দেশ বিদেশ

গাদ্দাফীর পতনের জানা-অজানা অধ্যায়

মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার, ৯:১১ পূর্বাহ্ন

(পূর্ব প্রকাশের পর )
১৯শে মার্চ সন্ধ্যায় যখন গাদ্দাফী বাহিনী বেনগাজীর উপকণ্ঠে পৌঁছে যায়, ঠিক তখনই ফ্রান্স লিবিয়াতে বিমান হামলা শুরু করে এবং গাদ্দাফী বাহিনীর অগ্রযাত্রা ব্যর্থ করে দেয়। এর পরপরই আমেরিকা শুরু করে ‘অপারেশন অডিসি ডন’ নামের বিশেষ অপারেশন,  যেটা এক রাতের মধ্যেই ১১০টা টমাহক ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপের মাধ্যমে গাদ্দাফীর এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। ফলে প্রায় নিশ্চিত পরাজয় এবং সম্ভাব্য গণহত্যা থেকে বেঁচে যায় বিদ্রোহীরা, আর পিছু হটতে বাধ্য হয় গাদ্দাফী বাহিনী।
কিছুদিনের মধ্যেই লিবিয়াতে আক্রমণের মূল দায়িত্ব গ্রহণ করে ন্যাটো। জাতিসংঘের প্রস্তাবে শুধু বেসামরিক  লোকজনদেরকে রক্ষা করার কথা থাকলেও বাস্তবে ন্যাটো গাদ্দাফী বাহিনীর ওপর আক্রমণের মাধ্যমে বিদ্রোহীদের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে থাকে। বিদ্রোহীরা আবার বেনগাজী থেকে শুরু করে রাসলানূফ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। গাদ্দাফী তার অস্ত্র ভাণ্ডার খুলে  দেয় এবং নিয়মিত বাহিনী ছাড়াও মিলিটারি ট্রেনিংপ্রাপ্ত  স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র বিতরণ করে। তাদের প্রবল আক্রমণে বিদ্রোহীরা রাসলানূফ  থেকে পিছু হটে তেলসমৃদ্ধ শহর  ব্রেগায় গিয়ে স্থির হয়। ব্রেগাতে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক মাস পর্যন্ত এই অচলাবস্থা বিরাজ করে।

চার. ত্রিপোলির পতন
মে-জুন-জুলাই মাসগুলোতে যুদ্ধ অনেকটা  বৈচিত্র্যহীনভাবে চলতে থাকে। বিদ্রোহীরা ন্যাটোর সহযোগিতায় কিছুটা এগোয়, আবার গাদ্দাফীর  সেনাবাহিনীর আক্রমণে পিছু হটতে বাধ্য হয়। এপ্রিলের ৩০ তারিখে ন্যাটোর বিমান হামলায় নিহত হয় গাদ্দাফীর ছোট ছেলে সাইফুল আরব এবং তিন দৌহিত্র; কিন্তু একই ভবনে থেকেও বেঁচে যান গাদ্দাফী।
মে মাসের ১৫ তারিখে প্রায় তিন মাস ধরে অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্ত হয় মিসরাতা। ২৮শে জুলাই পার্বত্য এলাকা জাবাল নাফূসার (নাফূসা মাউন্টেইন্স) বিদ্রোহীরা নিজেদের এলাকা মুক্ত করে ত্রিপোলি অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। এই সময় কাতার প্লেনে করে মিসরাতায় এবং ফ্রান্স প্যারাস্যুটের মাধ্যমে নাফূসা মাউন্টেইন্সে বিদ্রোহীদেরকে অস্ত্র দেয়ার মাধ্যমে তাদের অগ্রযাত্রা আরো বেগবান করে তোলে।
২৮শে জুলাই রহস্যজনকভাবে বিদ্রোহীদের আর্মড  ফোর্সের কমান্ডার আব্দুল ফাত্তাহ ইউনূস নিহত হয়। ইউনূসের মৃত্যুর এক সপ্তাহের মধ্যেই বিদ্রোহীরা নবোদ্যমে ব্রেগা আক্রমণ করে এবং প্রচণ্ড যুদ্ধে লিপ্ত হয়। অপরদিকে মিসরাতা এবং জাবাল নাফূসার  বিদ্রোহীরা একে একে জিলিতান, গারিয়ান, জাওইয়া প্রভৃতি শহরের দখল নেয়ার মাধ্যমে ১৬ই আগস্টের মধ্যে ত্রিপোলিকে চারপাশের শহরগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।
২০শে আগস্ট, রমজান মাসের ২০ তারিখে বিদ্রোহীরা যখন ত্রিপোলিকে চারদিক থেকে সম্পূর্ণ ঘিরে ফেলে, ঠিক সেদিন ইফতারের পরপরই ত্রিপোলির তাজুরা, ফাশলুম, সুক্ব-আল-জুমা সহ বিভিন্ন এলাকার জনগণ গাদ্দাফীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করে। উপর থেকে ন্যাটোর আক্রমণ এবং ভেতর-বাহির দুই থেকেই বিদ্রোহীদের আক্রমণে গাদ্দাফী বাহিনী কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। এক রাতের মধ্যেই ত্রিপোলির অধিকাংশ এলাকা বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ২১ তারিখ রাতে বিদ্রোহীরা ত্রিপোলির একেবারে কেন্দ্রে অবস্থিত গ্রিন স্কোয়ারের নিয়ন্ত্রণ নেয়, যেটা মাত্র আগের দিন রাতেও গাদ্দাফী সমর্থকদের ভিড়ে পরিপূর্ণ ছিল। এনটিসি সরকার গ্রিন স্কোয়ারের নাম পরিবর্তন করে “মাইদান আশ্‌শুহাদা” তথা মার্টায়ার্স  স্কোয়ার নামকরণ করে।
তিন দিনের প্রচণ্ড যুদ্ধের পর ২৩ তারিখে বিদ্রোহীদের হাতে গাদ্দাফীর বাসভবন বাব আল আজিজীয়া  কোম্পাউন্ডের পতন ঘটে। ধীরে ধীরে আবু সেলিম, হাদবা সহ অবশিষ্ট এলাকাগুলোতেও বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্রোহীরা গাদ্দাফীর  ছেলেমেয়ে এবং আত্মীয়স্বজনদের বাড়িগুলো দখল করতে থাকে। মিডিয়াতে উঠে আসতে থাকে ৪২ বছর ধরে অপ্রকাশিত গাদ্দাফীর পরিবারের অকল্পনীয় বিলাসবহুল জীবনযাপন, মাটির নিচে তৈরি বিভিন্ন টানেল, পারমাণবিক আক্রমণ  থেকেও রক্ষা পাওয়ার উপযোগী বিভিন্ন গোপন আস্তানার চিত্র।
২৭ তারিখে পাঁচটি মার্সিডিজ বেঞ্জে করে গাদ্দাফীর দ্বিতীয় স্ত্রী সাফিয়া, মেয়ে আয়েশা এবং দুই ছেলে  মোহাম্মদ এবং হানিবাল সপরিবারে বর্ডার পাড়ি দিয়ে আলজেরিয়ার দিকে যাত্রা করে। তাদের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র, ক্যাশ টাকা এবং সোনার বার ছিল বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে আসে। গাদ্দাফী এবং তার চার ছেলে সাইফুল ইসলাম, খামীস, সাদী এবং  মৌতাসেম আত্মগোপনে চলে যায়। পতন ঘটে  লৌহমানব হিসেবে পরিচিত গাদ্দাফীর ৪২ বছরের শাসনের। গাদ্দাফীর সমর্থকদের দখলে থাকে শুধু পার্বত্য এলাকা বানিওয়ালিদ, দক্ষিণের সাবহা, কুফরা এবং গাদ্দাফীর জন্মস্থান সিরত।

পাঁচ. গাদ্দাফীর মৃত্যু
ত্রিপোলিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরপরই বিদ্রোহীরা নজর  দেয় গাদ্দাফীর দখলে থাকা অবশিষ্ট শহরগুলোর উপর। এরমধ্যে সিরত ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি  কোস্টাল হাইওয়ের উপর অবস্থিত। এছাড়া গাদ্দাফীর জন্মস্থান হওয়ায় এবং বিদ্রোহের শুরু থেকেই গাদ্দাফীর পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয়ায় সিরতের প্রতি বিদ্রোহীদের বিশেষ ক্ষোভ ছিল।
 রোজার ঈদের পরপরই, ২রা সেপ্টেম্বর, বিদ্রোহীরা বানিওয়ালিদ আক্রমণ করে। একই সঙ্গে তারা সিরতের দুই দিকে ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান নিয়ে সিরতকে এক প্রকার ঘিরে ফেলে এবং বারবার আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে সময় বৃদ্ধি করতে থাকে। সিরতকে গাদ্দাফীর সবচেয়ে শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তাই বিদ্রোহীরা আলোচনা এবং আত্মসমর্পণের মাধ্যমে সিরতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটা নিশ্চিত রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এড়াতে চাইছিল। কিন্তু এর মাঝেই সেপ্টেম্বরের ১০ তারিখে সিরতে এমন একটা  ঘটনা ঘটে, যার ফলে পুরো যুদ্ধ সম্পূর্ণ নতুন একটা গতিপথ পায়।
সিরতের রক্বম ওয়াহেদ (ডিস্ট্রিক্ট নাম্বার ওয়ান) নামক এলাকার অধিবাসীদের অধিকাংশই ছিল মিসরাতী ক্বাবিলার (গোত্রের)। স্বভাবতই তারা ছিল গাদ্দাফী বিরোধী। কিন্তু সংখ্যালঘু হওয়ায় তারা এতদিন নিশ্চুপ ছিল। তাদের অনেকে এমন কি সবুজ পতাকা নিয়ে গাদ্দাফীর পক্ষে মিছিলও করতো। কিন্তু ভেতরে ভেতরে অনেকেই গোপনে স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছিল।
এরকম একটা পরিবার ছিল সাফরুনী পরিবার। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে গাদ্দাফী বাহিনী সাফরুনীর বড় ছেলেকে গ্রেপ্তারের জন্য তার বাড়ি ঘিরে  ফেলে। ধরা পড়া মানেই নিশ্চিত মৃত্যু, তাই সে ধরা না দিয়ে বিদ্রোহীদের চাঁদ-তারা খচিত তিন বর্ণের পতাকা নিয়ে বেরিয়ে আসে। শুরু হয় গোলাগুলি। সাফরুনীদের পুরো বাড়ি রকেট লঞ্চার দিয়ে ধসিয়ে দেয়া হয়। সাফরুনী এবং তার ছেলে মারা যায়। আর গাদ্দাফীর পক্ষের মারা যায় পাঁচজন।
 গোলমালটা বাধে সাফরুনীর ছেলেকে নিয়ে। সে মারা গিয়েছিল ধারণা করে তাকে ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখা হয়। কিন্তু লাশ গোসল করানোর জন্য বের করতে গিয়ে দেখা যায় যে, সে আসলে তখনও মরেনি। এই সংবাদ  লোকাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে এবং মিডিয়া তার স্বভাব অনুযায়ী ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে জীবন্ত মানুষকে ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখার মতো এই অমানবিক ঘটনাকে বিশ্লেষণ করে। এর ফল হিসেবে ক্ষিপ্ত মিসরাতার বিদ্রোহী  যোদ্ধারা সিরত আক্রমণের জন্য দলে দলে এসে জমা হতে থাকে এবং সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই সিরত আক্রমণ করে বসে।
১৫ই সেপ্টেম্বর বিকাল বেলা মিসরাতার যোদ্ধারা প্রথম সিরতে প্রবেশ করে। কিন্তু প্রতিরোধের মুখে মূল শহরের ভেতরে বেশিক্ষণ থাকতে না পেরে তারা শহরের বাইরে গিয়ে অবস্থান নিয়ে শহরের উপর আক্রমণ করে। তাদের প্রবল আক্রমণে এবং ন্যাটোর মুহুর্মুহু বিমান হামলায় মাত্র দুই ঘণ্টার যুদ্ধেই শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। নিহত হয় শতাধিক, যাদের অধিকাংশই ছিল বেসামরিক নাগরিক।
পরদিন সকাল থেকেই সিরতের সাধারণ মানুষ সিরত  ছেড়ে পালাতে থাকে। পেছনে রয়ে যায় শুধু গাদ্দাফীর  সৈন্যরা এবং আগের দিনের আক্রমণে নিহতদের প্রতিশোধপরায়ণ আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই মিসরাতার যোদ্ধারা সিরতকে চারদিক  থেকে ঘিরে মাত্র ১৫ বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে আবদ্ধ করে ফেলে। তাদের সঙ্গে পূর্বদিক থেকে এগিয়ে আসা  বেনগাজীর যোদ্ধারাও যোগ দেয়। অক্টোবরের ১৭ তারিখের মধ্যে বিদ্রোহীরা সিরতের প্রায় সবটুকু মুক্ত করে ফেলে। ততদিনে বানিওয়ালিদ সহ লিবিয়ার সব শহরেই বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। সাড়ে ১৭ লাখ বর্গ কিলোমিটারের লিবিয়ার মধ্যে গাদ্দাফীর সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে থাকে শুধু সিরতের রক্বম এতনীন তথা ডিস্ট্রিক্ট নাম্বার টু নামের মাত্র দুই বর্গ কিলোমিটারের ক্ষুদ্র একটি এলাকা।
অক্টোবরের ২০ তারিখে সকাল ৮টার দিকে এই রক্বম এতনীনের ভেতর থেকে গাদ্দাফী বাহিনীর প্রায় ৪০টি গাড়ির একটি বহর বের হয়ে দক্ষিণ দিকে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু অল্প কিছুদূর যেতে না যেতেই ন্যাটোর বিমান হামলায় সেই বহরের অন্তত ১১টি গাড়ি বিধ্বস্ত হয়। ততক্ষণে বিদ্রোহী যোদ্ধারাও চারপাশ থেকে এসে সেখানে আক্রমণ শুরু করে। বেঁচে যাওয়া গাদ্দাফীর সৈন্যেরা এদিক সেদিক পালাতে শুরু করে। অনেকেই ঘটনাস্থলে মারা পড়ে। নিহতদের মধ্যে ছিল গাদ্দাফীর প্রতিরক্ষামন্ত্রী আবু বকর ইউনূস জাবের। আর জীবিত ধরা পড়ে গাদ্দাফীর ছেলে মৌতাসেম এবং স্বয়ং গাদ্দাফী নিজে।
ন্যাটোর হামলা এবং বিদ্রোহীদের গোলাগুলি থেকে বাঁচতে গাদ্দাফী রাস্তার পাশে নির্মাণাধীন একটি সুয়্যারেজ পাইপের ভেতরে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই বিদ্রোহীরা তাকে টেনেহিঁচড়ে বের করে এবং কিল-ঘুষি-লাথি মেরে, রাইফেলের বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে অবর্ণনীয় শারীরিক নির্যাতনের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গুলি করে হত্যা করে। তার ছেলে মৌতাসেমকেও একইভাবে ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ আট মাসের গৃহযুদ্ধ, অন্তত ১০ হাজার মানুষের মৃত্যুর পর গাদ্দাফীর ৪২ বছরের শাসনের রক্তাক্ত পরিসমাপ্তি ঘটে। লিবিয়া প্রবেশ করে নতুন একটি অধ্যায়ে, যেখানে সবার চোখে স্বপ্ন গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতার, কিন্তু আশঙ্কা গোত্রগত লড়াই, বিভেদ এবং বিদেশি শক্তির আগ্রাসনের।
গাদ্দাফীর মৃত্যুর পর অতিক্রান্ত হয়েছে ছয়টি বছর। লিবিয়া স্বৈরশাসকের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে ঠিকই, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তারা গণতন্ত্রের পথে কিছুটা এগিয়েও ছিল। কিন্তু রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতা, অনভিজ্ঞতা, অর্থ ও ক্ষমতার প্রতি মোহ এবং যুদ্ধের সময় মিলিশিয়াদের হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়া অস্ত্রের কারণে মানুষ আজও তাদের বিপ্লবের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পারেনি। বরং বিভিন্ন শহর এবং রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে আদর্শিক এবং স্বার্থগত দ্বন্দ্ব এত চরম আকার ধারণ করেছে যে, ফেব্রুয়ারির বিপ্লব আদৌ কখনও সাফল্যের মুখ দেখবে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

লেখক: সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, ত্রিপোলি, লিবিয়া। তিনি ২০১১ সালের যুদ্ধের পুরো সময় জুড়ে গাদ্দাফীর জন্ম এবং মৃত্যুস্থান সিরতে ছিলেন। অক্টোবর মাসে সিরত যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে দুই পক্ষের গোলাগুলির মধ্যে ফ্রন্টলাইনে তিন সপ্তাহ আটকা পড়েছিলেন এবং গাদ্দাফীর মৃত্যুর মাত্র তিনদিন আগে ঐ এলাকা  থেকে বিদ্রোহীদের সহায়তায় মুক্ত হয়েছিলেন। উইকিপিডিয়া, বিবিসি, আল-জাজিরা এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর রিপোর্ট ছাড়াও এই  লেখাটির অনেক তথ্য লিবিয়ানদের সঙ্গে লেখকের ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের উপর ভিত্তি করে  তৈরি।

 
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং স্কাইব্রীজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ৭/এ/১ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status