আওয়ামী লীগের দুর্গে কোণঠাসা বিএনপি

মতিউল আলম, ময়মনসিংহ থেকে | ২০১৭-১১-০৮ ৯:২৪
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী মাঠ। নিয়মিতই অংশ নিচ্ছেন দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চালাচ্ছেন প্রচারণা।
গফরগাঁও উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ২টি থানা নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ-১০ আসন। গফরগাঁওয়ের নির্বাচনী রাজনীতিতে স্বাধীনতার পর ২ বার এমপি হন আওয়ামী লীগের আবুল হাশেম। এরশাদ আমলে ২ বার এমপি হন জাতীয় পার্টির এনামুল হক জজ মিয়া, ১৯৭৯ ও ১৯৯৬-এর ১৫ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপির ফজলুর রহমান সুলতান এমপি হন। অন্যদিকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১-এর নির্বাচনে হ্যাটট্রিক এমপি ছিলেন আওয়ামী লীগ থেকে আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ। তার মৃত্যুর পর ২০০৮ সালে ক্যাপ্টেন (অব.) গিয়াস উদ্দিন এবং ২০১৪ সালে ফাহ্‌মী গোলন্দাজ বাবেল এমপি হন। সব মিলিয়ে বেশির ভাগ সময়ই গফরগাঁও থেকে বারবার নৌকা বিজয়ী হয়েছে। গফরগাঁও উপজেলার ১৫ ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চলের ৮ ইউনিয়ন নিয়ে পাগলা থানা হয়েছে। গফরগাঁও পৌরসভাসহ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৭ হাজার ৬৩৮। পুরুষ ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৬ ও মহিলা ১ লাখ ৬১ হাজার ১ ভোট।
এদিকে বর্তমান এমপি ফাহ্‌মী গোলন্দাজ বাবেল ছাড়াও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বেশ কয়েকজন নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় নতুন সংযোজন জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল। তিনি ময়মনসিংহ সদর আসনেও মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও প্রবীণ নেতাদের মধ্যে সাবেক এমপি ক্যাপ্টেন (অব.) গিয়াসউদ্দিন, গফরগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলাল আহমেদ, সাবেক মেয়র ও যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক আলহাজ অ্যাড. কায়সার আহমেদ, গফরগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ওবায়দুল্লাহ আনোয়ার বুলবুল। এ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মরহুম আলহাজ আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ এখানে নৌকার জয়সূচনা করেছিলেন। তিনি এই আসনে তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর আগে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন। ২০০৭ সালে আলতাফ হোসেন গোলন্দাজের মৃত্যুর পর তার সন্তান ফাহ্‌মী গোলন্দাজ বাবেল পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে উঠে এসেছেন। ফাহ্‌মী গোলন্দাজ বাবেলও প্রথমে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধিত্বে আসেন। দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান। নির্বাচনে তিনি লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। আলতাফ হোসেন গোলন্দাজের মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগের টিকিটে ক্যাপ্টেন (অব.) গিয়াস উদ্দিন আহমেদ এমপি নির্বাচিত হলেও বিতর্কিত হয়ে পড়ার কারণে তিনি নির্বাচনী রাজনীতির মাঠ থেকে ছিটকে পড়েন। তবে সাংগঠনিক দক্ষতায় বাবেল গফরগাঁও আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেন। ফলে ভোটের রাজনীতিতে তিনি সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আগেও মনোনয়ন চেয়েছিলাম, এবারও চাইবো। প্রধানমন্ত্রী আমাকে কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেছেন। আমার নির্বাচনী এলাকায় ময়মনসিংহ-১০ গফরগাঁও বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে বিবেচনা করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।
এদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম (আরজু), গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবি সিদ্দিকুর রহমান, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ড. মীর মিজানুর রহমান, সাবেক এমপি মরহুম ফজলুর রহমান সুলতানের ছেলে মো. মুশফিকুর রহমান।
এদিকে ’৭৯ ও ’৯৬ সালে বিএনপি থেকে এমপি হন ফজলুর রহমান সুলতান। পরবর্তীতে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেন শিল্পপতি এবি সিদ্দিকুর রহমান। তবে ২০০৬ সালের বাতিল হওয়া নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে জাহাজ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। ফলে এর খেসারত দিতে হয় তাকে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষের টিকিট বঞ্চিত হন। তবে এবার দলীয় মনোনয়নের জন্য লড়বেন বর্ষীয়ান এই নেতা। যদিও সাবেক এমপি আলহাজ ফজলুর রহমান সুলতানের মৃত্যুর পর তার ছেলে মুশফিকুর রহমান এখন দলীয় মনোনয়ন প্রার্থী। এদিকে ধানের শীষের মনোনয়ন লড়াইয়ে আরেক শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও গত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকায় এলাকায় তরুণ সমাজের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।
এ ব্যাপারে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করছি। গফরগাঁও-পাগলা এলাকাটি খুবই অবহেলিত। বিগত সরকারের আমলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। তাই সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে নির্বাচন করতে চাই। আশা করছি, রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় দলীয় হাইকমান্ড আমাকে মনোনয়ন দেবেন।
মুশফিকুর রহমান বলেন, আমার বাবা গফরগাঁও বিএনপিকে সুসংগঠিত করেছিলেন। আমি তার আদর্শের রাজনীতি করি। আমাকে মনোনয়ন দিলে আশা করি বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারবো।
ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ড. মীর মিজানুর রহমান বলেন, দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে বিএনপিসহ সব নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচন করবে। আর দল যদি অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয় আমি তার পক্ষ হয়ে কাজ করবো।
এছাড়া জাতীয় ওলামা পার্টির সভাপতি ও বাংলাদেশ রেডিও-টেলিভিশন ভাষ্যকার আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্বারী হাবিবুল্লাহ বেলালী, মাসিক মদীনার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের (রহ.) ছেলে আহমদ বদরুদ্দীন খানের নাম প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে।


DMCA.com Protection Status