বাংলারজমিন

খুলনা বিভাগে করোনা শনাক্ত ৪৮৭, একজনের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে

২৪ জানুয়ারি ২০২২, সোমবার, ৯:০২ অপরাহ্ন

খুলনা বিভাগে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। একদিনের ব্যবধানে ফের বেড়েছে শনাক্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের ১০ জেলায় ৪৮৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে, শনিবার ১৬৩ জনের করোনা শনাক্ত এবং দু’জনের মৃত্যু হয়েছিল।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. মনজুরুল মুরশিদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়ায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে খুলনা বিভাগে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৪৮৭ জন। এর মধ্যে যশোর জেলায় সর্বোচ্চ ১৯৪ জনের শনাক্ত হয়েছে। আর খুলনায় ১৫৩ জন, ঝিনাইদহে ৪৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এছাড়া কুষ্টিয়ায় ২৭ জন, বাগেরহাটে ২০ জন, চুয়াডাঙ্গায় ১৩ জন, সাতক্ষীরা ১১ জন, মাগুরায় ১০ জন, মেহেরপুরে ৮ জন ও নড়াইলে ৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের ওই প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, খুলনা বিভাগে করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৪৩৯ জন। আর মোট মারা গেছেন ৩ হাজার ২০১ জন। শনাক্ত সংখ্যা বিবেচনায় জেলাগুলোর মধ্যে শীর্ষে আছে খুলনা। এখানে ২৮ হাজার ৭৩৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের সংখ্যায় সবচেয়ে কম মাগুরায় ৪ হাজার ২২৬ জন। এ ছাড়া করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে খুলনায়। এই জেলায় মারা গেছে ৮১০ জন। আর মৃতের সংখ্যায় সবচেয়ে কম সাতক্ষীরায় ৮৮ জন।
খুলনা ২০০ শয্যা ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালের ফোকাল পারসন ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ২১ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এরমধ্যে আইসিইউতে ৪ জন, রেডজোনে ৮ জন এবং ইয়েলো জোনে ৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে ঘরে ঘরে মানুষের জ্বর, সর্দি কাশি, গলাব্যথা। তবে নমুনা দিতে অনীহা প্রকাশ করছে সকলেই। তবে মারাত্মক কোনো অসুস্থ না হলে কেউ করোনা পরীক্ষা করছে না। পাশাপাশি অনেকের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না সচেতনতা। যে কারণে আবারো বেড়েছে করোনা রোগীর সংখ্যা। দেখা যাচ্ছে বাইরে অনেকে চুপিসারে খুক, খুক করে কাশি দিচ্ছেন। কেউ আবার নাক টানছেন। তবে এদের কেউ করছেন না নমুনা পরীক্ষা। নমুনা না দিয়ে অনেকে বলছেন করোনা পরীক্ষা করলে আরও বেশি ভয়। যদি করোনা আক্রান্ত হয়ে যাই। তবে এসব অসচেতনতার কারণে আরও বেশি সংক্রমণ ছড়াচ্ছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।
তীব্র গলাব্যথা ও সর্দি কাশি নিয়ে ইজিবাইক চালিয়ে বেড়াচ্ছেন চালক গাউসুল আলী। তিনি বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরে এমন সমস্যা হচ্ছে। তবে তিনি করোনা পরীক্ষা করাননি এমনকি তার করোনা পরীক্ষা করার কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি। তিনি বলছেন, গরিবের আবার কিসের করোনা। করোনা হলে আশেপাশের কেউ কথা বলবে না। মনের ভেতর ভয় বাড়বে, জনবিচ্ছিন্ন হতে হবে। তা ছাড়া ঘর থেকে বের না হলে খাবার দেয়ার এমন কেউ নেই। তার থেকে ভালো আছি- করোনা হলো মনের ভয়। তবে তার থেকে অন্য কেউ আক্রান্ত হচ্ছে বা হতে পারে- এর জবাবে বলেন, করোনা হলে আমি বুঝতাম বলে মুখে মাস্ক দিয়ে নাক ঢেকে চুপিসারে ছুটছেন তার গন্তব্যস্থলে। বর্তমানে প্রায় সব ঘরে এমন জ্বর, সর্দি কাশি, গলা ব্যথায় ভুগছেন মানুষ।
এদিকে নগরীতে বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। খুলনা জেলায় গেল চব্বিশ ঘণ্টায় মোট ৪৪৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১২৬ জন। শনাক্ত হার বিবেচনায় ২৮.১৩%। তবে কোনো মৃত্যু নেই। পাশাপাশি অনেকের করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ভয় থাকলেও নমুনা দিতে ঝামেলা ও বিড়ম্বনার ভয়ে করোনা পরীক্ষায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না তারা। প্রাথমিক জ্বর, সর্দি কাশি থেকে মুক্তি পেতে ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়ে বেশিরভাগ রোগী ফার্মেসিতে গিয়ে সমস্যার কথা বলে ওষুধ কিনে নিচ্ছে। ফলে সর্দি, কাশি ও জ্বর সংশ্লিষ্ট ওষুধের চাহিদা বেড়েছে। এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে নগরীর বিভিন্ন ফার্মেসিতে। পাশাপাশি ফার্মেসিগুলোতেও কদর বেড়েছে বিভিন্ন কোম্পানির প্যারাসিটামল জাতীয় এইচ পাওয়ার, নাপা, নাপা-এক্সটা, হিস্টামিন ও দামি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের। ফলে তাদের ব্যবসাও বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে।
খুলনা মেডিকেলের চিকিৎসক সাবরিনা রহমান (স্নিগ্ধা) বলেন, করেনা সংক্রমণ আগের তুলনায় অনেক মাত্রায় বেড়েছে। তারপর ও নেই সাধারণ মানুষদের মধ্যে সচেতনতা যে যেমন পারছে জনসমাগমে ঘোরাফেরা করছে। তাছাড়া এখন প্রায় মানুষের সর্দি, কাশি, গলাব্যথা জ্বর, হয়েছে এমন কথা শোনা গেলেও তারা করোনা নমুনা পরীক্ষা করছে না। তবে আমার ধারণা- এ সব মানুষরা করোনা পরীক্ষা করলে অধিকাংশ পজেটিভ আসবে।
খুলনা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মাদ কামাল হোসেন বলেন, করোনা সংক্রমণ রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও জনগণের একটি বড় অংশের মধ্যে নেই কোনো সচেতনতা। যে কারণে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে সর্দি কাশি জ্বর হলে সকলে নমুনা পরীক্ষা করা উচিত। কারণ আমার দ্বারা অন্য কেউ আক্রান্ত হতে পারে অন্য কোনো মায়ের বুক খালী হতে পারে। তাই এই নমুনা পরীক্ষা করা উচিত। পাশাপাশি একে অপরকে উৎসাহিত করা উচিত।
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com