সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় সরকারি জায়গা থেকে অবৈধভাবে এস্কেভেটর মেশিন (ভেকু) দিয়ে মাটি লুট করে নেয়ার ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন সাংবাদিক অতর্কিত হামলার শিকার হয়েছেন। আহত সাংবাদিকরা হলেন ধর্মপাশা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি, দৈনিক মানবজমিন-এর উপজেলা প্রতিনিধি মো. ইসাক মিয়া, প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক, দৈনিক তৃতীয়মাত্রা’র উপজেলা প্রতিনিধি নূর রহমান তুষার ও দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি মিঠু মিয়া। গতকাল দুপুর একটার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। জানা যায়, উপজেলার সেলবরস ইউনিয়নের ফুলুর গ্রামের সামনে সরকারি জায়গা থেকে অবৈধভাবে জমি গর্ত করে এস্কেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাটি লুট করে নিচ্ছে একটি চক্র। গত শুক্রবার এই চক্রদের অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে উপজেলা প্রশাসন (ভূমি) ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এরপরও তাদের মাটি লুট করা বন্ধ হয়নি। গতকাল এই চক্ররা আবার একই স্থানে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নিচ্ছিলো। এ সময় তিন সাংবাদিক মাটি কেটে নেয়ার ছবি তুলতে গেলে ভেকু মেশিন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা উত্তর বীর গ্রামের মোমেন, সলপ গ্রামের হিরণ মিয়াসহ সংঘবদ্ধ একটি চক্র সাংবাদিকদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় এবং অতর্কিত হামলা করে আহত করে। একপর্যায়ে এখান থেকে কোনো রকম তাদের কবল থেকে বেঁচে বাদশাগঞ্জ বাজারের শামসুন্নাহার মার্কেটে আশ্রয় নেন তিন সাংবাদিক। কিছুক্ষণ পর কিছু বুঝে ওঠার আগেই ১০-১৫ জনের একটি গ্রুপ ওখানেও তাদের ওপর আবার হামলা করে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। ধর্মপাশা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সামছুদ্দোহা বলেন, সরকারি জায়গায় থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে নেয়ার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় তিন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। পুলিশ তাদের কবল থেকে দ্রুত উদ্ধার করেছে। তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
