দেশ বিদেশ
৪৩ ভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বলছে ঋণের বাধা দুর্নীতি: সানেম
অর্থনৈতিক রিপোর্টার
২০২২-০২-০৮
ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতি এখনো অন্যতম বড় বাধা মনে করে দেশের ৪৩ শতাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ব্যাংক কিংবা নন-ব্যাংক উভয় প্রতিষ্ঠানে এই বাস্তবতা একই রকম। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) এক জরিপ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল ‘করোনার নতুন ধাক্কা: ব্যবসার আস্থা কোন পথে?’ শীর্ষক জরিপের এই ফলাফল তুলে ধরা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জরিপের বিস্তারিত তুলে ধরেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান। অনলাইন প্ল্যাটফরমে এই আয়োজন করা হয়।
জরিপে ঋণ পেতে কী ধরনের দুর্নীতির ঘটনা জরিপে পাওয়া গেল- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে ড. সেলিম রায়হান বলেন, ঋণ পাওয়ার নিশ্চয়তার কথা বলে সুবিধা দাবি করা হয়। এ কারণে অনেকে শেষ পর্যন্ত আর ঋণ পাননি। দুর্নীতি দমনে সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে আরও তৎপর হওয়ার কথা বলেন তিনি। তবে এ বিষয়ে খুব বিস্তারিত আর জানাতে চাননি ড. সেলিম রায়হান।
কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, আগের জরিপে এ ধরনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। কোন ব্যবসায়ী এ ধরনের তথ্য দিয়েছে সে ব্যাপারে তথ্য চাওয়া হয়েছে তাদের কাছে। এ ছাড়া মহামারি শুরুর পর এ নিয়ে ৭ বার এ ধরনের জরিপ করেছে সানেম। উদ্যোক্তারা যাতে কোনো ভাবে বিব্রত না হন সে বিষয়েও সতর্ক থাকার চেষ্টা করেছি আমরা। জরিপ অনুযায়ী, ঋণ পেতে দুর্নীতি প্রসঙ্গে ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা উদ্যোক্তা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অবশ্য ২৭ শতাংশ উত্তরদাতা ভিন্নমত পোষণ করেছেন। অর্থাৎ তারা মনে করেন, ঋণ পেতে কোনো দুর্নীতি হয় না।
গত ৩রা জানুয়ারি থেকে ২৪শে জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশের ৮টি বিভাগের ৩৮টি জেলায় পরিচালিত জরিপে ৫০২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এরমধ্যে শিল্প কারখানা ২৫২টি এবং বাকি ২৫০টি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। জরিপে অংশ নেয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ৭৪ শতাংশ কোনো প্রণোদনা প্যাকেজ পায়নি এবং মাত্র ২৩ শতাংশ প্রণোদনা প্যাকেজ পেয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রণোদনা পেয়েছে, তাদের মধ্যে ৪০ শতাংশ জানিয়েছে যে, তাদের জন্য ওই প্যাকেজ যথেষ্ট নয়। ৬৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে যে, সরকারের পক্ষ থেকে আরও সাহায্য দরকার। সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ দরকার এমন সাহায্যের মধ্যে আছে- স্বল্প সুদে কার্যকরী পুঁজির ঋণ, রপ্তানিকারকদের জন্য শিপমেন্ট-পূর্ববর্তী পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা এবং অসহায় শ্রমিকদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি।
জরিপে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও ওমিক্রন সংক্রমণের ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকাণ্ডে নানা নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও, সার্বিকভাবে গত বছরের তুলনায় এবং তিন মাস অন্তর পরিক্রমাতেও ব্যবসায় উন্নতি হয়েছে। তবে, কোভিডের নতুন ধাক্কার কারণে সামনের তিন মাসের জন্য ব্যবসাগুলোর প্রত্যাশা তুলনামূলক কম। অন্যদিকে সার্বিকভাবে ব্যবসার পরিবেশে উন্নতি হয়েছে। সপ্তম পর্যায়ের জরিপে ১৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে যে, তাদের মতে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার জোরদার হয়েছে। যদিও ষষ্ঠ পর্যায়ে এমন প্রতিষ্ঠান ছিল ২১ শতাংশ। অপরদিকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার মোটামুটি বলে মনে করে ৪৪ শতাংশ, যেটি আগের পর্যায়ে ছিল ৫২ শতাংশ। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং করোনার নতুন ধাক্কা সত্ত্বেও, গড়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসার ৬০.৬ শতাংশ পুনরুদ্ধার হয়েছে, যা পূর্ববর্তী রেকর্ড ৫৭.৪ শতাংশকে (২০২১ সালের মার্চের ফলাফল) ছাড়িয়ে গেছে।
জরিপে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রভাবটিও উঠে এসেছে। ৯৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির ফলে যানবাহনের খরচ বেড়েছে এবং ৭৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে তাদের উৎপাদন শক্তির খরচ বেড়েছে। অধ্যাপক সেলিম রায়হান প্রণোদনা প্যাকেজের দ্রুত বিতরণ এবং প্রণোদনা প্যাকেজ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজীকরণের ওপর জোর দেন। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধিকে উদ্বেগজনক বলে, অধ্যাপক রায়হান এ ক্ষেত্রে জ্বালানি তেল আমদানির ওপর কর কমানোর প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্যের জন্য নীতিনির্ধারকদের একটি কৌশলগত, গতিশীল এবং ভবিষ্যৎমুখী নীতি নেয়া দরকার। রেমিট্যান্সের নিম্নমুখী ধারা লক্ষ্য করে ওয়েবিনারে বলা হয়, রেমিট্যান্সের ধারার একটি মূল্যায়ন করা দরকার এবং রেমিট্যান্সের জন্য নির্ধারিত সরকারি প্রণোদনা ২.৫ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ বাড়ানো দরকার।
জরিপে ঋণ পেতে কী ধরনের দুর্নীতির ঘটনা জরিপে পাওয়া গেল- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে ড. সেলিম রায়হান বলেন, ঋণ পাওয়ার নিশ্চয়তার কথা বলে সুবিধা দাবি করা হয়। এ কারণে অনেকে শেষ পর্যন্ত আর ঋণ পাননি। দুর্নীতি দমনে সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে আরও তৎপর হওয়ার কথা বলেন তিনি। তবে এ বিষয়ে খুব বিস্তারিত আর জানাতে চাননি ড. সেলিম রায়হান।
কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, আগের জরিপে এ ধরনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। কোন ব্যবসায়ী এ ধরনের তথ্য দিয়েছে সে ব্যাপারে তথ্য চাওয়া হয়েছে তাদের কাছে। এ ছাড়া মহামারি শুরুর পর এ নিয়ে ৭ বার এ ধরনের জরিপ করেছে সানেম। উদ্যোক্তারা যাতে কোনো ভাবে বিব্রত না হন সে বিষয়েও সতর্ক থাকার চেষ্টা করেছি আমরা। জরিপ অনুযায়ী, ঋণ পেতে দুর্নীতি প্রসঙ্গে ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা উদ্যোক্তা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অবশ্য ২৭ শতাংশ উত্তরদাতা ভিন্নমত পোষণ করেছেন। অর্থাৎ তারা মনে করেন, ঋণ পেতে কোনো দুর্নীতি হয় না।
গত ৩রা জানুয়ারি থেকে ২৪শে জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশের ৮টি বিভাগের ৩৮টি জেলায় পরিচালিত জরিপে ৫০২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এরমধ্যে শিল্প কারখানা ২৫২টি এবং বাকি ২৫০টি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। জরিপে অংশ নেয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ৭৪ শতাংশ কোনো প্রণোদনা প্যাকেজ পায়নি এবং মাত্র ২৩ শতাংশ প্রণোদনা প্যাকেজ পেয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রণোদনা পেয়েছে, তাদের মধ্যে ৪০ শতাংশ জানিয়েছে যে, তাদের জন্য ওই প্যাকেজ যথেষ্ট নয়। ৬৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে যে, সরকারের পক্ষ থেকে আরও সাহায্য দরকার। সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ দরকার এমন সাহায্যের মধ্যে আছে- স্বল্প সুদে কার্যকরী পুঁজির ঋণ, রপ্তানিকারকদের জন্য শিপমেন্ট-পূর্ববর্তী পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা এবং অসহায় শ্রমিকদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি।
জরিপে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও ওমিক্রন সংক্রমণের ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকাণ্ডে নানা নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও, সার্বিকভাবে গত বছরের তুলনায় এবং তিন মাস অন্তর পরিক্রমাতেও ব্যবসায় উন্নতি হয়েছে। তবে, কোভিডের নতুন ধাক্কার কারণে সামনের তিন মাসের জন্য ব্যবসাগুলোর প্রত্যাশা তুলনামূলক কম। অন্যদিকে সার্বিকভাবে ব্যবসার পরিবেশে উন্নতি হয়েছে। সপ্তম পর্যায়ের জরিপে ১৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে যে, তাদের মতে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার জোরদার হয়েছে। যদিও ষষ্ঠ পর্যায়ে এমন প্রতিষ্ঠান ছিল ২১ শতাংশ। অপরদিকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার মোটামুটি বলে মনে করে ৪৪ শতাংশ, যেটি আগের পর্যায়ে ছিল ৫২ শতাংশ। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং করোনার নতুন ধাক্কা সত্ত্বেও, গড়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসার ৬০.৬ শতাংশ পুনরুদ্ধার হয়েছে, যা পূর্ববর্তী রেকর্ড ৫৭.৪ শতাংশকে (২০২১ সালের মার্চের ফলাফল) ছাড়িয়ে গেছে।
জরিপে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রভাবটিও উঠে এসেছে। ৯৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির ফলে যানবাহনের খরচ বেড়েছে এবং ৭৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে তাদের উৎপাদন শক্তির খরচ বেড়েছে। অধ্যাপক সেলিম রায়হান প্রণোদনা প্যাকেজের দ্রুত বিতরণ এবং প্রণোদনা প্যাকেজ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজীকরণের ওপর জোর দেন। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধিকে উদ্বেগজনক বলে, অধ্যাপক রায়হান এ ক্ষেত্রে জ্বালানি তেল আমদানির ওপর কর কমানোর প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্যের জন্য নীতিনির্ধারকদের একটি কৌশলগত, গতিশীল এবং ভবিষ্যৎমুখী নীতি নেয়া দরকার। রেমিট্যান্সের নিম্নমুখী ধারা লক্ষ্য করে ওয়েবিনারে বলা হয়, রেমিট্যান্সের ধারার একটি মূল্যায়ন করা দরকার এবং রেমিট্যান্সের জন্য নির্ধারিত সরকারি প্রণোদনা ২.৫ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ বাড়ানো দরকার।