ঝাড়খণ্ড বিধানসভা অভিমুখে শিক্ষার্থীদের মিছিল, জলকামান নিক্ষেপ

ঝাড়খণ্ড বিধানসভা অভিমুখে শিক্ষার্থীদের মিছিল, জলকামান নিক্ষেপ

ফন্ট সাইজ:

ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে জলকামান ছুড়েছে পুলিশ। সরকারি ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলন আজ সোমবার ‘হাই ড্রামা’য় পৌঁছে যায়। এদিন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হিমান্ত সরেনের বাসভবনের বাইরে অবস্থান ধর্মঘট করছিলেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল মারান্ডি এবং আদিত্য সাহু। তাদেরকে পুলিশ আটক করেছে। অনশনরত আন্দোলনকারী নেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোও অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের সঙ্গে মিছিলে যোগ দিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস। এতে বলা হয়, তিনটি ভর্তিপরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঝাড়খন্ড সরকার।

তারপরও শিক্ষার্থীরা রাজ্য বিধানসভা অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করে। প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (জেপিএসসি) তিন সদস্য রোববার পদত্যাগ করেছেন। জেপিএসসি (ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন) ও জেএসএসসি (ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন)-এর বিভিন্ন পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে ঝাড়খণ্ডে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। নয় দিন ধরে অনশন করে ১০ দশমিক ৫ কেজি ওজন হারানো জেএলকেএম নেতা মাহাতো সঙ্গে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শিবু সোরেনের একটি প্রতিকৃতি নিয়ে মিছিলে অংশ নেন। ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে হাজারো চাকরিপ্রার্থী রাজ্য বিধানসভা অভিমুখে মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি বিধানসভার পার্লামেন্টের কাছাকাছি হতেই তাতে জলকামান নিক্ষেপ করে পুলিশ। জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে আন্দোলনকারীরা স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে যান।

এর আগে আজ সোমবার রাঁচিতে সরকারি বিভিন্ন পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দুই প্রধান অংশের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বা আইসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরাও সরকারের গঠিত কমিটির সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। সরকারি প্যানেলে ছিলেন মন্ত্রী দীপিকা পাণ্ডে সিং, সঞ্জয় প্রসাদ যাদব ও চামরা লিন্ডা এবং সোনু।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দুটি প্রধান অংশ হলো জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্ম মঞ্চ এবং জেপিএসসি-জেএসএসসি অভ্যার্থী ন্যায় মঞ্চ। এর আগে রাঁচির বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শিক্ষার্থীরা বিধানসভা থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরের একটি মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন। সোমবার সকালে ট্রেন, বাস ও অন্যান্য যানবাহনে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী রাজ্যের রাজধানী রাঁচিতে এসে পৌঁছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এক শিক্ষার্থী বলেন, সরকারের উচিত আমাদের কথা শোনা এবং এ বিষয়ে জবাব দেয়া।

আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শহরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রাঁচির গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা-ব্যবস্থা। আজ সোমবার রাঁচির অধিকাংশ স্কুলও বন্ধ রয়েছে। রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের প্রবেশের সংখ্যা সীমিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। এ জন্য জেলার সীমানা, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কে বাস এবং ব্যক্তিগত যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন