার বলেন, টাকা বুঝে পেলে সেটা দানপত্র হয় না। সাব কাওলা ক্রয় জমি করতে হয়। দলিল হেবা করলে সরকার রাজস্ব পায় ২ হাজার ১০ টাকা। অপরদিকে সাব কওলা করিলে সরকার রাজস্ব পায় প্রায় চার লাখ টাকার বেশি। একই দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মোহাম্মদ আলী আহসান (৬০) একইভাবে ঐ দলিল পুনরায় এজলাসে দাখিল করলে সাব-রেজিস্ট্রার আবারো দলিলদাতার শুনানি কালে আগের মতোই টাকা পেয়েছেন বলে বিক্রেতা স্বীকার করেছেন। এ সময় লেখকরা দলিল করার জন্য জোরাজোরি করেন। সাব-রেজিস্ট্রার কাওলা দলিল হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন। যেহেতু এটি ক্রয় করেছে। ক্রয়কৃত দলিল হেবা দলিল হবে না। এ নিয়ে হট্টগোলের সৃষ্টি হয় বলে জানান সাব- রেজিস্ট্রার আব্দুর রহমান মোহাম্মদ তামিম।

 

বাংলারজমিন থেকে আরও পড়ুন

   

বাংলারজমিন সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status