জামায়াতের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আজ

স্টাফ রিপোর্টার | ২০১৩-১২-১৫ ৯:৫৯
আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার প্রতিবাদে আজ সারা দেশের সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে জামায়াত। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর দেশজুড়ে সংঘাত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এতে কমপক্ষে ৭ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন জামায়াত-শিবিরের বহু নেতাকর্মী। এ ইস্যুতে গতকালও সারা দেশে প্রতিবাদ প্রতিরোধ অব্যাহত থাকে। এতে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় পুলিশের সঙ্গে জামায়াত শিবিরের সংঘর্ষ হয়। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে পুলিশের গুলিতে ৫ জন, লক্ষ্মীপুরে র‌্যাবের গুলিতে এক জন, নীলফামারীতে ১ জন জামায়াত নেতাকর্মী নিহত হন। এদিকে হরতালের সমর্থনে গতকাল রাজধানীর মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় মিছিল সমাবেশ করেছে জামায়াত-শিবির। বেলা সাড়ে ১১টায় মগবাজার চৌরাস্তায় মিছিল সমাবেশ করেছে জামায়াতের রমনা শাখা। সমাবেশে থানা জামায়াতের আমীর ড.মুহাম্মদ রেজাউল করিম, সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান, থানা কর্মপরিষদ সদস্য জিল্লুর রহমান, আতাউর রহমান সরকার, শিবির উদ্দিন, আশ্রাফ উদ্দিন ও সাইয়েদ যোবায়ের বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ সুপরিকল্পিতভাবে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা করছে। সরকারের এ নৃশংস অমানবিক ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেও দিচ্ছে না। এমনকি জানাজা ও দাফনে অংশগ্রহণ করতে যাওয়া মুসল্লিদের গুলি করে হত্যা ও গ্রেপ্তার করছে। তারা বলেন, আওয়ামী লীগ এ ধরনের নৃশংস কার্যক্রম বন্ধ না করলে তার জন্য কঠিন মাশুল সরকারকে দিতে হবে। আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের প্রতিবাদে জামায়াতের ডাকা হরতালের সমর্থনে মিছিল করেছে  শিবির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। শাখা সেক্রেটারি খালেদ মাহমুদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক দাইয়ান সালেহিনের নেতৃত্বে সকাল ১১টায় ধোলাইখালে মিছিলটি শুরু হয়ে সামনের দিকে এগোতে থাকলে পুলিশ গুলি ছোড়ে। শিবিরকর্মীরাও পাল্টা ইট-পাটকেল ছুড়লে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিবিরকর্মীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় পুলিশ শতাধিক রাউন্ড গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে ৫ শিবিরকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এদিকে সারা দেশে শান্তিপূর্ণ হরতাল পালনের আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার সকল আইনি ও মানবিক অধিকারকে পদদলিত এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলের আহ্বান অগ্রাহ্য করে সুপরিকল্পিতভাবে আবদুল কাদের মোল্লাকে হত্যা করেছে। জামায়াতকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য আরও নেতাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে সরকার। জামায়াত ও বিরোধী দলকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য পরিকল্পিতভাবে গুপ্তহত্যা চালাচ্ছে। লক্ষ্মীপুরে ডা. ফয়েজ আহমাদের হত্যাকাণ্ড সরকারের সেই ঘৃণ্য পরিকল্পনারই অংশ। তিনি বলেন, সরকার সারা দেশে নিজস্ব এজেন্ট দ্বারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুলি চালিয়ে গত ২ দিনে ১৬ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। কোন কোন গণমাধ্যমে সরকারের সৃষ্ট নৈরাজ্যের দায় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সন্ত্রাস, নৈরাজ্যের সঙ্গে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের কোন সম্পর্ক নেই। এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গণহত্যা চালিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ১২০০ জনকে খুন করেছে। আহত করেছে প্রায় ৭০ হাজার জনকে। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিহত হয়েছেন ১৭৫ জন। সারা দেশে এ সরকারের আমলে খুনের ঘটনা ঘটেছে প্রায় ১৯ হাজার। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে শ’ শ’। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১১ জন মানুষ খুন হয়েছেন। সুতরাং, এ সরকার গণহত্যাকারী, খুনি ও জালেম। এ সরকারের আমলে মানুষের জান, মাল, ইজ্জতের কোন নিরাপত্তা নেই।


DMCA.com Protection Status