রিসেট

হাল ছাড়েননি রোজিনা

প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার), ২০১৭ Archive 2016
Warning: Undefined property: stdClass::$news_source in /var/www/vhosts/mzamin.com/httpdocs/old-archive.php on line 257

Deprecated: htmlspecialchars(): Passing null to parameter #1 ($string) of type string is deprecated in /var/www/vhosts/mzamin.com/httpdocs/old-archive.php on line 257
Source:
বিদেশের মাটিতে বসেও দেশের কথা ভাবি। ইউটিউবে দেশের সিনেমা দেখি। পুরানো নতুন সব ধরনের সিনেমা, গান দেখা হয়। বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে সবসময় ভাবি। লন্ডনে অনেকদিন ধরেই থাকছি আমি। তবে সুযোগ পেলেই দেশে ছুটে যাই- লন্ডন থেকে মুঠোফোনে মঙ্গলবার মানবজমিনের সঙ্গে কথাগুলো বলছিলেন বাংলা সিনেমার দর্শকনন্দিত অভিনেত্রী রোজিনা। দেশীয় চলচ্চিত্রাঙ্গনে তার অবদান অপরিসীম। চলতি বছরের ২৫শে অক্টোবর লন্ডনে গিয়েছেন তিনি। এর আগেও কয়েক দফায় ঢাকা টু লন্ডন যাতায়াত করেছেন এ অভিনেত্রী। ১৯৭৭ সালে চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু হয় রোজিনার। ওই বছরই এফ কবীর চৌধুরীর ‘রাজমহল’ ছবিতে চিত্রনায়ক ওয়াসিমের বিপরীতে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। শুটিং শেষে ১৯৭৮ সালে ছবিটি মুক্তি পায়। নিজের অভিনীত প্রথম এ ছবিটি সুপার ডুপার হিট হওয়ায় রোজিনাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এরপর তার রাতদিন কিভাবে কেটেছে তা তিনি নিজেও জানেন না। একের পর এক ছবিতে অভিনয় করেছেন। দুর্দান্ত অভিনয় দক্ষতার সিঁড়ি ডিঙ্গিয়ে সাফল্যের শীর্ষে উঠেছেন। ১৯৮০ সালে রোজিনা ‘কসাই’ সিনেমার জন্য জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৮৮ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে ‘জীবন ধারা’ সিনেমার জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এছাড়া শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে তিনি বাচসাস পুরস্কারও লাভ করেন। ১৯৮৬ সালে ‘হাম সে হায় জামানা’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি পাকিস্তান থেকে নিগার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। ওই ছবিতে রোজিনার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় নায়ক নাদিম। ১৯৮৪ সালে রোজিনা কো-প্রোডাকশনের সিনেমা ‘অবিচার’-এ মুম্বইর সুপারস্টার মিঠুন চক্রবর্তীর বিপরীতে অভিনয় করেন। বর্তমানে তিনি নিজের লেখা সিনেমা পরিচালনা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে রোজিনা তার নিজ গ্রাম গোয়ালন্দের কুমড়াকান্দিতে রাজাকার আলবদর দ্বারা ক্ষতবিক্ষত একটি পরিবারের কাহিনীকে ঘিরেই একটি ছবির গল্প লিখেছেন। নাম ‘বীরাঙ্গনা’। ছবিটি সরকারি অনুদানের জন্য মন্ত্রণালয়ে জমাও দেন। ছবিটির চিত্রনাট্যও রোজিনার নিজের লেখা। ছবিটি সরকারি অনুদানের জন্য জমা পড়লেও শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক ফলাফল পাননি তিনি। তবে হাল ছাড়েননি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি ৩০শে ডিসেম্বর ঢাকায় আসব। এবার ঢাকায় ফিরে নিজের লেখা ছবিটি পরিচালনা করব। বেশ যত্ন নিয়ে কিছু কাজ করার ইচ্ছে আছে। লন্ডনে থাকেন কিংবা বাংলাদেশে- ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির জন্যই তিনি রোজিনা, এমনটাই অকপটে স্বীকার করেন তিনি। রোজিনা মাঝে ‘বিবিসাব’ নামে একটি নাটকে কাজ করেন। নাট্যকার আবদুল্লাহ আল মামুনের লেখা মঞ্চনাটক ‘বিবিসাব’-এর অনুপ্রেরণায় এর চিত্রনাট্য করেন নির্মাতা তারিক মুহম্মদ হাসান। এ নাটকে তার বিপরীতে অভিনয় করেন ইন্তেখাব দিনার। সংসার ও সন্তান থাকার পরও পুনর্বাসন কেন্দ্রে একাকী জীবন কাটাচ্ছেন- এমন সব মানুষকে ঘিরে ‘সায়াহ্নের শিশু’ নামে বিটিভির একটি অনুষ্ঠানেও কাজ করেন রোজিনা। এ অনুষ্ঠানের বাইরে তিনি ‘ক্রাইম রোড’ নামে একটি টেলিছবিতে সবশেষ অভিনয় করেছেন। এখানে রোজিনার বিপরীতে অভিনয় করেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন ও চম্পা। ঈদ উপলক্ষে নির্মিত এই টেলিছবিটি পরিচালনা করেন তারিক মুহম্মদ। ২০০৫ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ‘রাক্ষুসী’ চলচ্চিত্রে সর্বশেষ অভিনয় করেছিলেন আশির দশকের নন্দিত নায়িকা রোজিনা। চলচ্চিত্রের টানেই বার বার লন্ডন থেকে ফিরে আসেন দেশে। চলচ্চিত্রের সঙ্গেই থাকতে চান আজীবন। তিনি বলেন, অনেকদিন ধরেই ভাবছি চলচ্চিত্র নির্মাণ করব। এটা আমার একটা স্বপ্ন বলতে পারেন। ভেবে চিন্তে কাজটা শুরু করতে চাই এবার। চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। নির্মাণের বাইরে অভিনয়ও করে যেতে চান এই অভিনেত্রী। বললেন, কেন্দ্রীয় কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো চরিত্র পেলে অভিনয় অবশ্যই করবেন। ‘চোখের মণি’, ‘সুখের সংসার’, ‘সাহেব’, ‘তাসের ঘর’, ‘হাসু আমার হাসু’, ‘হিসাব চাই’, ‘বন্ধু আমার’, ‘কসাই’, ‘জীবনধারা’, ‘সুলতানা ডাকু’, ‘মানসী’, ‘দোলনা’, ‘দিনকাল’, ‘রসের বাইদানী’, ‘রূপবান’, ‘আলোমতি প্রেমকুমার’, ‘হামসে হায় জামানা’সহ ৩০০ মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন রোজিনা। সামনেও ভালো কাজ দর্শকদের উপহার দিতে চান তিনি।