অনলাইন

বৃটেনে নাগরিকত্ব হারিয়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তির 'ই থ্রি' হয়ে ওঠার গল্প

মানবজমিন ডিজিটাল

২২ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার, ১:৪৮ অপরাহ্ন

শামীমা বেগম

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, গত ১৫ বছরে শত শত মানুষের বৃটিশ নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন যিনি প্রায় পাঁচ বছর ধরে রাষ্ট্রহীন ছিলেন।

অভিবাসনে কড়াকড়ি আরোপের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তথ্য প্রদানের জন্য আইনজীবীদের দ্বারা পরিচালিত 'ফ্রি মুভমেন্ট' ওয়েবসাইট ওই গবেষণা চালায়। তাতে দেখা গেছে, ১৫ বছর আগে এমনটি করার জন্য অনুমতি দানের আইন শিথিল হওয়ার পর থেকে কমপক্ষে ৪৬৪ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে৷

এ খবর দিয়ে প্রভাবশালী বৃটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়- বৃটিশ সরকার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া ব্যক্তিদের মোট সংখ্যা নিয়মিতভাবে প্রকাশ করে না।

এ প্রসঙ্গে নিজের হতাশা ব্যক্ত করে ফ্রি মুভমেন্টের সিজে ম্যাককিনি বলেন, হোম অফিস থেকে পরিসংখ্যান না পাওয়াটা হতাশাজনক। নূন্যতম স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা কতবার ব্যবহার করা হয়েছে তা প্রকাশ করা উচিত। সংসদ এবং জনগণ সেটাই আশা করে।

নাগরিকত্ব হারানোর যেসব ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হল শামীমা বেগমের ঘটনা। শামীমা যখন ইসলামিক স্টেটে যোগ দেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্য ত্যাগ করেন তখন তার বয়স ছিল ১৫ বছর। তিনি ছিলেন স্কুল ছাত্রী। এরপর তিনি নাগরিকত্ব বঞ্চিত হন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুনরায় নাগরিকত্ব লাভের যুদ্ধেও তিনি হেরে যান।

কাজ করতে গিয়ে ম্যাককিনি দেখতে পান, ২০০৬ সাল থেকে ১৭৫ জন জাতীয় নিরাপত্তার কারণে এবং ২৮৯ জন প্রতারণার কারণে নিজেদের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ১৯৭৩ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই ক্ষমতা ব্যবহার করা হয়নি।

১৯১৪ সালে কাউকে বৃটিশ নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কখন এটার ব্যবহার করা যেতে পারে তা নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানোটা দুর্বল হয়ে গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০০৬ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ৯ জনের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০১৭ সালে সংখ্যাটি ১৪৮ এ গিয়ে ঠেকে। ২০১৮ সালে ৭৩ টি, ২০১৯ সালে ৮২ টি এবং ২০২০ সালে ৪২ টি এমন ঘটনার খবর পাওয়া যায়।

এই সপ্তাহে অবজারভার এ এমন একটি ঘটনা প্রকাশিত হয়। ৪০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে কেবল 'ই থ্রি' নামে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৭ সালে তার বৃটিশ নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তিনি লন্ডনে বাংলাদেশি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশে গেলে তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়।

ই থ্রি কে বলা হয়, তুমি একজন "ইসলামপন্থী চরমপন্থী যে কিনা আগে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে যোগ দিতে বিদেশ যেতে চেয়েছিল"। এই দাবিগুলোর বিষয়ে তাকে অবশ্য কখনো গ্রেপ্তার বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি অথবা এই দাবিগুলোর স্বপক্ষে কোন প্রমাণও তাকে দেখানো হয় নি।

ওই ব্যক্তি তার নাগরিকত্ব পুনরায় ফিরে পান যখন হোম অফিস স্বীকার করে যে তার বৃটিশ নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার ফলে তিনি রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়েছেন।

তার ঘটনাটি এই বিষয়টিই ফুটিয়ে তুলে যে হোম অফিস বিতর্কিত জাতীয়তা এবং সীমানা আইনকে আরও শক্তিশালী করছে, যার ফলে কারো বৃটিশ নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার আগে তাকে আর নোটিশ দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

ই থ্রি এর আইনজীবী ফাহাদ আনসারি বলেন: “মানুষকে তাদের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করার অর্থ তাদের পরিচয়, তাদের স্বাতন্ত্র্যবোধ এবং তাদের নিরাপত্তা চাওয়ার ক্ষমতাকে কেড়ে নেওয়া। এটা নীতিগতভাবে ভুল। অন্যায় কাজ তখনই বৃদ্ধি পায় যখন পূর্ববর্তী কোনো বিচারিক তদারকি ছাড়া এবং গোপন প্রমাণের ভিত্তিতে এসব করা হয়, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং তার আইনজীবীরা কখনোই দেখতে পাবেন না। নোটিশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা অপসারণ করে স্বরাষ্ট্র সচিবের ক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিবর্তে, সরকারের উচিত নাগরিকত্ব থেকে কাউকে বঞ্চিত করার ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা।"

এ বিষয়ে হোম অফিসের জনৈক মুখপাত্র বলেন: “হোম অফিস তার ক্ষমতা ব্যবহারে স্বচ্ছতা প্রতিবেদন প্রকাশ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নিয়ম মেনেই তা করা হবে। বৃটিশ নাগরিকত্ব অপসারণ করা এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে হয়ে আসছে। যারা প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেছে তাদের বিরুদ্ধে এটা করা হয়। এছাড়া সন্ত্রাসবাদী, চরমপন্থী এবং গুরুতর অপরাধীদের মতো সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও তা ব্যবহৃত হয়।"
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com