ফেসবুকের সঙ্গে আলোচনা চায় সরকার

কাজী সোহাগ | ২০১৫-১১-২৯ ৯:৪৮
দেশের বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের সঙ্গে আলোচনা করতে চায় সরকার। এজন্য আজ ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় চিঠি পাঠাচ্ছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে। এতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফেসবুকের নেতিবাচক বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ৫ কোটি  ৪১ লাখ সক্রিয় ইন্টারনেট গ্রাহকের মধ্যে শুধু ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখ। ফেসবুকের সঙ্গে বাংলাদেশের কোন ধরনের চুক্তি না থাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নারীর প্রতি হয়রানি প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। এই হয়রানি বন্ধে ফেসবুকের সঙ্গে সাইবার সিকিউরিটি চুক্তি চায় সরকার। এ প্রসঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম গতকাল মানবজমিনকে বলেন, আমাদের দেশে ফেসবুকের নানা অপব্যবহার হচ্ছে। এসব নিয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে একের পর এক অভিযোগ জানানো হলেও তারা আমলে নেন না। প্রত্যন্ত গ্রামের কোন মেয়ে ফেসবুকের কারণে হয়তো আত্মহত্যা করলো। কিন্তু বিষয়টি ফেসবুককে জানানো হলে তারা জবাব দিতে হয়তো সময় লেগে যায় তিন মাস। এতে কোন ফল পাওয়া যায় না। প্রতিমন্ত্রী জানান, তাদের দেশের সমাজ ব্যবস্থা আমাদের মতো নয়। সার্বিক পরিস্থিতি তাদেরকে জানানো হবে। পাশাপাশি কিভাবে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া যায় সে পথ বের করা হবে। এর আগে ফেসবুকের সঙ্গে সাইবার সিকিউরিটি চুক্তির উদ্যোগ নিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। এরপর বিষয়টি নিয়ে খুব বেশিদূর এগোতে পারেনি বিটিআরসি। শেষ পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১৭ই নভেম্বর প্রথমবারের মতো বিটিআরসি কার্যালয় পরিদর্শন করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী ওই নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, মানহানিকর কনটেন্ট, নারীর প্রতি অবমাননা, রাজনৈতিক অপপ্রচার ও জঙ্গি কার্যক্রমে উৎসাহ দিয়ে অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি- এগুলো নিয়ন্ত্রণে সরকার সচেষ্ট। এবিষয়ে ফেসবুকের সঙ্গে চুক্তির জন্য আমরা একমত। এটা অত্যন্ত জরুরি কাজ। তিনি বলেন, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার সেটি প্রয়োজন মনে করেনি। তাদের আমলে সুযোগ থাকলেও তারা তা কাজে লাগাননি। ওই সময় জোট সরকারের অনীহার কারণে সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মতো বড় সুযোগও হাতছাড়া হয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তারানা হালিম বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অপচেষ্টা করা হয়। নারীর প্রতি সহিংসতা চালানো হয়। যা বন্ধের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, একটি নারীর জীবনও যেন বিপন্ন না হয়, সেটিকে আমরা গুরুত্ব দিতে চাই। এদিকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে দেশে এখন বন্ধ রাখা হয়েছে ফেসবুক। যদিও বিকল্প উপায়ে অনেকে জনপ্রিয় এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি ব্যবহার করছেন। সরকার বলছে, এ ধরনের ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক কম। তবে তাদেরকে নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে। ১৮ই নভেম্বর দুপুর দেড়টার দিকে ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায়’ সারা দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধের নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। এর আগে বেলা ১১টার দিকে বিটিআরসি প্রথম দফায় ফেসবুক, ভাইবার, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধের নির্দেশনা দেয়। পরবর্তীতে লাইন, ট্যাঙ্গো ও হ্যাংআউট বন্ধেরও নির্দেশনা আসে। বিটিআরসি জানিয়েছে, বাংলাদেশে ফেসবুকে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৭ শতাংশ এবং ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সীদের হার ৪২ শতাংশ। দেশে গত বছর একই সময়ে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১ কোটি। এর মধ্যে ৮২ লাখ পুরুষ এবং ২২ লাখ নারী ছিল। শুধু ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সীর সংখ্যা ছিল ৭৪ লাখ। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ কোটিতে পৌঁছাবে। এদিকে ফেসবুক খুলে দেয়ার কোন নির্দেশনা এখনও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আসেনি বলে গতকাল জানান প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যখন বলবে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেছে, তখন এসব যোগাযোগ মাধ্যম খুলে  দেয়া হবে।


DMCA.com Protection Status