বাংলারজমিন

আমতলীতে সরকারি খালে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

১৮ জানুয়ারি ২০২২, মঙ্গলবার, ৮:১১ অপরাহ্ন

আমতলী উপজেলার আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামের সরকারি গামরবুনিয়া খালে ৭টি স্থানে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এতে গ্রামবাসীদের গোসল, গরু মহিষ চড়ানো, সেচ ও গৃহস্থালি কাজে পানি ব্যবহার বন্ধ রয়েছে।
জানা গেছে, আমতলী উপজেলা আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের তারিকাটা মৌজার চাকামইয়ার গামরবুনিয়া দোন খালটি তারিকাটা খাল নামে পরিচিত। ২৮ একরের খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় আড়াই কিলোমিটার। খালটি তারিকাটা গ্রামের শহীদুল ইসলাম ৩ বছরের জন্য ৭ একর ইজারা নিয়ে কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া গ্রামের এডভোকেট মো. হাফিজুর রহমান চুন্নু তালুকদার এবং মো. হাই তালুকদার মিলে মাছ চাষ করছেন। খালের ওই অংশ বাদে তারিকাটা গ্রামের মফিজ উদ্দিন তালুকদারের ছেলে মেজবাহ উদ্দিন ফয়সাল তালুকদার এবং মো. মতিয়ার রহমান তালুকদারের ছেলে মো. আরিফুর রহমান তালুকদার ইজারা ছাড়াই ২১ একর এফসিডিআই (ফ্লাড কন্টোল ড্রেনেজ অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড)  প্রকল্পের আওতায় খনন করা খাল দখল করে মাছ চাষ করছেন। মাছ চাষের জন্য তারা প্রবাহমান খালের ৭টি স্থানে বাঁধ নির্মাণ করেন। খালটির পশ্চিম অংশে আমতলী-তালতলী সড়কের তারিকাটা বাজার নামক স্থানে পানি প্রবাহের জন্য বহু পূর্বে নির্মিত কালভার্টের মুখে বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। খালটিতে পানি আটকিয়ে মাছ চাষ করায় আমতলী উপজেলার তারিকাটা, কলাপাড়া উপজেলার ইসলামপুর ও গামরবুনিয়া গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষ খালটির পানিতে গোসল ও গৃহস্থালি কাজ করতে দিচ্ছে না। এমনকি খালে গবাদিপশুকে পানি পানের জন্যও নামতে দিচ্ছে না। খালের পানির উপর নির্ভর করে এই গ্রামের কয়েক হাজার কৃষক বোরোধানসহ বিভিন্ন ফসল ফলায়। কিন্তু কৃষকের ইরি-বোরো এবং রবি মৌসুমে সেচ কাজের জন্য এই খালের পানি ব্যবহার করতে দিচ্ছে না মাছ চাষিরা। ফলে গামরবুনিয়া খালের পাড়ে বসবাসরত তারিকাটা এবং ইসলামপুর ও গামরবুনিয়া গ্রামের কয়েক হাজার কৃষক বোরোধানসহ রবি ফসল চাষ করতে পারছে না।
তারিকাটা গ্রামের কৃষক মো. সুলতান গাজী জানান, শহীদুল ইসলাম গাজী, এডভোকেট মো. হাফিজুর রহমান চুন্নু তালুকদার, মো. হাই তালুকদার, মেজবাহ উদ্দিন ফয়সাল তালুকদার, মো. আরিফ তালুকদারসহ স্থানীয় প্রভাব শালীরা গামরবুনিয়া খালে বাধ দিয়া মাছ চাষ করছে। তাদের ভয়ে খালে কেউ নামতে পারে না। আরেক নারী নাজমা বেগম বলেন, এই খালের পানির বদলে মোরা ডোবা নালায় গোসল করি। আবার রান্দার জন্যও এই ডোবার পানি ভাতে ও তরকারিতে দেই।
মাছ চাষি শহীদুল ইসলাম গাজী বলেন, মোরা ২০১৯ সাল থেকে ৩ বছরের জন্য ৭ একর খাল ইজারা নিয়া মাছ চাষ করছি। এ বছর আমাদের ইজারার মেয়াদ শেষ হবে। তিনি গ্রামবাসীদের পানি ব্যবহারে বাধা দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। আরেক মাছ চাষি মেজবাহ উদ্দিন ফয়সাল তালুকদার বলেন, খালের পানি ব্যবহারে কাউকে বাধা দেয়া হয় না। ইজারা না নিয়ে কীভাবে মাছ চাষ করেছেন এ প্রশ্নে উত্তরে তিনি বলেন, ইজারা পাওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। আমতলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হালিমা সর্দার বলেন, এই খালের ৭ একর ৩ বছরের জন্য ইজারা দেয়া হয়েছে। আর বাকি ২১ একর এখনো কোনো ইজারা দেয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন সেচ কাজে পানি নিতে কোনো কৃষককে বাধা দেয়া যাবে না।
আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, গামরবুনিয়া খালের বিষয়টি সরজমিন দেখে অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com