রিসেট

এবার জালালের ফরাস বিপ্লব

প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার), ২০১৭ Archive 2016
Warning: Undefined property: stdClass::$news_source in /var/www/vhosts/mzamin.com/httpdocs/old-archive.php on line 257

Deprecated: htmlspecialchars(): Passing null to parameter #1 ($string) of type string is deprecated in /var/www/vhosts/mzamin.com/httpdocs/old-archive.php on line 257
Source:
নিজের যোগ্যতা, পরিশ্রম আর দক্ষতার জন্য আগেই পরিচিতি পেয়েছেন উপজেলার অন্যতম সেরা কৃষকের স্বীকৃতি। হয়েছেন খবরের শিরোনামও। আর এ বাড়তি উৎসাহব্যঞ্জকতায় রয়েছে তার সেই ঘাম ঝরা পরিশ্রম আর ক্ষেতভরা রোপায়িত উৎপাদিত ফসল। যাকে নিয়ে বন্দনা তিনি হলেন মো. জালাল উদ্দিন। সিলেটের গোয়াইনঘাটের শ্রেষ্ঠ কৃষক জালাল উদ্দিনের সাফল্যগাথায় রয়েছে কৃষিতে সফলতা আর সফলতার জয়গান। শসা, টমেটো, বেগুন,  ফুলকপি, উস্তা, সরিষা, লাউ, মিষ্টিকুমড়া, চাল কুমড়াসহ শীতকালীন সব ধরনের সবজি চাষ করে তিনি এলাকার পাশাপাশি গোটা উত্তর সিলেটজুড়ে বেশ সমাদৃত হয়েছেন। এবার সেই সফল কৃষক জালাল উদ্দিনের চোখে যেন আবারও নতুন হাসির ঝিলিক, বাম্পার ফসল উৎপাদনের কারণে এবারও তার যেন বাড়তি আবহ। এবারও তার রোপায়িত ফসলে ঘটেছে সবুজ বিপ্লব। ফরাস (ঝাড় শিম) রোপণ করে এবার ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন তিনি। ফরাস (ঝাড় শিম) শীতকালীন একটি সুস্বাদু সবজি। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় এ সবজিকে ফরাস বলে। এর ইংরেজি নাম হলো (ঋৎধবহং নরহ)। দীর্ঘদিন থেকে স্থানীয়সহ মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ সিলেটি ভাষাভাষির মানুষসহ সবার কাছে অতি প্রিয় এ সবজির চাহিদাও ব্যাপক। এবার প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে সফল কৃষক জালাল উদ্দিন ফরাস চাষ করেছেন। তার রোপায়িত এসব জমি থেকে প্রায় ২৮০ মণের মতো ফরাস উৎপাদন হতে পারে। এবং বর্তমান বাজার মূল্য ৬০ টাকা কেজি দরে (পাইকারি) যার বাজার মূল্য ৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা প্রায় আসতে পারে। সফল কৃষক জালাল উদ্দিন জানান, প্রতি বছরই আমি শীতকালীন শাক-সবজি উৎপাদন করে থাকি। এবারও করেছি। তবে এবার অন্যান্য বছরের চেয়ে আলাদা স্কিম নিয়ে কাজ করেছি। লাভজনক হওয়ায় এবার ৪০ বিঘা জমিতে ফরাস চাষ করেছি এবং ফলন বাম্পার হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের ভেতরে যদি প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হয় তবে সব ফসলই ঘরে তুলতে পারবো বলে আশা রাখি। স্থানীয় মুসলিমনগর আইপিএম ক্লাবের সদস্য আবদুস সালাম বলেন, কৃষক জালাল উদ্দিন গোয়াইনঘাট তথা উত্তর সিলেটের কৃষি ব্যবস্থাপনার একজন আইডল। সদালাপী পরিশ্রমী এ মানুষটি ধান, শাক-সবজিসহ সব ধরনের ফসল উৎপাদনে অপরাপর কৃষকদের চেয়ে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ও চৌকসও বটে। উপজেলা কিংবা স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা যদি তার ব্যাপারে আরো দায়িত্বশীল হন তবে আশা করা যায় সে কৃষিতে আরো সফল হবে এবং জাফলং, গোয়াইনঘাট তথা উত্তর সিলেটের কৃষি ব্যবস্থাপনাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে।  এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাটের উপজেলা কৃষি অফিসার এম আনিসুজ্জামান জানান, এবার গোয়াইনঘাটের ফসলি জমিতে ৫৪০ হেক্টর ফরাস বা ঝাড় শিম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলার রুস্তমপুর টেকনাগুল এলাকায় ২৬৫ জনের একটি গ্রুপ বিশাল এলাকাজুড়ে ফরাস আবাদ করেছেন। তাছাড়া বাউরভাগ হাওর, বীরমঙ্গল, লাখেরপারসহ সর্বত্রই কম বেশি এ ফসল রোপণ হয়েছে।  আশা করা যায় এসব রোপায়িত জমি থেকে ১০৮০ টন ফরাস বা ঝাড় শিম উৎপাদন করা হবে। জাফলং লাখের পারের সফল কৃষক কৃষক জালাল উদ্দিনের ব্যাপারে তিনি বলেন, কৃষি ব্যবস্থাপনায় এ ব্যাপারে তার সব ধরনের সার্বিক সহযোগিতা দানে আমরা তাকে সহযোগিতা করবো। এ ব্যাপারে মাঠ পর্যায়ের কোনো কৃষি কর্মকর্তা, কর্মচারীর অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।