অনলাইন

'ঘুষের টাকা' বাটোয়ারা নিয়ে অধ্যক্ষকে পেটালেন সভাপতি

বরগুনা প্রতিনিধি

২৪ জানুয়ারি ২০২২, সোমবার, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন

সভাপতি আবদুল খালেক

বরগুনার বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি স্কুল অ্যান্ড কলেজে কর্মচারী নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ঘুষের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে শনিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে কলেজের অধ্যক্ষ ও পরিচালনা পরিষদের সভাপতির মধ্যে কয়েক দফায় বাকবিতণ্ডা এবং এর জেরে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

জানা যায়, বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি স্কুল অ্যান্ড কলেজে কর্মচারী নিয়োগে দুই মাস আগে বেসরকারি কর্মচারী নিয়োগবিধি অনুসারে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। কলেজ পরিচালনা পরিষদ নিয়োগ বোর্ড গঠন করে এবং গত বছরের ২২ ডিসেম্বর যথাবিধি নিয়মানুসারে জীববিজ্ঞান ল্যাব সহকারী পদে ১ জন, রসায়ন ল্যাব সহকারী পদে ১ জন, কম্পিউটার ল্যাব সহকারী পদে ১ জন, চতুর্থ শ্রেণির পরিচ্ছন্নতাকর্মী ১ জন এবং আয়া পদে ১ জন, মোট ৫ জন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চাকরিবিধি নিয়মানুসারে নিয়োগকৃত কর্মচারীরা যথাসময়ে যোগদানও করেন। এরপরই কলেজ পরিচালনা পরিষদের বিরুদ্ধে উন্নয়ন তহবিলের নামে ১০ লাখ টাকা এবং নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে গোপনে আরও ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মেধা ও যোগ্যতাসম্পপন্ন একাধিক নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী কলেজে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ তোলেন। ওই কলেজের একাধিক শিক্ষক নাম না প্রকাশের শর্তে অভিযোগ করে বলেন, অধ্যক্ষ ও সভাপতি কলেজের উন্নয়নের কথা বলে প্রকাশ্যে ৫ জন কর্মচারীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং তাদের কাছ থেকেই নিয়োগ দেওয়ার জন্য আরো ১০ লাখ টাকা ঘুষ নেন। এ নিয়ে নিয়োগ বঞ্চিতরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

শনিবার দুপুরে কলেজ পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা নিয়োগের টাকা ভাগ-বাটোয়ার নিয়ে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এক সভায় বসেন। সেখানে সভাপতি কলেজ অধ্যক্ষের কাছে ঘুষের টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা ধার হিসেবে নেয়ার প্রস্তাব দেন। এ নিয়ে কলেজের সভাপতি আবদুল খালেক ও অধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার বিশ্বাসের মধ্যে বাকবিত-ার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সভাপতি আবদুল খালেক ক্ষিপ্ত হয়ে অধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার বিশ্বাসকে মারধর করেন। পরে কলেজের শিক্ষকরা এসে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
এ বিষয়ে বিবিচিনি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার বিশ্বাস বলেন, মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। নিয়োগকৃতদের কাছ থেকে কলেজের উন্নয়ন খাতের জন্য বরাদ্দ হিসেবে মোট ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এ টাকা ব্যয়ের বিষয়ে সভাপতির সঙ্গে তর্কবিতর্ক হয়েছে। ঘুষ বাণিজ্যের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বিবিচিনি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি আবদুল খালেক বলেন, নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের কাছ থেকে উন্নয়ন খাতের জন্য যে টাকা নেওয়া হয়েছে। সেই টাকা থেকে আমি ৫ লাখ টাকা ধার নিতে চেয়েছি। এ নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে। তবে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আর কর্মচারী নিয়োগে কোনো ঘুষ নেয়া হয়নি। এ অভিযোগ মিথ্যা।

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুহৃদ সালেহীন বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম গোলাম কবির বলেন, দলের কোনো নেতাকর্মী দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কোনো কাজ করলে এর দায়ভার দল নেবে না।
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com