রিসেট

পার্বত্য বনাঞ্চলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অভয়ারণ্যের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত

প্রকাশিত: ৯ মার্চ (বুধবার), ২০২২ Archive 2018Source: সংসদ রিপোর্টার
পার্বত্য এলাকার বিশাল বনাঞ্চলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অভয়ারণ্য করার প্রস্তাব এসেছে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে। কমিটির পক্ষ থেকে ওই অঞ্চলের প্রতিবেশ ব্যবস্থা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের উপযোগী কিনা, তার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে আগামী বছর থেকে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে পরিবেশ খাতে অবদানের জন্য নারীদের পদক দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। গতকাল জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। বৈঠকে কমিটির সদস্য পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, তানভীর শাকিল জয় ও খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার এক সময় সারা দেশেই ছিল। এখন তা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এখন কেবল সুন্দরবনে বসবাস করে। এজন্য আমরা ভাবছি, পার্বত্য এলাকায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দ্বিতীয় হ্যাবিটেট তৈরি করতে পারি কি-না। মন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখছে। সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরবর্তী বৈঠকে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখনো আমাদের বিভিন্ন ক্যামেরাতে দেখা যাচ্ছে, মিয়ানমার ও ভারত সীমান্ত থেকে মাঝেমধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার আমাদের সীমানায় ঢুকে পড়ছে। ফলে আমরা ওই এলাকা তাদের বাস উপযোগী করতে পারলে, সেটা একটি ভালো কাজ হবে। পার্বত্য অঞ্চল, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার নিয়ে ট্রান্স বাউন্ডারি করিডোর হচ্ছে জানিয়ে সাবের হোসেন বলেন, ট্রান্স বাউন্ডারি করিডোরে পরামর্শক নিয়ে যে অনিয়ম ছিল, তার তদন্ত প্রতিবেদন এসেছে। সেখানে যে কর্মকর্তা দায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে। আগামী বছর থেকে পরিবেশ বিষয়ক ‘নারী অ্যাওয়ার্ড’ চালু হবে জানিয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, পরিবেশ খাতে নারীদের অবদানের স্বীকৃতি দিতে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটা কীভাবে হবে, সেই বিষয়ে মন্ত্রণালয় নীতিমালা তৈরি করবে। সাভার ট্যানারিতে অ্যাকশন শুরু হয়েছে উল্লেখ করে সভাপতি বলেন, পরিবেশ দূষণের দায়ে ৭টি ট্যানারির বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। কিছু বাধা এলেও আমরা এটা করতে পেরেছি। আরও ২৩টির মতো ইউনিট রয়েছে, যেগুলোর দূষণের মাত্রা খুবই বেশি। সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত খসড়া নীতিমালায় সেখানে ধূমপান ও রাত যাপন নিষিদ্ধকরণ এবং দিনে পর্যটক ৯০০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, সরকারি একটি গবেষণা বলেছে, সেন্টমার্টিনে প্রতিদিন ৯৪০ জন থেকে এক হাজার ১৫০ জন  টুরিস্ট যেতে পারে। কিন্তু সেখানে প্রতিদিন ২০ হাজারের বেশি ?টুরিস্ট যায়। কমিটির পক্ষ থেকে সেখানে রাত যাপন বন্ধ করার কথা বলেছিলাম। কিন্তু এখনো সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি। এটা কীভাবে করা যায় তা নিয়ে কাজ হচ্ছে।