রিসেট

জীবননগরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা

প্রকাশিত: ৩০ মার্চ (শনিবার), ২০২৪ Archive 2022Source: দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ইউপি মেম্বার আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে টিসিবি’র পণ্য আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন স্থানীয় তিন সাংবাদিক। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। 
হামলার শিকার হওয়া সাংবাদিকরা হলেন-  মাইটিভি ও স্থানীয় দৈনিক সময়ের সমীকরণ প্রতিনিধি মিঠুন মাহমুদ (৩১), দৈনিক খোলা কাগজের প্রতিনিধি মো. আজিজুর রহমান ডাবলু (৩৫) ও গ্রামের কাগজের প্রতিনিধি মো. তুহিনুজ্জামান তুহিন (২৮)। এ ঘটনায় ওই দিন রাত ৯টায় মিঠুন মাহমুদ বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে জীবননগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান সাংবাদিক মিঠুন, ডাবুল ও তুহিন। এ সময় মেম্বারের বাড়ির রান্নাঘরে টিসিবি’র দুই বস্তা চাল ও বেশ কয়েক বোতল তেল পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ইউপি মেম্বার আব্দুর রশিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি গালাগালি করে তাদের ওপর চড়াও হন। পরে তার নেতৃত্বে ভাই তরিকুল ইসলাম তরি, আমির হামজা অঙ্কন, মো. হাসিবুর রহমান সুমনসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন হামলা চালায়। এ সময় ক্যামেরা, মাইক্রোফোন বুম ও মোবাইল ভাঙচুর করে তারা।
স্থানীয়রা জানান, ইউপি মেম্বার আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের রেকর্ড রয়েছে। গর্ভকালীন ভাতার কার্ড করে দেয়ার নাম করে ভুক্তভোগী অনেক নারীর কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে কার্ড বাণিজ্য করেছেন। তার কাছে নাগরিক সেবা নিতে গেলে তিনি টাকা দাবি করেন। মিঠুন মাহমুদ বলেন, আমরা তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে গিয়েছিলাম। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মেম্বার আব্দুর রশিদের স্ত্রী বলেন, তার স্বামী টিসিবি’র পণ্য তুলে এনে রান্নাঘরে রেখেছেন। আমরা রান্নাঘরে গিয়ে টিসিবি’র দুই বস্তা চাল আর বেশ কয়েক বোতল তেল দেখতে পাই। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ ক্ষিপ্ত হয়ে গালাগালি করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার নেতৃত্বে ৭-৮ জন আমাদের ওপর হামলা চালায় ও সংবাদ সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত ক্যামেরা, বুম, মাইক্রোফোন ও মোবাইল ভাঙচুর করে। 
বিষয়টি অস্বীকার ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ বলেন, ‘টিসিবি’র ডিলারদের কাছ থেকে অনেকজন তেল ও ডাল নিলেও চাল নেয়নি। আমি সেখান থেকে দুই বস্তা চাল কিনে এনেছিলাম এলাকার গরিব মানুষকে দেয়ার জন্য। ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, ঘটনাটি তিনি এখনো শোনেননি। তিনি খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। জীবননগর থানার ওসি এস এম জাবীদ হাসান বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দেখবো। মামলা নেয়ার মতো হলে রেকর্ড করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসিনা মমতাজ বলেন, আমি বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। এ বিষয়ে আমি খোঁজ নিচ্ছি। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।