ঢাকা, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, বৃহস্পতিবার, ১২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৫ শাওয়াল ১৪৪৫ হিঃ

দেশ বিদেশ

জজ কোর্টের জায়গা বায়োবীয় লিজ, বন্ধ হয়নি নির্মাণকাজ

প্রতীক ওমর, গাইবান্ধা থেকে ফিরে
৪ মার্চ ২০২৪, সোমবার

গাইবান্ধা জেলা জুড়ে আলোচিত সমালোচনা দানা বাঁধতে শুরু করেছে। পুরাতন জজ কোর্টের জায়গায় বায়োবীয়ভাবে লিজ দেয়া হয়েছে এবং সেখানে মার্কেট নির্মাণ চলছে। আইনগত কোনো প্রক্রিয়া না মেনেই সরকারের ওই জায়গাটিতে মার্কেট করার নামে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ তোলা হয়েছে সচেতন রাজনীতিবিদদের পক্ষ থেকে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলেও থেমে নেই নির্মাণ কার্যক্রম। 
ওদিকে বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো আন্দোলনে নেমেছে গাইবান্ধার বাম রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তারা গেল কয়েকদিন আগে একটি লিখিত বিবৃতিও দিয়েছেন। সেখানে তারা উল্লেখ করেছেন ‘কয়েকদিন আগে থেকে গাইবান্ধা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পুরাতন জজ কোর্টের জায়গা দখল-বেদখল শুরু হয়েছে। সেখানে অনেক মূল্যবান গাছ ছিল সেগুলোও কাটা হয়েছে। কোনো প্রক্রিয়ায়, কীভাবে জায়গাটি লিজ দেয়া হয়েছে তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। জায়গাটি দখল করে মার্কেট নির্মাণ এবং গাছ কেটে হরিলুট করার পরও আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান-জায়গাটির তত্ত্বাবধায়ক জেলা ও দায়রা জজ আদালত কর্তৃপক্ষের নির্বিকার ভূমিকা জনমনে প্রশ্ন তুলেছে। এমন কর্মকাণ্ডে আমরা গভীর উদ্বেগের মধ্যে আছি।’
শুধু বিবৃতি দিয়েই থেমে যাননি তারা।

বিজ্ঞাপন
বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রণালয় পর্যন্ত যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণ বন্ধে আগামী ১৩ তারিখ তারা শহরে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড আমিনুল ইসলাম গোলাপ। তিনি মানবজমিনকে বলেন, ‘জায়গাটির তত্ত্বাবধায়ক জেলা ও দায়রা জজ আদালত কর্তৃপক্ষ। জায়গাটি লিজ দেয়ার ক্ষেত্রে জজ সাহেব চরম অব্যবস্থাপনা করেছেন। আইনের লেশমাত্র ফলো করেননি তিনি। জায়গাটি লিজ দেয়ার আগে নাকশা করে পত্রিকার মাধ্যমে টেন্ডার দেয়া উচিত ছিল না? তা না করে তিনি ইচ্ছেমতো জায়গাটি বিভিন্নজনকে বরাদ্দ দিয়েছেন। আমরা এই অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। আইনগত প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পাশাপাশি মানববন্ধনের আয়োজনও করেছি।’ 
সরজমিন গিয়ে দেখা যায় গাইবান্ধার কাচারি বাজারের পুরাতন জজ কোর্টের জায়গাটিতে দ্রুত গতিতে নির্মাণকাজ অব্যাহত আছে। কীভাবে কোন প্রক্রিয়ায় জায়গাটিতে মার্কেট নির্মাণ হচ্ছে সে বিষয়ে  কেউ মুখ খুলতে নারাজ। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন জায়গাটি যেভাবে লিজ দেয়া হয়েছে তাতে আইনগত কোনো ভিত নেই। এভাবে কেউ জায়গাটি হস্তান্তর করতে পারে না। অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে গাইবান্ধা জেলার উপজেলা পর্যায়ের কিছু লোকজনও ওই কারবারে সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত। জায়গাটি এভাবে অবৈধ লিজ দেয়ার পেছনে আরও কারা জাড়িত আছেন সে বিষয়ে মানবজমিনের বিশদ অনুসন্ধান চলমান। 
তবে সচেতন মহল মনে করছেন যেভাবেই হোক জায়গাটি যারা অর্থের বিনিময়ে লিজ নিচ্ছেন তারা হয়তো ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কারণ কৌশলে  কারবারিরা ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে শর্ত দিয়ে জায়গাটি হস্তান্তর করছেন। ওই শর্তে লেখা আছে  কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন হলে জায়গাটি সঙ্গে সঙ্গে ছেড়ে দিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টাও করে সম্ভব হয়নি।

 

দেশ বিদেশ থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

   

দেশ বিদেশ সর্বাধিক পঠিত

Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status