ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে যুক্ত হলো বিশ্বব্যাংক

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | ২০১৫-০৬-১৭ ৯:২৬
পানিসম্পদ নিয়ে ১০০ বছরের পরিকল্পনা (ডেল্টা প্ল্যান) বাস্তবায়নে যুক্ত হলো বিশ্বব্যাংক। এ লক্ষ্যে গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ সরকার, নেদারল্যান্ডস সরকার ও বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন ২০৩০ ওয়াটার রিসোর্স গ্রুপ (ডব্লিউআরজি)-এর মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে ডেল্টা প্ল্যানে যুক্ত হলো বিশ্বব্যাংক। সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরের দিন থেকে কার্যকর হবে এবং তিন বছর মেয়াদে থাকবে। তবে স্বাক্ষরকারী কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতিসাপেক্ষে পরবর্তী সময়ে এর কার্যক্রম বাড়ানো যাবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, নেদারল্যান্ডসের ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন মিনিস্টার লিলিয়েন পলিউমেন, বিশ্বব্যাংকের পক্ষে প্রোগ্রাম লিডার লিয়া সির্গাট এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আইএসসি ২০৩০ ওয়াটার রিসোর্স গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ডারস ব্যারেনটেল নিজ নিজ দেশ ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। স্বাক্ষর শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, নদী ভাঙন রোধে এ পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। এছাড়া, ভবিষ্যতে মিঠাপানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করা যাবে। আমাদের ব-দ্বীপকে আরও কার্যকর করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা তৈরির বিষয় এবং এর আনুষঙ্গিক বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম। বক্তব্য রাখেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও বিশ্বব্যাংক উইংয়ের প্রধান কাজী শফিকুল আযম। অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, প্ল্যানিং সচিব মোহাম্মদ সফিকুল আযমসহ নেদারল্যান্ডস, বিশ্বব্যাংক ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দেশের পানিসম্পদ নিয়ে ১০০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার কাজ শুরু করেছে সরকার। বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ শীর্ষক এ পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা দিচ্ছে নেদারল্যান্ডস। এ জন্য ইতিমধ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এ চুক্তির আওতায় নেদারল্যান্ডস এ পরিকল্পনা তৈরির জন্য ৪৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা অনুদান দিচ্ছে।
সরকার সমপ্রতি কয়েক দশকে পানিসম্পদ, কৃষি, ভূমি ব্যবহার, মৎস্য ও বনসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিকল্পনা, নীতি, কর্মসূচি ও প্রকল্প গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ন্যাশনাল ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান, ইন্টিগ্রেটেড কোস্টাল ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান, হাওর মাস্টার প্ল্যান, এগ্রিকালচার মাস্টার প্ল্যান ফর সাউদার্ন রিজিওন এবং জাতীয় পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি। এ পরিকল্পনাগুলো কাঙ্ক্ষিত হারে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারছে না। একক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্বৈততার সৃষ্টি হয়ে সম্পদের অপচয় হচ্ছে। এ কারণেই ৫০ থেকে ১০০ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এছাড়া দেশের টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সেই সঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এতে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ইস্যুসমূহ যথাযথভাবে বিবেচনা করে দীর্ঘ মেয়াদি এ পরিকল্পনা গ্রহণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরিকল্পনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, পানিসম্পদ, ভূমি, কৃষি, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ, পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ভূ-প্রতিবেশ খাতকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণীত হবে। বাংলাদেশের ব-দ্বীপ ভূমিতে প্রাকৃতিক সম্পদ খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রশাসন সম্পর্কে একটি দীর্ঘ মেয়াদের দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা হবে। সমন্বিত নীতি উন্নয়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়নের সম্ভাব্য বাধা চিহ্নিত করে করণীয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে রোডম্যাপ তৈরি করা হবে। এ পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত সরকারি সংস্থাগুলোর দক্ষতা ও মান উন্নয়ন এবং সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা হবে। পরিকল্পনার ফলে একই কাঠামোর আওতায় সার্বিক সমন্বিত আকারে সকল খাতে এর সুনির্দিষ্ট পলিসি ও প্ল্যান এবং স্বল্প, মধ্য, দীর্ঘ মেয়াদি ও পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং এসব পরিকল্পনার প্রেক্ষিত প্রতিফলন ঘটবে। এতে সীমিত সম্পদের মধ্যে কার্যকর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কর্মসূচিসমূহ আরও যৌক্তিক উপায়ে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা হবে।


DMCA.com Protection Status