দেশ বিদেশ

কাভার্ড ভ্যান নয় যেন ভ্রাম্যমাণ ফিলিং স্টেশন

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে

১৬ জানুয়ারি ২০২২, রবিবার, ৯:০৯ অপরাহ্ন

দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে সিলিন্ডারে গ্যাস ভরে কাভার্ড ভ্যানে করে বিভিন্ন স্থানে অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসে জ্বালানি সরবরাহ করছিল। সিএনজি স্টেশন না থাকা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অবহেলার সুযোগে চক্রটি বিপদজনক এই ব্যবসার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছিল বিপুল পরিমাণ অর্থ। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরায় এক বিশেষ অভিযানে চক্রটির দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ সময় মেয়াদোত্তীর্ণ ও নন স্ট্যান্ডার্ড ১২০টি সিএনজি সিলিন্ডারসহ একটি কাভার্ড ভ্যান আটক করা হয়। গত শুক্রবার রাতে সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরার মসজিদ্দা এলাকার ইলিয়াস ফিলিং স্টেশন থেকে র‌্যাব-৭ এবং বিস্ফোরক পরিদপ্তর চট্টগ্রামের একটি টিমের যৌথ অভিযানে অনুমোদনহীন এই ১২০টি সিএনজি সিলিন্ডার ও কাভার্ড ভ্যানসহ ২ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলো, সিএনজি ফিলিং স্টেশনটির সহকারী ম্যানেজার আব্দুল্লাহ হোসাইন জাহিদ (২২) ও কাভার্ড ভ্যানের ড্রাইভার মানিক (৪৫)। এদের মধ্যে আব্দুল্লাহ হোসাইন জাহিদ স্থানীয় দেলোয়ার হোসেনের পুত্র। আর ড্রাইভার মানিক নোয়াখালীর সেনবাগের মৃত তনু মিয়ার পুত্র। তবে ফিলিং স্টেশনের মালিক আনোয়ার আফরোজ ও বিশেষভাবে নির্মিত এই কাভার্ড ভ্যানের মালিকরা পলাতক আছে। বিস্ফোরক পরিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ডের কুমিরার ইলিয়াস ফিলিং স্টেশনের সিএনজি স্টেশন থেকে কাভার্ড ভ্যানে থাকা অরক্ষিত সিলিন্ডারে গ্যাস ভর্তি করা হচ্ছিল, এমন একটি সংবাদে র‌্যাব-৭ ও চট্টগ্রাম বিস্ফোরক পরিদপ্তরের একটি টিম সেখানে অভিযান চালায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায় মেয়াদোত্তীর্ণ, নন স্ট্যান্ডার্ড ১২০টি সিএনজি সিলিন্ডারসহ অবৈধ ও বিপদজনকভাবে ভ্যানে রক্ষিত অবস্থায় গ্যাস ভর্তি করা হচ্ছিল। পরে সেখান থেকে সিএনজি স্টেশনের ম্যানেজার ও কাভার্ড ভ্যান চালককে আটক করা হয়। আর কাভার্ড ভ্যানটিসহ সেখানে থাকা ১২০টি সিলিন্ডার জব্দ করা হয়। জানা যায়, এই কাভার্ড ভ্যান চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার দুলাল মিয়ার পুত্র এমদাদুল হকসহ ৩ জনের মালিকানায় পরিচালিত হয়। মাতৃভূমি সংস্থা গ্লোরি এগ্রো প্রোডাক্টস লাগানো এই কাভার্ডভ্যানে বিশেষ কায়দায় ১২৭টি সিলিন্ডার লাগানো থাকে। প্রতি সিলিন্ডারে ৮০ লিটার করে হলে এই ভ্যানে সর্বমোট ৯ হাজার ৬৩০ লিটার গ্যাস ভরা হয়। প্রতি লিটার ৪৫ টাকা টাকা করে নিয়ে তারা এসব গ্যাস চট্টগ্রামের যেসব এলাকার আশপাশে সিএনজি ফিলিং স্টেশন নেই সেখানে মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের কাছে কয়েকগুণ দামে বিক্রি করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া বিস্ফোরক পরিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মেহেদী ইসলাম  খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি এই বিপদজনক কাজ করে করে আসছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা র‌্যাব-৭ এর সহযোগিতায় সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরা এলাকার ইলিয়াস ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে ২ জনকে আটক করেছি। তবে চক্রের মূলহোতা কাভার্ড ভ্যানের ৩ মালিক ও ফিলিং স্টেশনের মালিককে আটক করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে গ্যাস আইন ও বিস্ফোরক আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর ওই ফিলিং স্টেশনের লাইসেন্স বাতিল হবে। এই বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ বলেন, এভাবে সিলিন্ডারে করে গ্যাস বিক্রির কোনো ধরনের অনুমোদন নেই।
 বিষয়টি জেনেবুঝেও চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে কাজটি করে আসছে। এর আগেও আমরা এ রকম কিছু সিলিন্ডার আটক করেছি। আর বিষয়টি আসলে খুবই বিপদজনক। এই ধরেন, যদি কোনো কারণে সিলিন্ডার বোঝাই এই কাভার্ড ভ্যানে এক্সিডেন্ট হয়, তাহলে গ্যাসের বিস্ফোরণে পুরো এলাকা ধ্বংস্তূপে পরিণত হবে।
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com