বাংলারজমিন

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার গরু-ছাগলের খোঁয়াড়

মো. রেজাউল প্রধান, ঠাকুরগাঁও থেকে

২২ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার, ৭:৪৭ অপরাহ্ন

ওরা গরু-ছাগল ছেড়ে দিয়েছে। গরু-ছাগলগুলো ফসল খেয়েছে। এগুলোকে খোঁয়াড়ে দিতে হবে। ওদেরকে শিক্ষা দিতে হবে। এমন কথায় প্রাচীন কাল থেকেই গ্রাম-বাংলায় গরু-ছাগল খোঁয়াড় দেয়ার কারণে ঝগড়া-ঝাটি লেগেই থাকতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে গরু-ছাগলের খোঁয়াড় আজ হারিয়ে যেতে  বসেছে।
এর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ৩নং আকচা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রিজওয়ানা মুস্তারিন জানান, বর্তমানে কেউ আর খোয়ার ইজারা নিতে আগ্রহী না। ফলে ইতিপূর্বে যারা খোঁয়াড় ইজারা নিয়েছেন তাদের কাছেই খোঁয়াড়গুলো থেকে গেছে। এমনই একজন পূর্বে ইজারা নেয়া রাউতনগর গ্রামের মসলিম উদ্দীন। তিনি জানান, খোঁয়াড় ইজারা নিতে হবে এ কথাটি আমার ছেলে-মেয়েরা মেনে নিতে পারে না। ফলে আর খোঁয়াড় ইজারা নেই না। তাছাড়া কৃষকরা আগের মতো আর গরু-ছাগল খোঁয়াড়ে দেয় না। যে টাকা দিয়ে ইজারা নেয়া হয়, সে টাকা আর ওঠে না বরং লোকসান হয়। দক্ষিণ ঠাকুরগাঁয়ের খোঁয়াড় ইজারা নেয়া আছির উদ্দীন জানান, খোয়ারের প্রতি মানুষের আর আগের মতো আগ্রহ নেই। খোয়ারে দিলে গরু প্রতি ১শ’ টাকা, আর ছাগল প্রতি ৫০ টাকা নেয়া হয়। রাতে থাকলে এর ফি দ্বিগুণ হয়। সারা বছরে যে পরিমাণ গরু-ছাগল খোঁয়াড়ে আসে তাতে পোষায় না, এমনকি ইজারা নেয়ার টাকাও ওঠে না। ৩নং আকচা ইউনিয়ন থেকে আমাকে প্রায় ২০ বছর আগে ৫ হাজার টাকায় এক বছরের জন্য খোয়ার ইজারা দিয়েছিল। এর পরে আর কোনো চেয়ারম্যান খোঁজ নেয় না। তিন বছর আগে বর্তমান চেয়ারম্যান আমার কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়ে সরকারকে জমা দিয়েছে। এখন আর কেউ আসে না। অভিজ্ঞ মহলের মতে একটা সময় ফাঁকা মাঠ জুড়ে গোচারণ ভূমি ছিল। গ্রামের সকলে মাঠ জুড়ে গরু-ছাগল পালতো। এখন আর সেই মাঠ নেই। কেউ আর আগের মতো গরু-ছাগল পালে না। এখন তো গ্রামের কিছু জমিতে বছরে দু’টি ফসল আর কিছু জমিতে চার ফসল পর্যন্ত ফলায় কৃষকরা। ফলে গোচারণ ভূমি না থাকায় গরু-ছাগল খোঁয়াড়ে দেয় না। তাদের মতে যারা বর্তমানে গরু-ছাগল পালে তারা অনেকেই কাঁচা ঘাস ও ফিড খাওয়ায় বাড়িতে বেঁধে পালে। খোঁয়াড় সম্বন্ধে জানতে  চাইলে ৩নং আকচা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুব্রত কুমার বর্মণ বলেন, খোঁয়াড় ইজারা নিতে এখন আর মানুষের আগ্রহ নেই। ইজারা দিতে চাইলেও কেই আর ইজারা নিতে চায় না। ফলে পূর্বে যারা ইজারা নিয়েছে তাদের কাছেই খোঁয়াড়গুলো থেকে গেছে। কোনো খোয়ার থেকে ইজারা আদায় করা হলে সেই টাকা সরকারের ঘরে জমা দেয়া হয়।
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com