রিসেট

শিল্প খাতে ১১৭ ও গৃহস্থলীতে ১১৬ ভাগ বাড়ানোর প্রস্তাব

প্রকাশিত: ২১ মার্চ (সোমবার), ২০২২ Archive 2018Source: স্টাফ রিপোর্টার
করোনা মহামারির সময়ে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনার মধ্যেই গণশুনানি শুরু হয়েছে। এবার বিতরণ কোম্পানিগুলো শিল্প খাতে ১১৭ ভাগ এবং গৃহস্থলীতে ১১৬ ভাগ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে।

আজ সোমবার (২১শে মার্চ) রাজধানীর বিয়াম অডিটরিয়াম গণশুনানি গ্রহণ করছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে শুনানি গ্রহণে উপস্থিত রয়েছেন সদস্য মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী, বজলুর রহমান, মোহাম্মদ আবু ফারুক ও মো. কামরুজ্জামান।

দিনের শুরুতে পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়। এরপর কমিশন তাদের মূল্যায়ণ রিপোর্ট পেশ করবে। কমিশনের মুল্যায়ন রিপোর্ট শেষে ইতিমধ্যে যারা তালিকাভুক্ত করেছেন তারা আলোচনায় অংশ নেন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, জ্বালানি বিভাগের হাতে একাধিক বিকল্প ছিল। তারা সেদিকে না গিয়ে দাম বাড়ানোর মতো জটিল পথে পা দিয়েছে। গ্যাস সরবরাহ আসছে প্রধানত দু’টি উৎস থেকে। একটি হচ্ছে দেশীয় গ্যাস ফিল্ড থেকে উত্তোলন, দ্বিতীয়টি হচ্ছে বিদেশ থেকে আমদানি। বিদেশ আমদানি দুই ধরণের চুক্তির আওতায় আনা হচ্ছে। একটি হচ্ছে জিটুজি ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায়, আর স্পর্ট মার্কেট (দরপত্রের মাধ্যমে বর্তমান দর) থেকে। দেশীয় উৎসের গ্যাসের দাম বাড়েনি, জিটুজি ভিত্তিতে আনা গ্যাসের দামও বাড়েনি। দাম বেড়েছে শুধু স্পর্ট মার্কেট থেকে আনা গ্যাসের। যার পরিমাণ সামান্যই।

বর্তমানে দৈনিক ২৯৫৬ এমএমসিএফ (৭ই মার্চ ২০২২)গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। একই দিনে স্পর্ট মার্কেট থেকে আমদানি করা গ্যাসের পরিমাণ ছিল মাত্র ১০১.৬৭ এমএমসিএফডি। যার অনুপাত বের করলে দাঁড়ায় মাত্র ৪ শতাংশের মতো।

ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, দাম বেড়েছে স্পর্ট মার্কেট থেকে আনা কমবেশি ৫-৬ শতাংশ। সিস্টেমের ৫-৬ শতাংশের দাম বেড়েছে বলে পুরো গ্যাসের দাম ১১৭ শতাংশ বাড়াতে হয় এটা বিশ্বাসযোগ্য! তারা গোজামিল দিয়ে হিসেব দেখাচ্ছে, এসব হিসাব বাস্তব সম্মত না। প্রয়োজন হলে ওই পরিমাণ এলএনজি আমদানি না করার পক্ষে আমরা। তবুও দাম বাড়ানো উচিত হবে না।

অনুষ্ঠানে বিইআরসি'র চেয়ারম্যান তার স্বাগত বক্তব্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বিশ্ব প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, দাম বৃদ্ধির কারণ মানুষের জীবন দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে। বিতরণ কোম্পানিগুলো শিল্প কারখানায় ১১৭ ভাগ এবং গৃহস্থলীতে ১১৬ ভাগ গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করছে। তবে কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা ক্ষেত্রে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেবে। এবার মূল্য নির্ধারণে অবিবেচক হবে না।