বাংলারজমিন

পোরশায় খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

ডিএম রাশেদ পোরশা (নওগাঁ)

২৪ জানুয়ারি ২০২২, সোমবার, ৮:৫৬ অপরাহ্ন

নওগাঁর পোরশায় পুরোদমে চলছে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের কার্যক্রম। গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতীক মধুবৃক্ষ খেজুর গাছ। গ্রামীণ জীবনের প্রাত্যহিক উৎসব শুরু হচ্ছে খেজুর গাছকে ঘিরে। শীত চলছে। অযত্ন ও অবহেলায় বেড়ে ওঠা খেজুর গাছের কদরও বাড়ে শীতে। খেজুর গাছ সুমিষ্ট রস দেয়। যার স্বাদ ও ঘ্রান যেন একেবারেই আলাদা। পুরো শীত মৌসুমে চলে এর পিঠা-পুলি আর পায়েস খাওয়ার পালা। এখন এ এলাকার বাড়ি বাড়ি খেজুর রস দিয়ে তৈরির ধুম পড়েছে গুড়, লালি, রস আগুনে জ্বাল দিয়ে পিঠা, পায়েস, মুড়ি, মোয়াসহ নানান ধরনের মজার মজার খাবার। খেজুরের রসে মুড়ি ও বিভিন্ন পিঠা ভিজিয়ে খাবার মজাই আলাদা। খেজুরের রস থেকে তৈরি করা হয় গুড়, পাটালি, লালি, চিনিসহ অনেক কিছু। এছাড়াও খেজুর গাছের পাতা দিয়ে পাটি তৈরি ও জ্বালানি হিসেবে এ গাছের পাতা ব্যবহার হয়ে থাকে। তাছাড়া স্বুসাদু ফল খেজুরতো আছেই। খেজুর গাছ ফসলের কোনো ক্ষতি করে না। এ গাছের জন্য বাড়তি কোনো খরচ করতে হয় না। ঝোঁপ-জঙ্গলে কোনো যত্ন ছাড়াই বেড়ে ওঠে। শুধুমাত্র মৌসুম এলেই নিয়মিত গাছ পরিষ্কার করে রস সংগ্রহ করতে হয়।
জানা যায়, নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চল পোরশা উপজেলায় কয়েক হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। গাছগুলি বিশেষ কোনোভাবে রোপণ করা হয়নি। গাছগুলি প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে থাকে। বর্তমান সময়েও এ উপজেলায় খেজুর গাছ প্রাকৃতিকভাবে জন্মাতে দেখা যাচ্ছে। এ গাছ পতিত জমিতেই বেশি দেখা যায়।
উপজেলার সহড়ন্দ গ্রামের খেজুর গাছের রস সংগ্রহকারী শরীফউদ্দিন ও জাইদুর রহমান জানান, একজন চাষি প্রতিদিন ২০-৩০টি খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করতে পারে। আর পরিকল্পিতভাবে খেজুর গাছ বৃদ্ধি করা হলে দেশের গুড় লালীসহ বিভিন্ন ধরনের চাহিদা মেটানোর পর বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সঞ্জয় কুমার সরকার জানান, খেজুর গাছের রস অনেক সুস্বাদু। তালগাছ থেকেও রস সংগ্রহ করা হয়। তবে তালগাছের রসের থেকেও অনেক বেশি সুস্বাদু খেজুরের রস। বাজারে অনান্য গুড় বা লালীর দাম কম হলেও খেজুরের গুড় ও লালীর দাম অনেক বেশি। তাই এ এলাকার চাষিরা লাভবান হবেন বলেও তিনি মনে করেন।
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com